ড.মইনুল ইসলামের কলাম

সমুদ্র জয়ের পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলেও ‘ব্লু ইকনমি’র কর্মযজ্ঞ শুরু করায় অক্ষম্য ব্যর্থতার দায় কার?

রবিবার , ২৯ জুলাই, ২০১৮ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
98

প্রতিবেশী মিয়ানমার এবং ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা নিয়ে কয়েক দশকের বিরোধ অত্যন্ত সফলভাবে মোকাবেলা করে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল অন ল’স অব দি সি’স (ইটলস) এবং দি হ্যাগের আন্তর্জাতিক আদালত থেকে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ, যার পুরো কৃতিত্ব শেখ হাসিনার সরকারের। আমরা অনেকেই জানি না যে এই বিরোধে বাংলাদেশকে আইনী লড়াইয়ে হারানোর জন্যে ভারত মিয়ানমারের সাথে প্রত্যক্ষ যোগসাজশে লিপ্ত হয়েছিল। ইটলসে মিয়ানমারের পক্ষে আইনী লড়াই চালানোর দায়িত্ব নিয়েছিল ভারত, বাঘা বাঘা সব ভারতীয় আইনবিদ মিয়ানমারের পুরো মামলা পরিচালনা করেছে। এতদ্‌সত্ত্বেও মিয়ানমার ইটলসের ঐতিহাসিক রায় তাদের পক্ষে নিতে পারেনি। এই পরাজয়ের পর ভারত চাণক্যচাল চেলেছিল বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে সমুদ্রসীমার ভাগবাঁটোয়ারা নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিয়ে। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের এতদ্‌সংক্রান্ত নীতিনির্ধারকরা ভারতের এই কূটচালের ফাঁদে ধরা না দিয়ে (ভারতের বিরাগভাজন হয়েও) বিষয়টার সমাধানের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক আদালতে রেখে দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যেখানে ভারতের বাঘা বাঘা আইনবিদদের যুক্তিকে অগ্রাহ্য করে আদালত বাংলাদেশকে কোনঠাসা করার ভারতীয় অপপ্রয়াসকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। (ভারতীয় যুক্তি মানলে বাংলাদেশ ‘সিলকড্‌’ হয়ে যেতো, যার মানে কন্টিনেন্টাল শেলফ অতিক্রম করে ভারত মহাসাগরের সীমানায় প্রবেশের জন্যে বাংলাদেশকে ভারত ও মিয়ানমারের করুণার ওপর নির্ভরশীল হতে হতো।) আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশ এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় এক লাখ আঠার হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমার ওপর নিরংকুশ অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ (বীপষঁংরাব বপড়হড়সরপ ুড়হব) প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছে। এই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের জন্যে ইতিহাস চিরদিন শেখ হাসিনার সরকারকে কৃতিত্ব দিয়ে যাবে। এটা শুধু এই বিশাল সমুদ্রসীমার ওপর ‘অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব’ স্থাপনের কৃতিত্ব নয়, বাংলাদেশকে বঙ্গোপসাগরের একটি বিশাল এলাকার সমুদ্রসম্পদ আহরণের স্বর্ণসুযোগ উপহার দিয়েছে এই সমুদ্রবিজয়। বাংলাদেশের স্থলভাগের আয়তন যেখানে মাত্র এক লাখ চুয়াল্লিশ হাজার বর্গকিলোমিটারের সামান্য বেশি, সেখানে এক লাখ আঠার হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমার ওপর অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ অর্জন যে বাংলাদেশের জন্যে কতবড় সৌভাগ্য্তসেটা দেশবাসী সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন কিনা জানি না! আরো দুঃখজনক হলো, এই বিজয় অর্জনের পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলেও খোদ শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের কর্তাব্যক্তিরাই এই মহাসুযোগের সত্যিকার তাৎপর্য উপলব্ধি করে অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে এই বিশাল সমুদ্রসীমা থেকে সম্পদ আহরণকে জোরদার করাকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছেন কিনা তা নিয়েই আমি সন্দিগ্ধ।

এটা স্বীকার করতে হবে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাঝে মাঝে ‘ব্লু ইকনমি’ সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। কয়েকটি সভাসেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই বিষয়ে। কিন্তু, পাঁচ বছর সময় অতিক্রান্ত হলেও আমাদের প্রস্তুতি এখনো শেষ হলো না কেন সেটা বোধগম্য নয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে ‘ব্লু ইকনমি’ পরিচালনার ও নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টানাপড়েন ও রশি টানাটানি এই বিলম্বের প্রধান কারণ। সমুদ্র ব্লকগুলোতে তেলগ্যাস আহরণের জন্যে বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানীকে ‘প্রোডাকশান শেয়ারিং কনট্রাক্ট’ এর ভিত্তিতে ব্লকের ইজারা প্রদানের ব্যাপারে জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও নাকি থমকে আছে বিভিন্ন শক্তিধর দেশের লবিয়িং থেকে উদ্ভূত টানাপড়েনের কারণে। কিন্তু, এহেন বিলম্ব যে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি ঘটিয়ে চলেছে তার দায় কে নেবে? নিচের বিষয়গুলো একটু গভীরভাবে বিবেচনা করা যাক্‌:

) বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমার অদূরে মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণাধীন সমুদ্রে বেশ কয়েক বছর পূর্বে প্রায় চার ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে। ঐ গ্যাস এখন পুরোটাই চীনে রফতানি করছে মিয়ানমার। ভারত এই গ্যাসের একটা অংশ পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূখন্ডের ওপর দিয়ে নিজেদের দেশে আমদানি করার জন্যে প্রকল্প প্রণয়ন করে বাংলাদেশকে রাজি করানোর জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল ২০০১২০০৬ মেয়াদের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়। প্রস্তাবিত ঐ চুক্তিতে এমন শর্তও রাখা হয়েছিল যে বাংলাদেশের ভূখন্ডের ওপর দিয়ে যাওয়া পাইপলাইনের হুইলিং চার্জ তো বাংলাদেশ পাবেই, তদোপরি বাংলাদেশের প্রয়োজন হলে ঐ গ্যাসের একটা অংশ বাংলাদেশ কিনে নিতে পারবে। জোট সরকারের অন্ধ ভারতবিরোধিতার কারণে বাংলাদেশ ঐরকম একটা লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল, যেটাকে অক্ষম্য দেশদ্রোহিতা আখ্যা দেওয়াই সমীচীন। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ যে ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকটে জর্জরিত হচ্ছে সেটা একেবারেই হতো না ঐ প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে! কিন্তু, বিএনপিজামায়াতের অন্ধ ভারতবিদ্বেষ বাংলাদেশের জনগণকে কিভাবে এই প্রয়োজনীয় গ্যাস পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে তার একটা জ্বলজ্বলে নজির হয়েই থাকল ব্যাপারটা। এখন চারপাঁচ গুণ দাম দিয়ে এলএনজি আমদানি করে আমরা ঐ ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে চলেছি! এরপর, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ঐ অঞ্চলের নিকটবর্তী বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় একটি ব্লক দক্ষিণ কোরিয়ার দাইউ কোম্পানিকে তেলগ্যাস আহরণের জন্যে ইজারা দিয়েছিল। দাইউ যথাযথ প্রস্তুতি এবং সরঞ্জাম নিয়ে ঐ অঞ্চলে তেলগ্যাস এক্সপ্লোরেশন চালাবার জন্যে কয়েকটি জাহাজ নিয়ে উপস্থিত হলে সেখানে মিয়ানমারের নৌবাহিনী তাদেরকে বাধা দেয় এবং ফিরে আসতে বাধ্য করে। মিয়ানমারের যুক্তি ছিল যে ঐ অঞ্চলের সমুদ্রসীমার মালিক মিয়ানমার, বাংলাদেশের কোন অধিকার নেই ওখানে তেলগ্যাস অনুসন্ধানের। ইটলসের রায়ে ঐ বিরোধপূর্ণ অঞ্চলের মালিকানা এখন পেয়ে গেছে বাংলাদেশ, কিন্তু গত পাঁচ বছরেও ওখানে এখনো কোন নূতন এক্সপ্লোরেশন শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোন ইজারাদার কোম্পানি। এই অক্ষম্য বিলম্বের কারণে মিয়ানমার যে এই সমুদ্রাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ গ্যাস তুলে নিঃশেষ করে দিচ্ছে সে গ্যাস তো বাংলাদেশও পেতে পারত। কারণ, সন্নিহিত অঞ্চলগুলোর ভূগর্ভে গ্যাসের মজুদ তো শুধু মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণাধীন সমুদ্রসীমায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ওখানে গ্যাস পাওয়া যাবেই, এটা প্রায় নিশ্চিত মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। হয়তো এহেন বিলম্বের কারণে কয়েক টিসিএফ গ্যাস থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ!

) বাংলাদেশের এক লাখ আঠার হাজার বর্গকিলোমিটার অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমায় আরো প্রায় ২৩টি থেকে ২৫টি ব্লক ইজারা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তেলগ্যাস সহ অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের জন্যে, কিন্তু গত পাঁচ বছরে এব্যাপারে কোন অগ্রগতিই পরিলক্ষিত হয়নি। এই ব্লকগুলো পাওয়ার জন্যে বিভিন্ন শক্তিধর দেশের বহুজাতিক করপোরেশনগুলো পর্দার আড়ালে প্রচন্ড লবিয়িং চালিয়ে যাচ্ছে বলে শোনা যায়। কিন্তু, আমরা চাই দেশের স্বার্থে শেখ হাসিনার সাহসী ও সঠিক সিদ্ধান্ত। পাঁচ বছরেও সরকারের নীতিনির্ধারকরা কোন সিদ্ধান্তে আসতে না পারাটা বড়ই রহস্যজনক বই কী! নাকি, এলএনজি আমদানিকারক কোম্পানিগুলো সব আয়োজন ভন্ডুল করে দিচ্ছে তাদের মুনাফা দীর্ঘদিন চালিয়ে নেয়ার স্বার্থে?

) ২৫ জুলাই ২০১৮ তারিখের পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে ডীপসী ফিশিংয়ের জন্যে সরকার ১৬ টি ফার্মকে অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিতে পাঁচ বছর সময় লাগল কেন? এর জন্যে তো এক বছরও লাগার কোন যুক্তি নেই! ডীপসী ফিশিংয়ে এখন যে অত্যাধুনিক ‘ফ্যাক্টরী শীপ’ ব্যবহ্নত হয় সেগুলো ক্রয় করে পরিচালনার ক্ষমতা এখন বাংলাদেশের কয়েক ডজন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। এসব ফ্যাক্টরী শীপে মাছ ধরা থেকে শুরু করে মাছ প্রসেসিং করে রফতানির জন্যে ক্যানিং পর্যন্ত অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকে, যাতে এক এক ট্রিপে মাসাধিককালও জাহাজগুলো গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ চালিয়ে যাবার ক্ষমতা রাখে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যথাসময়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে এদ্দিনে বাংলাদেশ তুনা মাছ রফতানিতে একটা উল্লেখযোগ্য দেশের মর্যাদায় হয়তো উন্নীত হয়ে যেতো। কারণ, বঙ্গোপসাগরের ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ তুনা মাছের একটা সমৃদ্ধ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। ঐ অঞ্চলে এখন বাংলাদেশের আইনী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

) নৌবাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্য কোন মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতার রশি টানাটানি সমস্যা নিরসনের জন্যে সরকারের একটি স্বতন্ত্র ‘সমুদ্রসম্পদ মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। বিকল্প হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ‘আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি’ গঠন করে টানাপড়েন কমানো যেতে পারে। অহেতুক রশি টানাটানি যে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।

) পাঠকদের হয়তো মনে আছে, সোনাদিয়ায় একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ব্যাপারে অনেকদূর অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল এবং বেশ কয়েক বছর আগে জাপানের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ব্যাপারে ফিজিবিলিটি স্টাডিও সম্পন্ন করা হয়েছিল। গভীর সমুদ্রবন্দরটি আঞ্চলিকভাবে প্রধানত বাংলাদেশ, ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স নামে খ্যাত সাত রাজ্য আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা, মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও মিজোরাম, নেপাল, ভুটান, চীনের ইউয়ান প্রদেশ এবং মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় কিছু প্রদেশ কর্তৃক ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর জন্য বাংলাদেশ, চীন, ভারত এবং মিয়ানমার মিলে বিসিআইএম করিডোর (যেটিকে কুনমিং ইনিশিয়েটিভ বলা হয়) গঠন করার ব্যাপারেও চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল। কুনমিং ইনিশিয়েটিভ আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। জাপানের সেই প্রতিষ্ঠানের ফিজিবিলিটি স্টাডিতে ২৫ বছরে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গভীর সমুদ্র বন্দরের পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের একটা প্রাক্কলন করে ফিজিবিলিটি রিপোর্ট প্রণীত হয়েছিল। পঁচিশ বছরে ধাপে ধাপে ওই বন্দরটি উন্নয়নের কথা ছিল। এর কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে চীন সোনাদিয়া বন্দরে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠে, এবং ২০১২ সালে চীনের বর্তমান রাষ্ট্রপতি (তদানীন্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট) শি জিন পিং বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন গভীর সমুদ্রবন্দরটি নির্মাণে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য। তিনি ফেরত যাওয়ার পর এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং আলাপ আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে যখন চীন সফরে গেলেন তখন একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। ওই পর্যায়ে ভারত এই প্রকল্পের ব্যাপারে তাদের নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশের ওপর প্রচণ্ড চাপ দিতে থাকে এই সোনাদিয়া বন্দরের নির্মাণ কাজে চীনকে যেন কোনোভাবেই সম্পৃক্ত করা না হয়। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো, ভারত চীনকে বঙ্গোপসাগরে সহজ প্রবেশাধিকার দিতে নারাজ, এটি তাদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে। তারা এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে এবং এর ফলে শেখ হাসিনার সফরের সময় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি শেষ মুহূর্তে ভন্ডুল হয়ে যায়। আমি এখনো দৃঢ়ভাবে বলছি, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ আমাদেরকে করতেই হবে যদি আমরা সত্যিসত্যিই ‘ব্লু ইকনমির’ সুফল ঘরে তুলতে চাই। সোনাদিয়াকে কেন্দ্র করে এসম্পর্কিত নানা ডাইমেনশনের ভবিষ্যৎ কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হলে সেটাই যৌক্তিক হবে। ২৫ জুলাই ২০১৮

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

x