মফস্বলের কলেজগুলো এবারও পিছিয়ে

মোরশেদ তালুকদার

বৃহস্পতিবার , ১৮ জুলাই, ২০১৯ at ৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ
81

চট্টগ্রাম বোর্ডে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার (এইচএসসি) ফলাফলে পূর্বের ধারাবাহিকতা এবারো বহাল রয়েছে মফস্বলে! তবে সাফল্যে নয়; ব্যর্থতায়। বিগত সাত বছর ধরেই মফস্বলের কলেজগুলোতে পাসের হার কম ছিল শহরের তুলনায়। অষ্টম বছরে এসেও সেই পিছিয়ে থাকার আর উন্নতি হয়নি। অর্থাৎ নগরের চেয়ে পিছিয়ে থাকা মফস্বলের শিক্ষার্থীরা পূর্বের ধারাবাহিকতায় গতকাল প্রকাশিত ফলাফলেও পিছিয়ে ছিল। এক্ষেত্রে পাসের গড় হার, জিপিএ-৫ প্রাপ্তি এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায়ও এগিয়ে ছিল শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
চলতি বছর চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচটি জেলার (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এই পাঁচটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছেন চট্টগ্রাম শহরের শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম মহানগরীর আওতাভুক্ত বিভিন্ন কলেজ থেকে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের গড় পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। বিপরীতে মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।
মফস্বলের শিক্ষার্থীদের এ পিছিয়ে পড়ার একাধিক কারণ রয়েছে। মফস্বলের কলেজগুলোতেও বহুমুখী সমস্যা বিদ্যমান। তাছাড়া শহরের কলেজগুলোতে অপেক্ষাকৃত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরাই ভর্তি হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান বা নিত্যনতুন সুযোগ-সুবিধাগুলোও নগরকেন্দ্রিক চিন্তা থেকে করা হয় বেশিরভাগ সময়ে। বিপরীতে মফস্বলের কলেজগুলোতে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা ভর্তি হয়ে থাকে। সুযোগ সুবিধাও সেখানে কম। পাশাপাশি মফস্বলের কলেজগুলোতে দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে বলেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠে। তাছাড়া মফস্বলে যেসব সরকারি কলেজ রয়েছে সেখানে কর্মরত শিক্ষকরা শহরমুখী।
অভিযোগ আছে, মফস্বলের অধিকাংশ কলেজের শিক্ষকদের সৃজনশীল পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে শিক্ষার্থীরাও সৃজনশীল পদ্ধতির বিষয়টি শ্রেণিকক্ষে রপ্ত করতে পারেন না। অথচ তাদের পরীক্ষা দিতে হয় সৃজনশীল পদ্ধতিতেই। এটাও ফলাফলে প্রভাব ফেলে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, মফস্বলের ফলাফল খারাপ হওয়ার প্রভাব পড়ে বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে। এবারের ফলাফলের কিছু চিত্র-
পার্বত্য জেলা ও কঙবাজারের চিত্র : চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার পাসের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ। অথচ কঙবাজারে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। যা গতবার ছিল ৬১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে এবার খাগড়াছড়িতে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং বান্দরবারনে ৫৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।
জিপিএ পাসের হারেও মফস্বল পিছিয়ে : এবার চট্টগ্রাম মহানগরীর কলেজগুলো থেকে অংশ নেয়া দুই হাজার ৫৯১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বিপরীতে শুধু জেলায় পেয়েছেন ২৪১ জন। এছাড়া কঙবাজারে ৫৬ জন, রাঙামাটিতে ৮ জন, বান্দরবানে ২১ জন এবং খাগড়াছড়িতে পেয়েছে ১৫ জন। বিগত বছরগুলোতেও এগিয়ে ছিল শহর।
শতভাগ পাসের হার : এবার চারটি কলেজের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছেন। এরমধ্যে তিনটিই শহরের। মাত্র একটি কলেজ ছিল মফস্বলের।
আট বছরের চিত্র : ২০১০ থেকে ২০১৮। এই আট বছরেও চট্টগ্রাম বোর্ডে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে পিছিয়ে ছিল মফস্বল। এর মধ্যে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। উপজেলায় ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।
২০১৭ সালে নগরে ৭৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং উপজেলায় পাস করে ৫৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। মহানগর বাদে উপজেলায় পাসের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৩ শতাংশ।
২০১৫ সালে শুধু মহানগরে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ২০১৪ সালে মহানগরে পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং আর মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৯০ শতাংশ।
২০১৩ সালে মহানগরে পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং জেলার পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ২০১২ সালে মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং মহানগর বাদে জেলায় পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০১১ সালে শুধু মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০১০ সালে মহানগরে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

x