কাল আজকাল

কামরুল হাসান বাদল

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ
52

কয়েকদিন আগে আমার এক সাংবাদিক বন্ধু অনেকটা ব্যঙ্গ করেই বললেন, গত দশ বছর যারা আওয়ামীলীগ, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে বলে গলা ফাটিয়েছেন তাদের অনেকে আজ সুর পাল্টাছেন, বা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। আর আপনি দেখি উল্টা আওয়ামীলীগের পক্ষে বেশ সরব হয়ে উঠেছেন।
আরেক বন্ধু বললেন, আপনি একটি পত্রিকাকে আক্রমণ করছেন সর্বক্ষণ। বন্ধু নয়, তবে পরিচিতদের মধ্যে কয়েকজন বলেছেন, আপনি আওয়ামীলীগ করেন তাতো জানতাম না।
ভাবলাম, অভিযোগ, অনুযোগ ও জানতে চাওয়ার বিষয়গুলোর উত্তর দেওয়া দরকার। আমার লেখার উদ্দেশ্য ও যৌক্তিকতা তুলে ধরা দরকার। আওয়ামী লীগ দশ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে।এই দশ বছরে শুধুমাত্র কাল-আজ-কাল-কলামে লিখেছি অন্তত ৫০০টি কলাম। অন্যান্য স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা মিলে মোট কলামের সংখ্যা সাড়ে সাত শ’র অধিক হবে। এই সাড়ে সাত শ কলামের অধিকাংশই লিখেছি সরকারের বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে। সে সাথে সরকারি দল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন ভুল, নিন্দিত কাজের সমালোচনা করে। সে সাথে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লিখেছি স্থানীয় সমস্যা ও বিষয় নিয়ে লিখেছি। সেসব লেখা লিখতে গিয়ে সরকার বা দলের ভুল থাকলে তার সমালোচনা করতে ছাড়িনি। আমি সরকার ও সরকারি দলের সমালোচনা করতে কখনো কুন্ঠাবোধ করিনি। তার কারণ, আমি আওয়ামীলীগ সরকার থেকে কোনো প্রকার সুবিধাপ্রাপ্ত নই। সরকার বা দলের বেনিফিশিয়ারি নই। গত দশ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে আমার ব্যক্তিগত ১০ টাকা লাভও কখনো হয়নি। আত্মীয় পরিজনের মধ্যে অনেকে আমার স্ত্রীর কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের এত এমপি, মন্ত্রী নেতাদের ওনার এত পরিচয়, কই কখনোতো আমাদের ছেলেপুলেদের চাকরি-ব্যবসা ইত্যাদির জন্য কোনোদিন সুপারিশ করলেন না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে আর কী লাভ হলো। বিষয়টি যেন এমন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সবারই ব্যক্তিগত লাভ হতে হবে। আমাকে দুচারজন বলেছেন, এভাবে প্রকাশ্যে এবং স্পষ্টভাবে কোনো দলকে সমর্থন করে লিখলে আপনার লেখক সত্ত্বার ক্ষতি হবে। আপনি নিরপেক্ষ নন বলে মনে করবে লোকে। আমি তাঁদের বলি, নিরপেক্ষ একটি আপেক্ষিক কাজ। আর আমি কখনোই নিরপেক্ষ থাকতে চাইনি হতে চাইনি, আমি আমার আদর্শ নীতিবোধের পক্ষে থেকেছি। এ পথে থাকতে গিয়ে বিরুদ্ধপক্ষের বিরুদ্ধে লিখেছি। কাজেই আমি নিরপেক্ষ নই। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নীতি-আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব নয়। আমি যে কোনো শর্তে, যে কোনো পরিস্থিতিতে একাত্তরের বাংলাদেশের পক্ষে থাকব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালির দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে থাকতে গেলে বলতে গেলে তা যদি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা বোঝায় তাহলে আমারতো কিছু করার নেই।
এবিষয়ে বাংলাদেশে একটি হতাশজনক দিক আমি লক্ষ্য করেছি। স্বাধীনতার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়া পর্যন্ত যারাই আওয়ামীলীগের বিরোধিতা করেছে তারাই পক্ষান্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। ইতিহাসকে খন্ডিত করেছে, অনেকক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করেছে। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকারও করেছে। আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করা আর দেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা, ইতিহাসকে খন্ডিত ও বিকৃত করা এক কথা নয়। অনেক ব্যক্তি ও দল আওয়ামীলীগের বিরোধিতা করতে গিয়ে এমন কাজই করেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। এটি করতে গিয়ে বরং তারা পক্ষান্তরে প্রমাণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামীলীগ ইতিহাসের অবিচ্ছিন্ন অধ্যায়। একে আলাদা করার কোনো উপায় নেই। এদের অনেকে আওয়ামী লীগের অবদানকে ছোট করতে গিয়ে আওয়ামীলীগকে আক্রমণ করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অনেক মৌলিক বিষয়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন।
ভাও বুঝে, বা নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকে যখন নীরব দর্শক হয়ে যাচ্ছেন তখন আমি সরব হয়েছি কেন সে বিষয়ে বলি। বর্তমান একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিরোধী ভয়ংকর এক ষড়যন্ত্র যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, দেশের কিছু রাজনীতিক, সুশীল ও পত্রিকার মালিক-সম্পাদক যখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ তথা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে বিএনপি-জামায়াত তথা সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীকে আবার ক্ষমতার বলয়ে স্থাপনের চেষ্টা করছে তখন আমি নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকা সমীচীন মনে করলাম না। আমি মনে করি যারা বাংলাদেশকে ভালবাসেন একাত্তরের বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখতে চান, যারা বাহাত্তরের সংবিধান চান এবং সুখী সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ চান তাদের সবাইকে সরব হতে হবে। সত্যের পক্ষে বলতে হবে, থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে লড়াই করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে বাঁচাতে হবে।
বাংলাদেশকে নিয়ে এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অবশ্য এ ধরনের ষড়যন্ত্র নতুন নয়। একাত্তরে পরাজয়ের পর থেকে সে শক্তি সর্বদাই ষড়যন্ত্র পাকাতেই থেকেছে। এবার যে মুশকিলটা হলো তা হচ্ছে এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে এমন সব ব্যক্তি যুক্ত হয়েছেন দেশের মানুষ যাদের কথায় বক্তৃতায় ও অবস্থানে বেশ সহজে বিভ্রান্ত হতে পারে। ২০০১ সালের মতো এক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করছে একটি জাতীয় দৈনিক। আওয়ামী লীগ বিরোধী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ক্ষেত্রে যে পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই পত্রিকাটির ভূমিকা আমাকে পঁচাত্তর পূর্ববর্তী ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়।
স্বাধীনতার পর থেকে পঁচাত্তরে জাতির জনক হত্যার পূর্ব পর্যন্ত ঢাকার দুটো পত্রিকা প্রচণ্ড বঙ্গবন্ধু ও তার সরকারবিরোধী ভূমিকা পালন করেছিল। একটি ছিল ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের উত্তেফাক অন্যটি হামিদুল হক চৌধুরীর অবজারভার। আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে জন্ম নিলেও স্বাধীনতার পর মইনুল হোসেন যখন পত্রিকাটির মূল নিয়ন্ত্রক তখন যে পত্রিকাটি বঙ্গবন্ধু সরকারের কঠোর ও কট্টর বিরোধীতা করেছে। সিআইএর আশির্বাদপুষ্ট ইত্তেফাক বঙ্গবন্ধুর ইমেজ নষ্ট করার লক্ষ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন নারী বাসন্তিকে জাল পরিয়ে সে ছবি পত্রিকায় ছাপিয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে সরবরাহ করেছিল। আর স্বাধীনতাবিরোধী হামিদুল হক চৌধুরীর অবজারভারতো ছিল। আজও বিষয়টি অনেকটা সে রকম। একটি বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক এবং একই মালিকানাধীন ইংরেজি পত্রিকা সে ভূমিকাই যেন পালন করছে। প্রতিদিন দৈনিকটি দেখলে বোঝা যায় বর্তমান সরকারকে হটিয়ে খালেদা-তারেক আর জামায়াত নেতৃত্বকে ফিরিয়ে আনতে কী প্রাণান্তকর চেষ্টাই না করে যাচ্ছে পত্রিকা দুটো। অবশ্য এ পত্রিকা দুটো বিশেষ করে ‘বদলে যাও বদলে দাও’ স্লোগান দেওয়া জাতীয় দৈনিকটির এই ভূমিকা নতুন নয়। ২০০১ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে পরাজিত করার নীল নকশার অন্যতম প্রণেতা এই বাংলা দৈনিকটি। সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান-জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল। এবং সারাদেশে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ধরপাকড়সহ নানাবিধ নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। সে সময়ের নির্বাচন কমিশন আবু সাঈদের নেতৃত্বে স্পষ্টত বিএনপি-জামায়াতের পক্ষেই সমস্ত কাজ করছিল। আর সে দৈনিক খুব ন্যাক্কারজনকভাবে সে সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য কাজগুলোকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সমর্থন যুগিয়ে গিয়েছিল।
ওই একই শক্তি আজ আবার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াতকে ফের ক্ষমতায় আনতে একট্টা হয়েছেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলে ঘাতক-খুনী আর ভিকটিমদের জন্য একই সুবিধার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য দাবি-দাওয়া এবং আন্দোলন-সংগ্রাম দেখে মনে হতে পারে যে, নির্বাচনই গণতন্ত্রের শেষ কথা। একমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচনই যে গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়, একমাত্র শর্ত নয় তা বাংলাদেশে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত যদি সব নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়ে থাকে তাহলে দেশে ২৭ বছরেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলো না কেন? দেশে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দাঁড়াল না কেন? এ প্রশ্নের উত্তর কীভাবে পাব? একমাত্র ১৯৯৬ সাল ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ক্ষমতা বুঝিয়ে দেওয়ার মতো কাজওতো কেউ করেনি আওয়ামী লীগ ছাড়া। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতনের পর ’৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশতো গণতন্ত্রের পথেই অগ্রসর হচ্ছিল। ১৯৯৩ সালের মাগুড়া উপ-নির্বাচনে তৎকালীন বিএনপি সরকার এবং তাদের আজ্ঞাবহ বিচারপতি আবদুর রউফের নির্বাচন কমিশন যদি ন্যক্কারজনক ভূমিকা পালন না করতো, ’৯৬ সালে বিএনপি যদি ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহানা না করত, ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি-জামায়াত যদি সারাদেশে সন্ত্রাস, হত্যা-ধর্ষণের ঘটনা না ঘটাতো, ২০০৪ সালে যদি বিএনপি সরকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউতে গ্রেনেড হামলা না চালাত, ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে নোংরামি না করত তাহলে দেশে গণতন্ত্রের এই সংকট হতো না। এই কাজগুলোর মাধ্যমে বিএনপি বহুভাবে প্রমাণ দিয়েছে তারা গণতান্ত্রিক শক্তি নয়, গণতন্ত্রের প্রতি তারা সম্পূর্ণ আস্থাশীল নয়। অন্যদিকে তাদের অন্যতম মিত্রদল জামায়াতে ইসলামী একটি মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন। যাদের ছত্রছায়া ও যাদের মাধ্যমে এদেশে জঙ্গিবাদের প্রসার হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবেও জামায়াত এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিন্দিত। জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তারা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়ও আস্থাশীল নয়। তারা ধর্মীয় রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে। তারা বাংলাদেশের সংবিধানকেও স্বীকার করে না। এই অগণতান্ত্রিক শক্তিকে গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে নির্বাচনে জেতানোর কৌশলও তাই গণতান্ত্রিক আন্দোলন নয়। এতে তথাকথিত সুষ্ঠু-নির্বাচন হতে পারে এবং তাতে বিএনপি ও জামায়াত জেতার সম্ভাবনা থাকতে পারে কিন্তু তাতে গণতন্ত্রের কোনো লাভ হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই, জনগণ ভোট দিতে পারলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এমন কোনো কথা নেই। এই লেখায় উল্লেখ করেছি। অতীতে এমন নির্বাচন হয়েছে কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কারণ নির্বাচনে যদি গণতান্ত্রিক শক্তি জয়লাভ করতে না পারে তাতে গণতন্ত্রের কোনো লাভ হবে না। গণতন্ত্র আস্থাহীন, হত্যা-ক্যু আর ষড়যন্ত্রে বিশ্বাসী দলগুলো বারবার নির্বাচিত হলেও দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না।
’৪৭ সালে দেশবিভাগের পর-ভারত অগ্রসর হয়েছে গণতান্ত্রিক পথে। পাশাপাশি পাকিস্তানে চলেছে অধিকাংশ সময়ে সামরিক শাসন। আজ দু’দেশের অবস্থান তুলনামূলক বিচার করলে বোঝা যায় তাতে লাভবান হয়েছে কারা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কারা। ভারতের কেন্দ্রে গান্ধি নেহেরুর কংগ্রেস এবং পশ্চিম বঙ্গে বামপন্থিদের দীর্ঘকালের শাসন সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশেও তেমন ব্যবস্থার দরকার। অর্থাৎ এমন একটি সরকারের দীর্ঘ শাসনের দরকার যা দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করবে। অন্যদিকে উন্নয়নের জন্যও একটি সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার। যারা একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সূদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে বর্তমানে আওয়ামী লীগের বিকল্প আর কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট হতে পারে না। যারা দশ বছরেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গুছিয়ে মনোনয়নপত্রও দাখিল করতে পারেন না তারা ক্ষমতায় গিয়ে পরিকল্পিতভাবে দেশ পরিচালনা করবেন কীভাবে।
দেশের এই পরিস্থিতিতে আমি তথাকথিত নিরপেক্ষ থাকতে পারি না। আমি ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ ধরনের সমালোচনা করতে পারি না। কারণ আমি জানি নীরব থাকা অনেক সময় বড় ধরনের অপরাধ। মালিক-সম্পাদক, ড. কামাল গংরা মিলে যে বিপজ্জনক ও ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠেছে তাতে কোনো বিবেকবান মানুষ নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। নিরপেক্ষ হয়ে থাকতে পারে না। আমি বামদের মতো আওয়ামী লীগ বিএনপি বা হাসিনা-খালেদাকে একই নিক্তিতে বিচার করি না। আমার ব্যক্তিগত লাভালাভের কিছু নেই। ফলে তুলনামূলক অধিকতর ভালোটিকে বেছে নিতে হবে আমার এবং অন্যকেও তা বোঝাতে হবে। কারণ আমি জানি আওয়ামী লীগ হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।
Email – qhbadal@gmail.com

x