৫ বছরেও শুরু হয়নি বিচার

সাতকানিয়ার হাশেম হত্যা ।। দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির দাবি

সবুর শুভ

মঙ্গলবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ

সাতকানিয়ায় আলোচিত হাশেম হত্যা মামলাটি ক্রোকি পরোয়ানার বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর পার হল। একই ঘটনার সূত্র ধরে হত্যা মামলার বাদীকে (ভিকটিমের বড়ভাই) অপহরণের পর হত্যাচেষ্টা মামলাটিও ৪ বছর হয়ে গেল। মামলার নথি এখনও সাতকানিয়া আমলী আদালতে। বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়নি এখনো। আলোচিত মামলা দু’টির দু’বার তদন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে। জারি হয়ে আছে ক্রোকি পরওয়ানা। কিন্তু সাতকানিয়া থানা পুলিশের তরফে সেই ক্রোকি পরোয়ানা তামিলের কোনো প্রতিবেদন এখনো আদালতে আসেনি বলে জানালেন মামলার বাদী আবুল কাশেম।
দীর্ঘ ৫ বছর ধরে হাশেম হত্যা মামলা ও ৪ বছর ধরে বাদী কাশেম হত্যাচেষ্টা (অপহরণের পর) মামলা ‘বিচার শুরুর’ বৃত্তেই ঘুরপাক খাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন আবুল কাশেম। একইসাথে সাতকানিয়া থানার চাঞ্চল্যকর মামলা দুটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্যও আবেদন করেছেন তিনি।
মামলার এজাহার ও চার্জশীট থেকে জানা গেছে, সাতকানিয়ার বাজালিয়ার ইউনিয়নের মাহালিয়া গ্রামের একটি মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা নির্মাণের ওয়াকফকৃত ভূমির মালিকানা নিয়ে এলাকার আমিনুর রহমানের পরিবারের সাথে মসজিদ কমিটির বিরোধ হলে স্থানীয় গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি হয়। এরপরও ওয়াকফকৃত ভূমি দখলকালে মসজিদ কমিটির লোকজন তদের বাধা দেন। এসময় আমিনুর রহমানের লোকজন পূর্বপরিকল্পিত ভাবে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু মুছা, সেক্রেটারি ও দাতা সদস্য আবুল হাশেমের ওপর লোহার রড এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে দিন দুপুরে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে মাথায় মারাত্মক আহত আবু মুছা ও আবুল হাশেমকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসায় কমিটির সভাপতি আবু মুছা সিকদার কিছুটা সুস্থ হয়ে ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি সাতকানিয়া থানায় ১৭ জনকে আসামি করে মামলা (যার নং ১৪, তাং ১১-০১-১৫) দায়ের করেন। অন্যদিকে হামলায় মারাত্মক আহত আবুল হাশেম চমেক হাসপাতালে লাইফসাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হয়। থানা পুলিশের এসআই ফজলুল হক প্রথম হত্যা মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর এজাহারে থাকা ১৭ আসামির মধ্যে ৭ জনকে বাদ দিয়ে ১০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। বাদীপক্ষ চাজশীটের ক্রটি বিচ্যুতির উল্লেখ করে নারাজি পিটিশন দিলে আদালত তা মঞ্জুর করে মামলাটি সম্পূরক চার্জশীট দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশনা দেন। এরই প্রেক্ষিতে পিবিআই পরিদর্শক ওমর ফারুক হত্যা মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে থানা পুলিশের চাজশীটভুক্ত ১০ জনসহ এজাহারের ১৪ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর আদালতে সম্পূরক চার্জশীট দাখিল করেন। এ চার্জশীটের বিরুদ্ধেও বাদীপক্ষ নারাজি পিটিশন দিলে আদালত দরখাস্ত শুনানি শেষে ১৭ আসামির মধ্যে ১ জন ছাড়া বাকি সব আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন বিচারক। পরে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ক্রোকি পরওয়ানা ইস্যু হয় আদালত থেকে। এ পর্যন্ত পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এজাহার ও চার্জশীটভুক্ত ৮ আসামি জামিন লাভ করেন। তারা হলেন, আমিনুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, মাশুকুর রহমান মাহাফুজ, হারুন রশিদ, বজল রশিদ, জাফর আহমদ ও আনোয়ার প্রকাশ মানিক। অপর ৬ আসামি সোলাইমান, রাশেদ হোসেন, তৌহিদুর রহমান, জাকারিয়া ও সেলিম পলাতক রয়েছেন। হত্যা মামলার প্রধান আসামি মুজিবুর রহমান গতমাসে কোর্ট আত্মসমর্পণ করে কারাগারে আছেন বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী।
এদিকে মামলার এ দীর্ঘ পরিক্রমায় পলাতক আসামিরা মামলা প্রত্যাহারে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে বাদী আবুল কাশেম বলেন, আমার ছোটভাই হত্যার বিচার চাওয়ায় হত্যা মামলার পলাতক আসামি রাশেদ, তৌহিদ ও আসামি জাফরের ছেলে দেলোয়ার হোসেনসহ আরো কয়েকজন ২০১৬ সালের ৯ জানুয়ারি আমাকে অপহরণপূর্বক হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে। এ ঘটনায় অপহরণ আইনে আমি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছি। এ মামলাটিও প্রথম আইও সাতকানিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নাজমুল হক ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর চাজশীট দাখিল করেন। পরে এ মামলার বিভিন্ন ক্রটি বিচ্যুতির সংশোধন করে সাতকানিয়া থানার এসআই এহসান হাবীব গত ২৫ নভেম্বর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তৌহিদুর রহমান, রাশেদ হোসেন ও হত্যা মামলার আসামি জাফরের ছেলে দেলোয়ার হোসেন দেলুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশীট দাখিল করেন। এ মামলারও একই অবস্থা বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী আবুল কাশেম।

x