কিশোর গ্যাং কালচার

শুক্রবার , ৩১ মে, ২০১৯ at ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
60

গত ১৭ মে দৈনিক আজাদীর প্রথম পাতায় প্রকাশিত এ বয়সে কেন তারা অপরাধে? শীর্ষক তথ্যবহুল বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের জন্য ঋত্বিক নয়নকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। কিশোরের এমন লোমহর্ষক কর্মকাণ্ডের সংগে যুক্ত হচ্ছে যা এক কথায় অকল্পনীয়। খুন খারাবি থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা, অপহরণসহ নানা অপরাধে জড়াচ্ছে তারা। নগরীতে পাড়ায় পাড়ায় একটা কিশোর গ্যাং কালচার তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কথিত বড় ভাইদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও এলাকা ভিত্তিক গড়ে উঠেছে ছোট বড় শতাধিক কিশোর গ্রুপ। এসব গ্রুপের বেশিরভাগ সদস্যদের বয়স ১৮ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। কথিত বড় ভাইদের প্রশ্রয়েই বিপথগামী হচ্ছে এসব কিশোর ওঠতি যুবকেরা। বড় ভাইয়েরা এসব কিশোরদের হাতে তুলে দিচ্ছেন অবৈধ অস্ত্র এবং অপরাধ জগতে পা বাড়াতে উৎসাহ দেন। সম্প্রতি কমনওয়েলথ কর্তৃক তৈরি গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে বলা হয়েছে বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়। উঠতি বয়সি অনেক কিশোর কিশোরী হঠাৎ করে এবং কিভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যায়। এ বিষয় নিয়ে মনোবিজ্ঞানী ও সমাজ বিজ্ঞানীদের অনেক ভালো বিশ্লেষণ রয়েছে। আমাদের মতে বল্গাহীনভাবে ফেসবুক ব্যবহার । মোবাইল ফোনের আধিপত্য ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের প্রভাব ও মা বাবার কম নজরদারী কিশোরদের অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যাওয়ার মূল কারণ। কিশোর অপরাধের মূলে রয়েছে অনেক কারণ। জ্ঞানের সংস্পর্শে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো বন্ধুর সাহচর্য একটি শিশু বা কিশোরদের ভালোভাবে বেড়ে ওঠার সাহায্য করে। তবে কিশোর অপরাধ রোধে মা-বাবার ভূমিকাটাই বড়। ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে। কার সংগে মিশছে টিভিতে মোবাইল ফোনে কম্পিউটার দেখছে, পড়াশুনা করছে কিনা, ক্লাস ফাঁকি দিচ্ছে কিনা এসব দেখার দায়িত্ব বড়দের। সবাই কি তা পালন করছেন? অনেক অভিভাবক সুরম্য অট্টালিকা বানাতে নিজেদের ব্যবসায় চিন্তা করে দিন রাত ব্যস্ত থাকে। বিদেশে শিক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া। নিজেরা কেউ কেউ অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা করে। কিশোরদের হাতে দামি দামি সাইকেল মোটর সাইকেল, দিয়ে চেঁচিয়ে বেড়ায় উচ্ছেন্নে গেল বলে? অঢেল অর্থ ও অনেক শিশু কিশোরকে বেপরোয়া করে তুলছে। এর প্রমাণ ভুরিভুরি, শেকড়ের সংগে সম্পর্ক গড়ে উঠছে না ছোটদের। বয়:সন্ধিকালে মানুষের আচরণ পরিবর্তিত হবে এটা স্বাভাবিক। তাই কিশোরদের সচেতন করার জন্য মা-বাবার চেষ্টা অবিরত রাখতে হবে। আমাদের মতে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ দৃঢ় থাকলে, সাংস্কৃতিক চেতনায় আলোকিত হলে একজন ছেলে বা মেয়ে সহজে বিপথে যেতে পারে না। এসব উদ্যোগ নিতে পারলেই কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x