চট্টগ্রামে কেউ সংগ্রহ করেন পুড়ে যাওয়া ও নষ্ট হয়ে যাওয়া সিএনজি টেক্সির কাগজপত্র। কেউ ওই কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে চুরি করেন নতুন ও পুরাতন সিএনজি টেক্সি। পরে চুরি করা ওই গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে একজন পাল্টে দেন ইঞ্জিন-চেসিস নম্বর। তাতে লাগিয়ে দেন নষ্ট সিএনজি টেক্সির ইঞ্জিন-চেসিস নম্বর। এরপর সংগ্রহ করা নষ্ট গাড়ির কাগজপত্র দিয়ে বাজারজাত ও ভাড়ায় দেন চুরি হওয়া গাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এ অভিনব কায়দায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চোরাই সিএনজি টেক্সি সংগ্রহ করে বেচাকেনা চলছে চট্টগ্রামে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী জেলায় টেক্সি চুরির কয়েকটি দল সক্রিয় আছে। যারা টেক্সি চুরি করে মালিকের কাছে টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা পেলে অটোরিকশা ফেরত দেয়। অন্যথায় সেগুলো বিক্রি করে দেয় গ্যারেজ মালিকদের কাছে। চোরাই সিএনজি টেক্সি চক্র নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন কোতোয়ালী থানার বর্তমান ওসি নেজাম উদ্দীন। তিনি আজাদীকে বলেন, বিভিন্ন সময় অভিযানে সিএনজি টেক্সি চুরি এবং কেনাবেচা চক্রের সদস্যরা ধরা পড়ে। আবার জামিনে এসে পুরনো পেশায় ফিরে যায়। এর ফলে পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না এ অপরাধ। তিনি বলেন, এই চক্রের সাথে কিছু গ্যারেজ মালিক, মোটর পার্টস ব্যবসায়ী এবং বিআরটিএর দালালও জড়িত আছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় টেক্সি চুরি হলেও মালিকরা তা পুলিশকে না জানিয়ে নিজেরা টাকার মাধ্যমে সমঝোতা করে ফিরিয়ে নেয়। যারা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তাদের গাড়িগুলো অনেক সময় বেহাত হয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, চোরাই টেক্সি কেনার পর গ্যারেজে নিয়ে যন্ত্রাংশ খুলে ফেলা হয়। সেখানে ইঞ্জিন, চেসিস নম্বর পাল্টে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর লাগানো হয়। পরে সুবিধামতো সেগুলো এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর নগরীর বাকলিয়া থেকে সিএনজি চোর চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে ৭টি চোরাই সিএনজি টেক্সি উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব জানায়, নগরীর বাকলিয়া এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে সিএনজি টেক্সি তল্লাশি চালানো হয়। এসময় চোর চক্রের ৬ সদস্য নতুন ব্রিজ হয়ে কিছু সংখ্যক চোরাই সিএনজি নিয়ে চান্দগাঁও যাচ্ছিলো। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা র্যাবের সদস্যরা গাড়ি থামাতে সংকেত দেয়। চোর চক্রের সদস্যরা সংকেত দেখে চোরাই সিএনজিগুলো চেকপোস্টের সামনে রেখে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে তাদের আটক করে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সিএনজি চুরি করে ওই সিএনজির গায়ে নকল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছে।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর নগরীতে বাকলিয়া বৌ-বাজার এলাকা থেকে চুরি যাওয়া দুটি সিএনজিসহ মো. নুর নবী (৪৮) নামে চোর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বায়েজিদ থানা পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যে বাকলিয়া ও খুলশী আমবাগান এলাকা থেকে চোরাই যাওয়া দুটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়।
১১ আগস্ট নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সিএনজি টেক্সি চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৬টি সিএনজি টেক্সি। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চোরেরা সিএনজি টেক্সি চুরির পরে সেই টেক্সির ইঞ্জিন চেসিস নম্বর, গাড়ির রং বদলিয়ে ভুয়া কাগজ বানিয়ে বিক্রি করতো অন্যজনের কাছে। এরপর সেই গাড়ি দাপিয়ে বেড়াতো সড়ক জুড়ে।












