২ চালক ১ সহকারীর যাবজ্জীবন

রাজধানীতে অতিরিক্ত গতির বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আজাদী অনলাইন

রবিবার , ১ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
116

রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর দেড় বছরের মাথায় ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ দুই চালক এবং একজন সহকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ওই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলন শুরু হয় তখন।

এ দুর্ঘটনায় জাবালে নূর পরিবহনের দুই চালক এবং একজন সহকারীকে আজ রবিবার (১ ডিসেম্বর) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত; খালাস পেয়েছেন এক বাসের মালিকসহ দুইজন। বিডিনিউজ

দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় ‘অপরাধজনক নরহত্যার’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বাসচালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং হেলপার কাজী আসাদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ধারায় এটাই সর্বোচ্চ সাজা।

দণ্ডিত এই তিন আসামির মধ্যে পলাতক কাজী আসাদ বাদে বাকি দু’জন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জাবালে নূরের একটি বাসের মালিক জাহাঙ্গীর আলম ও হেলপার এনায়েত হোসেনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে রায়ে।

জাবালে নূরের আরেক বাসের মালিক শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।

চালক মাসুম বিল্লাহর বাসটি গত বছরের ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের উপরে উঠে গেলে নিহত হয় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব; আহত হয় আরও কয়েকজন। ওই বাসটির মালিক শাহাদাত।

মিম ও রাজীবের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনে এক সপ্তাহ অচল ছিল ঢাকার সড়ক, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলায়। শিক্ষার্থীদের সব দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে হয় সরকারকে।

শিক্ষার্থীদের দাবিতেই সংসদে পাস হয় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সড়ক পরিবহন আইন যা কার্যকর হয়েছে গত ১ নভেম্বর।

দুর্ঘটনার দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন নিহত মিমের বাবা দূরপাল্লার বাসের চালক জাহাঙ্গীর আলম।

ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

সেখানে বলা হয়, কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে জাবালে নূরের দু’টি বাস পাল্লা দেয়ার সময় একটি এমইএস বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের উপর উঠে যায়। চালক মাসুম বিল্লাহ গাড়ি চালাচ্ছিল বেপরোয়া গতিতে।যাত্রীরা সাবধান করলেও তাদের কথা সে কানে তোলেনি।

তদন্তে জানা যায়, জাহাঙ্গীরের বাসের ফিটনেসের মেয়াদ দুই বছর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ট্যাক্স টোকেনেরও মেয়াদ ছিল না। শাহাদাতের বাসের রুট পারমিটই ছিল না।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয় অভিযোগপত্রে।

ওই বছরের ২৫ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

অভিযোগপত্রের ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন আদালতে এসে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। কারাগারে থাকা চার আসামি গত ৭ অক্টোবর নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে।

দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক রায়ের জন্য ১ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করে দেন।

x