ড. মইনুল ইসলামের কলাম

সোমবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
66

অবলোপনকৃত মন্দঋণের ওপর কি সুদ ধার্য হয় না?
ওগুলো কি খেলাপিঋণ নয়?

গত ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে অবলোপনকৃত মন্দঋণের উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বক্ষ্যমাণ কলামে সংবাদটির গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন উপলব্ধি করছি সাধারণ জনগণ মন্দঋণ অবলোপনের ব্যাপারটি ঠিকমত বুঝতে পারবেন না বিধায় এর প্রকৃত মাজেজাটি ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে। সংবাদে জানা যাচ্ছে, ২০০২ সালে পাঁচ বছরের বেশি সময়ের অনাদায়ী মন্দঋণের ‘রাইট-অফ’ ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক মোট ৪৯,৭৪৫ কোটি টাকা ‘রাইট-অফ’ করা হয়েছে। সংবাদে এরপর যে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে সেটা পাঠকদেরকে ভুল সিগন্যাল দেবে। বলা হচ্ছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঐ ‘রাইট-অফ’ করা মন্দঋণের ১১,৮৭৯ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। নিউজ আইটেমে এরপর বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আদায় হওয়া মন্দঋণের ব্যাংকওয়ারী পরিমাণ প্রদত্ত হয়েছে। পুরো ব্যাপারটি যে ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই প্রকাশিত হয়েছে সেটা বোঝানোর জন্যেই কলামটি লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে ১১,৮৭৯ কোটি টাকা ‘রাইট-অফ’ করা মন্দঋণ আদায় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ওগুলো ‘সুদাসলে আদায়কৃত মন্দঋণ’। অতএব, ঐ অংকটিকে ৪৯,৭৪৫ দিয়ে ভাগ করে যদি কেউ খুশি হয়ে যান যে প্রায় ২৩.৮৮ শতাংশ ‘রাইট-অফ’ করা মন্দঋণ আদায় করে ব্যাংকগুলো বেশ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে তাহলে তাঁরা মারাত্মক ভুল করবেন। আসলে, এই দুটো অংক মোটেও অনুপাত নির্ধারণের জন্যে উপযোগী নয়। গত ১৬ বছর ধরে মোট ৪৯,৭৪৫ কোটি টাকা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে আটকে থাকা মন্দঋণ হিসেবে ক্রমাগতভাবে ‘রাইট-অফ’ করার পর ঐ মন্দঋণের উপর নিয়মিতভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ধার্য হয়ে চলেছে, কিন্তু যখন ‘রাইট-অফ’ করা মন্দঋণের ক্রমবর্ধমান (পঁসঁষধঃরাব) পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশ করা হয় তখন যে সুদ ধার্য হচ্ছে তার পরিমাণ যোগ করে সুদাসলে ঐ মন্দঋণের পরিমাণ কত দাঁড়িয়েছে তা বলা হয় না। অতএব, ‘রাইট-অফ’ করা মন্দঋণ ৪৯,৭৪৫ কোটি টাকা সর্বশেষ হিসেব প্রকাশের সময় সুদাসলে কত দাঁড়িয়েছে তা বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণকে জানাচ্ছে না। মামলায় জিতে যখন ব্যাংক মন্দঋণ আদায় করতে পারে শুধু তখনই ঋণের প্রিন্সিপালের সাথে সুদ যোগ করে সুদাসলে মন্দঋণটা আদায় করা হয় (সুদ মওকুফ না হলে)। ব্যাপারটা বুঝতে হলে নিচের ব্যাখ্যাটা প্রয়োজন হবে।
সাধারণত ‘নন-পার্ফর্মিং’ ঋণের শ্রেণিকরণ তিন ধরনের করা হয়: ‘সাব-স্ট্যান্ডার্ড’ (তিন মাসের বেশি অনাদায়ী), ‘ডাউটফুল’ (ছয় মাসের বেশি অনাদায়ী) এবং ‘বেড ডেট বা লস’ (ক্ষেত্রবিশেষে নয় মাস অথবা এক বছরের বেশি সময়ের জন্যে অনাদায়ী)। এর মধ্যে ডাউটফুল এবং বেড ডেট গুলোকে খেলাপিঋণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বেড ডেটকে বাংলায় ‘মন্দঋণ’ বলা হয়। ২০০২ সালে চালু হওয়া ‘রাইট-অফ সিস্টেমের’ নিয়মানুযায়ী যে সব মন্দঋণ পাঁচ বছরেও আদায় করা যায়নি, সেগুলোকে শর্তসাপেক্ষে ‘রাইট-অফ’ বা অবলোপন করা যায়। ‘রাইট-অফ’ করার মানে হলো, এই মন্দঋণগুলোকে ব্যাংকের মূল ব্যালেন্সশীট থেকে সরিয়ে আলাদা আরেকটি লেজারে হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। ‘রাইট-অফ’ করার মূল দুটো শর্ত হলো: ১) ঐ ঋণ সুদাসলে আদায়ের জন্যে ব্যাংক মামলা দায়ের করবে, ২) যে পরিমাণ ঋণ ‘রাইট-অফ’ করা হয় তার সম-পরিমাণ অর্থ ‘প্রভিশনিং’ বা ‘সঞ্চিতি’ করতেই হবে। প্রভিশনিং মানে হলো, ঐ পরিমাণ অর্থ ব্যাংক কর্তৃক অন্য কাউকে ঋণ দেওয়া যাবে না। অতএব, প্রভিশনিং করলে ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সামর্থ্য ঐ পরিমাণ সঙ্কুচিত হয়ে যাবে। বিভিন্ন ব্যাংক মামলায় চূড়ান্তভাবে রায় পেয়ে গত ১৬ বছরে যে পরিমাণ ‘রাইট-অফ’ করা মন্দঋণ ‘সুদাসলে’ ফেরত পেয়েছে তারই পরিমাণ হলো ১১,৮৭৯ কোটি টাকা। এই অংকের মধ্যে ‘রাইট-অফ’ করা ৪৯,৭৪৫ কোটি টাকার পাঁচ শতাংশও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, ২৩.৮৮ শতাংশ তো অনেক দূরের কথা। সেজন্যেই আমরা বারবার বলে চলেছি, ‘রাইট-অফ’ করা বা অবলোপনকৃত মন্দঋণের ৯৫ শতাংশেরও বেশি এখনো অনাদায়ী রয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোর এই চরম ব্যর্থতা লুকোনোর জন্যেই কি বাংলাদেশ ব্যাংক ২৮ জানুয়ারির এই সংবাদটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এভাবে প্রকাশ করল? যে কোন সমস্যা সমাধানের প্রথম আবশ্যকীয় পদক্ষেপই হলো সমস্যাটির আসল রূপ অকপটে স্বীকার করা, বিভ্রান্তিমূলক ও প্রতারণামূলক সংবাদ পরিবেশন করলে সমস্যাটিকে কার্পেটের নিচে লুকিয়ে ফেলার অভিযোগ তোলা যাবে।
মামলা করে ব্যাংকগুলো বছরের পর বছর খেলাপিঋণ আদায় করতে অসমর্থ হচ্ছে বলেই সমস্যাটা ইতোমধ্যেই সংকটে পরিণত হয়ে গেছে। খেলাপিঋণ আদায়ের জন্যে বিদ্যমান বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশে এতই অকার্যকর ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার রয়ে গেছে যে অনেক ‘রাইট-অফ’ করা মন্দঋণ গত ১৬ বছরেও আদায় করা যায়নি। শত শত কোটি টাকা মন্দঋণ অনাদায়ী রেখে বেশ কয়েকজন ‘রাঘববোয়াল ঋণখেলাপি’ মারাও গেছেন, অন্যরা হয়তো বিদেশে ভেগে গেছেন। তবে, তাঁদের অধিকাংশই উচ্চ আদালতের মামলাগুলো বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখে বহাল তবিয়তে দেশের ব্যবসাক্ষেত্রে এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে দাবড়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের অনেকেই ব্যাংকের মালিক বনে গেছেন, পরিচালক হিসেবে বছরের পর বছর দোর্দন্ড প্রতাপে ব্যাংকিং খাতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমার জানামতে, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের পিতা/পরিবারের সদস্য এই ‘রাঘববোয়াল ঋণখেলাপি’দের কাতারে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এফবিসিসিআই এর বেশ কয়েকজন সভাপতিও এই ‘রাঘববোয়াল ঋণখেলাপি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, এদেশের রাজনীতি ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি কালচারকে’ সযতনে লালন করে চলেছে। অতএব, সংশোধনও শুরু করতে হবে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেই। আর, এজন্যে জরুরি প্রয়োজন হলো তিন বছরের জন্যে একটি খেলাপিঋণ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে প্রত্যেক ব্যাংকের শীর্ষ দশজন ঋণখেলাপিকে চূড়ান্ত বিচারে দ্রুত শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ব্যবস্থা হয় রদ করতে হবে নয়তো আপিলের ক্ষেত্রে রায়ে উল্লিখিত ঋণের অর্থের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ব্যাংককে ফেরত দিলে আপিলের সুযোগ দেওয়া যাবে মর্মে শর্ত আরোপ করতে হবে। অর্থঋণ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল দায়ের করে বিচার প্রক্রিয়াকে বছরের পর বছর ঘুম পাড়িয়ে রাখা যাচ্ছে বলেই খেলাপি ঋণ সমস্যার কোন সুরাহা হচ্ছে না, এটা আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েই বলতে চাই। আরেকটি বিচারিক পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে সহ-জামানত দখলে নেয়ার জন্যে আবারো যে মামলা করার আইন রয়েছে সেটারও সংস্কারের উদ্দেশ্যে নতুন আইন প্রয়োজন। এ-ব্যাপারে মালয়েশিয়া আমাদেরকে পথ দেখাতে পারে, ওখানে পুনর্বার মামলার প্রয়োজন হয় না। আরেকটি বড় ধরনের পদক্ষেপ আবশ্যক, সেটা হলো অবিলম্বে ‘ডেট রিকভারী এজেন্সি’ বা ‘এসেট মেনেজমেন্ট কোম্পানী’ প্রতিষ্ঠার আইন পাস করা। এই এজেন্সি বা কোম্পানীগুলোকে পূর্ণ পুলিশ প্রটেকশান দিয়ে সহ-জামানত উদ্ধারে নিয়োজিত করতে হবে, এবং সফল উদ্ধারের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দশ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা যায়।
২০০২ সালে যখন রাইট অফ করার রীতি প্রবর্তিত হয়েছিল তখন থেকে বেশ কিছু বছর ধরে ব্যাংকগুলো ’প্রভিশনিং শর্টফল’ সমস্যায় ভুগেছিল, মানে রাইট অফ করা ঋণের শতভাগ প্রভিশনিং করলে ঐসব ব্যাংকের ঋণ প্রদানের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছিল। তাই, যত মন্দঋণ রাইট অফ করা প্রয়োজন ছিল ততটুকু ঐসব ব্যাংক করতে পারেনি। এর মূল কারণ ছিল: ক্লাসিফাইড লোনের (শ্রেণিকরণকৃত ঋণের) প্রায় ৮৫-৮৭ শতাংশই ঐ সময়ে ছিল মন্দঋণ, এবং ঐ মন্দঋণের ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে খেলাপি মন্দঋণ। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ মন্দঋণ ছিল সত্তর এবং আশির দশকে জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রদত্ত ঋণ। ১৯৯৮ সালে আমি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর মহাপরিচালক হিসাবে ডেপুটেশনে যোগদানের পর এই বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকল্প শুরু করার পর সমস্যার গভীরে যাওয়ার সুযোগ পাই। আমাদের গবেষণা প্রকল্পের জরিপের ফলাফল ১৯৯৯ সালে একটি জাতীয় সেমিনারে উপস্থাপনের পর রিপোর্টে উল্লিখিত কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেমিনারের পরের দিনের (২০ মে ১৯৯৯) সকল দৈনিক পত্রিকার হেডলাইন ছিল ঐ গবেষণার উদঘাটিত ফলাফল। ১৯ মে’র বিবিসি সান্ধ্য খবরের হেডলাইনে যখন ৭৭ শতাংশ ঋণখেলাপী রাজনীতিকে ব্যবহার করে ঋণ পাওয়ার খবরটা ফাঁস হয়ে যায় তখন এটা নিয়ে খোদ সংসদে জোরালো বিতর্কের অবতারণা করেছিলেন তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলশ্রুতিতে আমাদের গবেষণা ভন্ডুল করার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। বেশ কিছুদিন গবেষণা বন্ধ রাখার পর গবেষণা-পদ্ধতি পরিবর্তন করে বহু বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালে গবেষণাটি সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়েছি আমরা। কিভাবে এদেশে রাজনীতিকে ব্যবহার করে এই রাঘববোয়াল ঋণখেলাপীরা মোটাদাগের ঋণ বাগিয়ে তা আর পরিশোধ না করার ‘কালচার’ সৃষ্টি করেছে তার প্রামাণ্য দলিল হিসাবে আমার এবং মহিউদ্দিন সিদ্দিকীর রচিত ২০১০ সালে প্রকাশিত এ প্রোফাইল অব ব্যাংক লোন ডিফল্ট ইন দ্য প্রাইভেট সেক্টর ইন বাংলাদেশ দেশে-বিদেশে বহুল আলোচিত একটি বই। বইয়ে বাংলাদেশের ১২৫টি শীর্ষ ঋণখেলাপী প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল উদঘাটিত হয়েছে। বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে দেশের ৩১ জন ‘স্টার ঋণখেলাপীর’ কেইস স্টাডি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে দেশের বাঘা বাঘা ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও শিল্পপতিদের বিশাল বিশাল ব্যাংকঋণ হজম করে ফেলার চাঞ্চল্যকর কাহিনী বিবৃত হয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের অনেক নেতার এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতা-ধন্য অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীর আসল চেহারাটা উন্মোচিত হয়েছে এসব কেইস স্টাডিতে। এই কাহিনীগুলোকে দেশের বরেণ্য অর্থনীতিবিদ প্রফেসর আনিসুর রহমান ‘হেয়ার রেইজিং স্টরিজ’ বলে অভিহিত করেছেন বইটির মুখবন্ধে।
তিন বছর বিআইবিএম-এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনের কারণে এবং বিশেষত খেলাপি ঋণ নিয়ে গবেষণাটি করার কারণে এই বিষয়ে প্রকৃত সমস্যা সম্পর্কে আমার গভীর জ্ঞানলাভের সুযোগ হয়েছে। ১৯৯৮ সালে বিআইবিএম আয়োজিত প্রথম নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেছিলেন তদানীন্তন মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। তাঁর বক্তৃতায় তিনি প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ দশ ঋণখেলাপীকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য ঋণখেলাপী ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু, সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। ১৯৯৯ সালে আবার একই প্রস্তাব করেছিলেন দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রয়াত বিচারপতি হাবিবুর রহমান, সরকার সাড়া দেয়নি। বরং, একটি সেমিনারে আমার এ-সংক্রান্ত বক্তব্যের জবাবে তদানীন্তন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ কিবরিয়া আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে অদূর ভবিষ্যতে দেশে দেউলিয়া আদালত প্রতিষ্ঠা করা হলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু, এরপর দেউলিয়া আদালত আইন পাশ হলো, প্রথম দেউলিয়া ঘোষিত হলেন এরশাদ সরকারের এককালীন প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী। তিনি তড়িঘড়ি করে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে আবার আওয়ামী লীগে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়াতে ঐ সম্পর্কে তাঁর মৃত্যুর আগে আর কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। আরো দুর্ভাগ্য, বেগম জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেউলিয়া আদালতে আর কোন মামলার রায়ও ঘোষিত হয়নি। আঠার বছর ধরে ঐ আদালত ঘুমিয়ে আছে!
আমার জানামতে ২০১৯ সালেই শেখ হাসিনার সরকার নিষ্ঠার সাথে খেলাপিঋণ আদায়ের জন্যে পদক্ষেপ নিতে চলেছেন। অতএব, এ-পর্যায়ে ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখের উল্লিখিত বিভ্রান্তিকর সংবাদটি সরকারকে ভুলপথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হলো কিনা তা জানা প্রয়োজন।
লেখক : একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর,
অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

x