কিছু ভাবনা

সত্যব্রত বড়ুয়া

শুক্রবার , ৩১ মে, ২০১৯ at ৭:১২ পূর্বাহ্ণ
56

গাঁয়ের মানুষ এখন আর গেঁয়ো নেই। আমার মাঝে মাঝে শহরের কিছু মানুষের আচার আচরণ দেখে মনে হয় এরা গেঁয়ো। গ্রামে বসবাস করেও মানুষ শহুরে হতে পারে। এক সময় আমরা গ্রামের মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে ‘গেঁয়ো ভূত’ বলতাম। গ্রামের ভূত গুলো এখন গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে এসেছে। এই ভূতদের আমি দেখতে পাই। লক্ষ্য করেছি গ্রামের গরু, ছাগল, কুকুরগুলোর ‘লাইফ স্টাইল’ও এখন পাল্টে গেছে। পাল্টে গেছে কাক-কোকিলেরও। আগে গ্রামে গেলে বাড়ির পোষা কুকুরটা আমাকে দেখে লেজ নেড়ে অভ্যর্থনা জানাতো। এখন দেখেও না দেখার ভান করে। বুঝতে পারি আমাকে সে পাত্তা দিচ্ছেনা। গ্রামের কাকগুলো আগে ভোর পাঁচটার সময় ‘কা-কা’ করে ডেকে উঠতো। এখন ডাক দেয় সকাল ৭ টায়। এক সময় গ্রামের মানুষরা খুব ‘ভিলেজ পলিটিক্স’ করতো। এখন করে শহরের মানুষরা। ‘ভিলেজ পলিটিক্স’ হচ্ছে জাতীয় পর্যায়েও। আমার মনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্ন তোলা যায় বন্য কথাটি নিয়ে। বনে বাস করলেই কী মানুষ বন্য হয়ে যায়? আমরা যারা বনে বাস করিনা তারাইতো মাঝে মাঝে বন্য হয়ে উঠি। শিশু ধর্ষক কারা? এরা নিশ্চয়ই বনে থাকেনা। চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণের খবর যখন শুনি তখন শহর ছেড়ে বনে গিয়ে পশুদের সাথে বাস করতে ইচ্ছে করে কারণ বনের পশু আমাদের মতো ধর্ষক নয়। আমরা যে শুধু ধর্ষক তাই নয় হিংস্রও। বনের পশু প্রাণ সংহার করে খিদে পেলে, আমরা মানুষ প্রাণীরা প্রাণ সংহার করি স্বার্থের কারণে। ট্রাফিক সপ্তাহের সময় দেখি ট্রাফিকরা পথচারীদের রাস্তা পার হওয়ার নিয়ম শিখিয়ে দিচ্ছে। বলছে ‘জেব্রা ক্রসিং’ দিয়ে হাঁটতে। ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনেই দেখলাম একটা গরুকে রাস্তার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে থেকে লেজ নাড়তে নাড়তে জাবর কাটতে। অতি কষ্টে গরুটিকে পাশ কাটিয়ে গাড়ি চলছে। এ ধরনের বেয়াড়া গরুর কারণে অনেক সময় গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এতে মানুষ হত হয়। বড় ধরনের দুর্ঘটনায় মানুষ নিহত হতেও দেখা যায়। আমার মনে হয় গরু, ছাগল, কুকুরকেও ‘জেব্রা ক্রসিং’ দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার নিয়ম শিখিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে একজন সুস্থ মানুষ যদি একজন মানুষকে হত্যা করবার পরপরই পাগল হয়ে যায় তখন সেই পাগলমির বিচার করা যাবে কিনা। ধরুন এক ঝাঁক বাংলাদেশী মৌমাছি সীমান্ত পার হয়ে ভারতে মৌচাক বাঁধলো। মৌচাকের মধুর জন্যে বাংলাদেশ ভারতের কাছে দাবি জানাতে পারবে কী? ছেলেবেলা থেকে খালি মহাপুরুষদের কথা শুনছি। তবে কী পৃথিবীতে এ পর্যন্ত মহানারী জন্ম গ্রহণ করেনি? তেমনি হয়তো জন্ম গ্রহণ করেনি জাতির মাতা, জাতির জননীও। পাকিস্তানি আমলে একবার একটি পত্রিকায় তথ্য প্রকাশিত হয়েছিলো যে বিভিন্ন কারণে দেশে হত-নিহত হচ্ছে সব চেয়ে বেশি বেকাররা। সে সময় আমিও বেকার ছিলাম। চাকুরীর খোঁজে প্রায় সময়ই ঘরের বাইরে থাকতাম। হঠাৎ একদিন ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে আছাড় খেয়ে আমার বাম পা টা ভেঙ্গে গেলো। কিছুদিন আগে রাস্তায় হাঁটবার সময় হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে গেলাম। ভেঙ্গে গেলো আমার বাম হাত। আমি একজন অবসর প্রাপ্ত চাকরীজীবি। কোনো কাজ নেই। মানে নির্ভেজাল বেকার মানুষ। বেকাররা যে বেশি হত হয় এর প্রমাণ আবারও পেলাম। সেদিন এক ভদ্রলোককে কুশল বিনিময়ের সময় বললাম, আমার ছেলে যখন ছোট ছিল তখন তাকে হাত ধরে আমি হাঁটা শেখাতাম। এখন সে আমার হাত ধরে আমাকে হাঁটা শেখায়। ভালোই লাগে- আনন্দ পাই।

x