বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে জাতীয় শিশু দিবস পালন এবং প্রাসঙ্গিক কথা

মঙ্গলবার , ১২ মার্চ, ২০১৯ at ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
32

শিশুদের সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে শিশু অধিকার বাস্তবায়ন ও বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিবছর ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী) হিসেবে পালন করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানে শিশুদের অধিকার সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে সুষ্ঠুভাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, প্রতিনিয়ত শিশুরা নানাভাবে নিগৃহীত হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপে কলকারখানায় শিশু শ্রম কিছুটা বন্ধ হলেও গৃহস্থালির কাজে এর দৃষ্টান্ত চোখে পড়ার মত। শহর কেন্দ্রিক জীবনে বাড়তি কাজের ঝামেলা সামলাতেই কাজের মেয়ের কালচার চালু হয়েছিল। কিন্তুু সে কাজের মেয়ের বয়স নিয়মনীতির গন্ডির মধ্যে না থাকায় বিপত্তির সৃষ্টি হয়। এটা সত্য যে তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক হিসেবে জানা গেছে কেবল এশিয়াতেই প্রায় ৪ কোটির উপরে শিশু শ্রমিক রয়েছে এদের মধ্যে এক চতুর্থাংশ ভারতের। বিভিন্ন দেশে শ্রমিকরা মার-ধর ও অন্যান্য নির্যাতনের সম্মুখীন হচ্ছে। সাধারণ ধোয়া মোছা থেকে শুরু করে সব নোংরা ও কষ্টকর কাজই শিশুদের দ্বারা করানো হয়। কারণ এসব কাজ বয়স্ক শ্রমিকরা করতে চায় না। মালিকেরা পারিশ্রমিক কম দেয়ার জন্যই শিশু শ্রমিক নেয়। শিশু শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়। তাছাড়া এদের উপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। কাজ শেষে বাসি ভাত-তরকারীই কপালে জোটে। এগুলি কেতা দুরস্ত তথা কথিত ভদ্র সমাজেই চলছে। তৃতীয় বিশ্ব থেকে ছলে বলে উন্নত বিশ্বে শিশু পাচারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিত্যই ঘটছে। বিশ্বের শিশু কিশোরদের এ নিপীড়ন ও অমানবিক দুর্ব্যবহার থেকে রক্ষার জন্যে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। কেবল আইন প্রণয়ন করে নয় বরং আইনের কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। শিশু চিত্তবৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশের জন্যে সুশিক্ষা সুস্থ সামাজিক পরিবেশ ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের ব্যবস্থাই একান্ত বাঞ্চনীয় এখন। আজ যে শিশুটি হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলছে আগামীকাল সে শিশুটিই হবে সমাজের কর্ণধার। বিশ্বের এক অমূল্য সম্পদ। তার মেধা ব্যক্তিত্বেই হবে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার চালিকা শক্তি। শিশুদের মন মনন ও মননশীলতা শিশুদের ব্যক্তিত্ব গঠন এবং বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান হাতিয়ার। আর এ মননশীলতার প্রবণতা প্রতিটি শিশুর মধ্যেই সহজাতভাবে থাকে যা অনুকূল পরিবেশ ইতিবাচকভাবে বিকাশ লাভ করতে পারবে এবং প্রতিকূল পরিবেশে নেতিবাচকভাবে প্রকাশিত হতে পারে। তাই শিশুর মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যতে ব্যক্তিত্ব গঠনের জন্য পারিবারিক সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় পরিবেশের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
এম.এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x