নতুন ‘জঙ্গি’ দলের আরও ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

কারাগারের ভেতরেই হয় সংগঠনের পরিকল্পনা

| শুক্রবার , ২৮ অক্টোবর, ২০২২ at ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার’ সঙ্গে জড়িত আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। বুধবার রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে মো. আব্দুল্লাহ (২২), মো. তাম্বুল ইসলাম (৩৩), মো. জিয়াউদ্দিন (৩৭), মো. হাবিবুল্লাহ (১৯) এবং মো. মাহামুদুল হাসানকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয় বলে ইউনিট প্রধান মো. আসাদুজ্জামান জানান। তবে এ দলটির নেতা শামীম মাহফুজকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান বলেন, তাদের দলনেতা শামীম মাহফুজকে গ্রেপ্তার করা গেলে এই সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্য জানা যাবে। সমপ্রতি সংগঠনটির বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জানা যায়, সংগঠন তৈরির পুরো পরিকল্পনাই হয় কারাগারের ভেতর। খবর বিডিনিউজ/বাংলানিউজের।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিটিটিসি জানতে পারে, বিভিন্ন সময় জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিজরতের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়েছিলেন তারা। গ্রেফতার আব্দুল্লাহ আনসার হাউস পরিচালনা করতেন। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব সদস্য হিজরতের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে বের হয়ে আসতেন, তাদের আনসার হাউজে জায়গা দিতেন তিনি। পরে সেই আনসার হাউস থেকে নতুন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হতো পার্বত্য অঞ্চলে। যেসব সদস্যরা আনসার হাউজে আসতেন তাদের রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে রিসিভ করতেন তাজুল ও হাবিবুল্লাহ। সিটিটিসির এ কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর আগস্টে কুমিল্লা থেকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে এক যোগে সাত তরুণ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান হিজরতের উদ্দেশ্য। পরে এ বিষয়ে তদন্তের ধারাবাহিকতায় আবরার নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়। ডাক্তার শাকের বিন ওয়ালী নামে এক জঙ্গি আবরারকে হিজরতের জন্য ঘর থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন। এরপর শাকেরকেও আমরা গ্রেফতার করি।

তিনি এ নতুন জঙ্গি সংগঠনের দাওয়া বিভাগের প্রধান। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পড়াশোনা করেছেন শাকের। তিনি জঙ্গি সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও আরেক হুজুরের নির্দেশে তরুণদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করা কাজ করতেন। শাকের বিন ওয়ালি প্রতি মাসে একবার পার্বত্য বান্দরবান এলাকায় নতুন জঙ্গি সংগঠনটির প্রশিক্ষণ শিবিরে গিয়ে অসুস্থ সদস্য বা কেউ কোনো রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা দিতেন। ঢাকা অবস্থানের সময় তিনি সংগঠনটিন প্রধান শামিন মাহফুজ ওরফে স্যারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখতেন। ফোনে সদস্যদের অসুস্থতার লক্ষণ শুনে ব্যবস্থাপত্র পাঠাতেন শাকের। এছাড়া জঙ্গি সংগঠনটির সঙ্গে প্রশিক্ষণ শিবিরে থাকা পাহাড়ি সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি চিনের সদস্যরা আহত হলে তাদেরও সেখানে গিয়ে চিকিৎসা দিতেন।

শাকেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মহসিন এলায়েস ওরফে রিয়েল নামে আরও এক ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে নতুন জঙ্গি সংগঠনটির একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে কাজ শুরু করেন। একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে চাকরিও করতেন তিনি। ডাক্তার শাকের দুদিন আগে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখান থেকে জানা গেছে, নতুন সংগঠনটির প্রথম আমির মাইনুল ইসলাম ওরফে রক্সি। ২০২১ সালের আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর সিটিসিটি তাকে গ্রেফতার করে। তাকে সমপ্রতি রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে জানান সিটিটিসি প্রধান। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শামিন মাহফুজ ওরফে স্যার নামে এক ব্যক্তি সংগঠনের মূল মাস্টার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধউন্নয়নশীল দেশের মানব সম্পদের বিকাশ ও ফেসবুক সংস্কৃতি
পরবর্তী নিবন্ধআইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক পথে