বাংলাদেশকে গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই টি-টেন লিগে দল কিনেছেন ইয়াছিন

আবুধাবী থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক | শনিবার , ২৭ নভেম্বর, ২০২১ at ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ

মরুর বুকে সোনার দেশ আরব আমিরাত। অর্থ, শৌর্য, প্রতিপত্তির ঝনঝনানি দেশটিতে। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র দেশটি এখন পরিণত হয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের প্রাণকেন্দ্রে। নিজেদের ক্রিকেট ঐতিহ্য মোটেও উল্লেখ করার মত নয়। তবে বিশ্বে দেশটি যেন এখন ক্রিকেটের চারণ ভূমি। একের পর এক ক্রিকেটের বিশ্ব আসর আয়োজন করে আসছে দেশটি। এরই মধ্যে আইপিএলের চাইতেও জমজমাট এবং ব্যয়বহুল ক্রিকেট লিগ আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে দেশটি। এখন চলছে আবুধাবীতে টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টে তারাই খেলে যাদের রয়েছে অর্থের বিশাল পাহাড়। আর সেখানে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের এক সাহসী মানুষ। তার নাম ইয়াছিন চৌধুরী। কেন টি-টেনে দল কিনলেন তিনি। জানালেন বিশ্বব্যাপি ক্রীড়া ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ’ কে একটা গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতেই দল কিনেছেন তিনি। বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির ইমার্জিং টাইগার। কিন্ত ক্রীড়াক্ষেত্রে আমাদের তেমন কোন সাফল্য নাই । তাই ক্রীড়া ক্ষেত্রে ও বৈশ্বিক সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে সেজন্যই মূলত আমি এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ হই। বাংলা টাইগার্সই বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ফ্রাঞ্চাইজি টিম, যা নিয়মিত একটা গ্লোবাল ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে। বর্তমানে টি টেন লিগের দর্শক সংখ্যা ৪০০ মিলিয়ন। অনেক নন ক্রিকেটিং দেশে ও মানুষ এখন এই লিগ দেখে। এর প্রধান কারণ ম্যাচের দৈর্ঘ্য। মাত্র ১০ ওভারের ম্যাচ হওয়ায় ক্রিকেট এখন অনেক বেশি উত্তেজনাময়। এছাড়াও আরব আমিরাতে বাংলাদেশের অসংখ্য শ্রমিক বসবাস করে, তাদের বিনোদনের তেমন কোন ব্যবস্থা নাই। দৈনন্দিন জীবনে তাদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ এনে দিতে এই টুর্নামেন্টে দল নিয়েছি। আর ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটা খেলা নয়। ক্রিকেট আমার প্যাশন।একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে বিগত প্রায় দু’দশক ধরে বাংলাদেশে ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করছি। তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত ও পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য এফএমসি স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছি, যেটি বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার লিগে খেলছে। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষক বা সহ-স্পন্সর হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছি। দেশের ক্রিকেটকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা আমার সবসময় ছিল। সবকিছু মিলিয়ে আমি আবুধাবী টি-টেন লিগে দল নিয়েছি। এবারের টি-টেন লিগে দল নিয়ে বেশ আশাবাদী ইয়াছিন। তার মতে বাংলা টাইগার্স আসরের সবচেয়ে ব্যালেন্সড টিম। দলটির অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসিস। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেরা ৫ জনের ছোট তালিকায় তার নাম ও আছে। দলে আছে জনসন চার্লস, আন্দ্রে ফ্লেচার, ইসুরু উদানার মত অভিজ্ঞ বিধ্বংসী ব্যাটার। তরুণদের মধ্যে হযরতউল্লাহ জাজাই, উইল জ্যাকসের মত ক্রিকেটার আছে। বোলিং এ মোহাম্মদ আমির, জেমস ফকনার, করিম জানাতের সাথে ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার ও হার্ড হিটার বিনি হাওয়েল এর অন্তর্ভূক্তি দলটাকে ব্যালেন্স দলে পরিণত করেছে। তাই আগামী ৪ ডিসেম্বর মরুর বুকে বাঘের গর্জন শুনবে বিশ্ব। এবারের টি-টেন লিগে প্রায় সব দলই সমান। দলগুলোতে ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, ব্রাভো, মরগান, মঈন আলী, ইউসুফ পাঠান, শোয়েব মালিকদের মত ক্রিকেটার খেলছে। যেহেতু এটি দশ ওভারের খেলা কাজেই এখানে যে কেউ যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। তবে নিজের দল নিয়ে বেশ আত্নবিশ্বাসী ইয়াছিন চৌধুরী বলেন প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করার রসদ তার দলে রয়েছে। তিনি দলের কাছে সেরাটা প্রত্যাশা করেন। প্রায় দুই দশক ধরে ক্রিকেটের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখা ইয়াছিন চৌধুরী চান তৃণমূল ক্রিকেটার তুলে এনে তাদের পরিচর্যা করতে। তার ক্লাব এফএমসি স্পোর্টসের অনেক ক্রিকেটার এখন জাতীয় পর্যায়ে খেলছে। একটি ক্রিকেট একাডেমি গড়ে সেখান থেকে মান সম্পন্ন ক্রিকেটার তৈরি করাই তার লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্যে তিনি যুক্ত করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে। তিনি সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে ক্রিকেট একাডেমি গঠন করতে চান। যা হবে প্রথমে চট্টগ্রামে। পরে দেশের অন্যান্য জেলায়। একাডেমির ক্রিকেটারদের দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলতে চান একজন আদর্শ ক্রিকেটার হিসেবে। যারা পারবর্তীতে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে। এখন সেটাই তার বড় স্বপ্ন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা তাকে পীড়া দেয়। তার মতে ক্রিকেট বোর্ডের টাকা জমিয়ে রেখে লাভ কি? যদি তা ক্রিকেটার তৈরিতে ব্যবহার না হয়। ক্রিকেটকে শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক না করে ছড়িয়ে দিতে হবে সারা দেশে। পাইপ লাইনে ক্রিকেটার না থাকলে দল ভাল হবে না কখনো। বিশ্বের চতুর্থ ধনী ক্রিকেট বোর্ড হলেও বিসিবির নিজস্ব কোন মাঠ নেই। এটা সত্যিই অত্যন্ত দুঃখের। ক্রিকেটারদের জন্য সমস্ত সুযোগ সুবিধা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। তৃণমূল থেকে ক্রিকেটার তৈরির জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে আমাদের ক্রিকেট ক্রমশ পিছিয়ে যাবে। আর সেটা হলে তা হবে একটি টেস্ট প্লেইং দেশের জন্য অত্যন্ত বেদনার এবং হতাশার। তিনি এই অবস্থা থেকে উত্তরন আশা করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাকিবকে ছেড়ে দিচ্ছে কলকাতা!
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম জেলা দাবা বাছাই চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে ৬ দাবাড়ু