৩ জনকে আসামি করে ২ মামলা

চবির আবাসিক হলে আগ্নেয়াস্ত্র ।। আটক তরুণীকে অভিভাবকের জিম্মায় ছাড়

চবি প্রতিনিধি

বুধবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
24

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই আবাসিক হল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ৩ ছাত্রলীগ কর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলাগুলো দায়ের করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। পরে গতকাল মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে শাহজালাল হল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের মোফাজ্জল হায়দার মোফাকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এ মামলার বাদী হন হাটহাজারী থানার উপ-পরিদর্শক অজয় পাল। মোফা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সিক্সটি নাইন গ্রুপ ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মনছুর আলমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া সোহরাওয়ার্দী হল থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পদার্থবিদ্যা বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের নিয়াজ আবেদীন পাঠান এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যার ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের সাইফুল ইসলামকে আসামি করে আরও একটি মামলা করা হয়। এ মামলার বাদী হন থানার উপ-পরিদর্শক জালাল উদ্দিন। এ মামলার আসামি ২ জনই শাখা ছাত্রলীগের একাকার গ্রুপ ও সাবেক উপ-সাহিত্য সম্পাদক ইমাম উদ্দিন ফয়সাল পারভেজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ২ মামলার ৩ আসামিকে দণ্ডবিধির ১৯ এর ধারায় অভিযুক্ত করা হয়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের অতিথি কক্ষ থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় বহিরাগত এক তরুণীকে আটকের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের খাইরুল ইসলামকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর ওই তরুণীকে অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। খাইরুল শাখা ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্রুপ ও সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, আটকদের যাছাই বাছাই করে ৩ জনের নামে ২টি মামলা করা হয়েছে। বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই বহিরাগত তরুণীকে তার বাবার জিম্মায় ও তার বন্ধু খাইরুলকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে ‘রহস্যজনক’ কারণে হল তল্লাশির সময় আটক বহিরাগত তরুণী ও তার বন্ধু ছাত্রলীগ কর্মীকে ছেড়ে দেয়ায় পুলিশের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সাথে মধ্যরাতে হলে বহিরাগত তরুণীর প্রবেশ- হলের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই তরুণীর হলে প্রবেশকে ‘অপরাধ’ হিসেবেই দেখছে। এ বিষয়ে প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে তল্লাশি অভিযানের পরে আইননানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। এছাড়া হলের ঘটনায় নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলের প্রভোস্টকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. বশির আহাম্মদ আজাদীকে বলেন, আবাসিক হলের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী মো. জিয়াউল হক ও মো. ইউনুছকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের জবাবের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

x