সাতকানিয়ায় আ. লীগ-বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১৫

সাতকানিয়া প্রতিনিধি | শুক্রবার , ২৮ জানুয়ারি, ২০২২ at ১১:১১ অপরাহ্ণ

সাতকানিয়ায় নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়ছে সহিংসতা। খাগরিয়ায় গোলাগুলির ঘটনার একদিন পর এবার আমিলাইষে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সারওয়ার উদ্দিন চৌধুরী ও বিদ্রোহী প্রার্থী এইচ এম হানিফ ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

দুই প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছে।

আজ শুক্রবার(২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে আমিলাইষ ইউনিয়নের পূর্ব আমিলাইষ চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের ঘটনার পর বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সারওয়ার উদ্দিন চৌধুরীর বসতঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে।

এ সময় তারা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সন্ধ্যার দিকে পূর্ব আমিলাইষ চরপাড়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সারওয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নির্বাচনী পথসভা চলছিল। এসময় বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান এইচ এম হানিফ মিছিল সহকারে ওই এলাকায় প্রচারণার জন্য যান। তখন উভয়পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

এক পর্যায়ে দুই প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়।

আহতরা হলো নুর হোসেন (৪০), ইসমাঈল (৩৫), নিশাত(৮), আবুল বশর (৭০), মো. হোসেন (৬১), হাবিবুর রহমান (৪৫), গিয়াস উদ্দিন (৪০), হেলাল উদ্দিন (৩০), মোহাম্মদ ইয়াছিন (২২), মোহাম্মদ হাসান (৬২), নুরুল আবছার (৩৫), নাছির উদ্দিন (২৫), মারুফ (২৪), ফারুক (২০) ও নাজিম উদ্দিন(৪৮)।

আহতদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হানিফ বলেন, “আমি গণসংযোগ করার জন্য মিছিল সহকারে চরপাড়ায় যাই। আমরা সেখানে পৌঁছামাত্র আওয়ামী লীগ প্রার্থী সারওয়ার ও তার কর্মী-সমর্থকরা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমার তিন কর্মী আহত হয়েছে।”

এদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সারওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “চরপাড়া এলাকায় আমরা পথসভা করছিলাম। এ সময় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী হানিফের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের দল আমাদের পথসভায় হামলা চালায়। লাঠিসোটা নিয়ে আমার কর্মী-সমর্থকদের বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয় লোকজনের প্রতিরোধের মুখে সেখান থেকে সরে এসে আমার বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় তারা। এমনকি সেখানে টাঙানো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করে। সেখান থেকে যাওয়ার সময় আমার নির্বাচনী অফিসটিও ভেঙে তছনছ করে তারা। তাদের হামলায় আমার ১৪ জন নেতাকর্মী আহত হয়।”

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, “দুই প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো ধরনের অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পূর্ববর্তী নিবন্ধএ যেন উপেক্ষার জবাব
পরবর্তী নিবন্ধ১৯ পদে লড়বেন ৩৯ প্রার্থী