আদালত পাড়া এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি চন্দন দাশ। গতকাল চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি এ জবানবন্দি দেন। এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ আসামি চন্দন দাশকে আদালতে হাজির করে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম দৈনিক আজাদীকে বলেন, আদালত থেকে চন্দন দাশের জন্য আমরা ৬ দিনের রিমান্ড পেয়েছিলাম। আমরা তাকে চারদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এর মধ্যে তিনি জবানবন্দি দিবেন এমন ইচ্ছার কথা জানালে তাকে আজকে (গতকাল) আদালতে হাজির করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন। খুনে তিনি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এ জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনের মামলায় গত ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে চন্দন দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে বিচারক ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের দিন একটি ছবিতে যে ব্যক্তিকে কিরিচ হাতে দেখা গেছে, তিনিই চন্দন। তিনি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কোপানো হচ্ছে এমন একটি ভিডিওতেও চন্দন দাশকে শনাক্ত করা গেছে। প্রসঙ্গত, নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত ২৫ আগস্ট ঢাকা থেকে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন তথা ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে তখন একটি আবেদন করেন। শুনানি শেষে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলাম জামিন না–মঞ্জুর করে চিন্ময়কে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ যখন চিন্ময়কে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাবে তখন আগে থেকে জড়ো হওয়া তার অনুসারীরা প্রিজন ভ্যানের গতিরোধ করেন এবং প্রিজন ভ্যানের সামনে পিছে শুয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা পর লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানকে কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা আদালত পাড়ায় ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর করে। শুরু হয় সংঘাত। এক পর্যায়ে আদালতের প্রবেশ গেটের অদূরে খুন হন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালী থানায় ৬টি ও আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়। পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ৭৯ জনের নামে তিনটি, আলিফের বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নামে একটি ও তার ভাই বাদী হয়ে ১১৬ জনের নামে একটি ও মোহাম্মদ উল্লাহ নামের এক ব্যবসায়ী ২৯ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া সর্বশেষ মো. এনামুল হক নামের একজন বাদী হয়ে ১৬৪ জনের নামে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত সেটি কোতোয়ালী থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।












