২৮ মার্চ শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক সুফি মিউজিক উৎসব

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ২৫ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
74

‘জীবনের জন্য সংগীত’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুইদিন ব্যাপী ‘৩য় আন্তর্জাতিক সুফি মিউজিক উৎসব’ আগামী বৃহস্পতিবার নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম শুরু হচ্ছে। এবারের উৎসবে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের ৯১জন সুফি ও লোকসংগীত শিল্পী ও সাধক অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিবেন ৫০ জন এবং বাকি ৪১ জন আসবেন ভারত, ইরান, মিশর ও নেপাল থেকে। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
গতকাল নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ৩য় আন্তর্জাতিক সুফি মিউজিক উৎসব পরিষদের সভাপতি ও সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অংশীদারিত্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং ‘হাটখোলা ফাউন্ডেশন’র আয়োজনে অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থাকবে ‘মিডিয়া গ্রাফি’।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকাল সাড়ে ৩ টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং এটি চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। এর পর বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে সুফি ও লোক সংগীতের মূল পর্ব। তখন একে একে সুফি সংগীতের মূর্ছনায় মঞ্চ মাতাবেন আসওয়াদ, ইরানের একটি সুফি মিউজিক টিম, নেপালের কুটুম্বা, ঝুমুর গান করবেন পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী আত্রেয়ী মজুমদার, শিল্পী, শিল্পী ফকির সাহাবউদ্দিন, বাউল শিল্পী সাহাবুল ও ইকবাল হায়দার প্রমুখ।
এছাড়া দ্বিতীয় দিন ২৯ মার্চ সাড়ে তিনটায় শুরু হবে সমাপনী অনুষ্ঠান। এরপর থাকবে সুফি ও লোক গানের উসব। এদিনে সংগীত পরিবেশন করবেন ভারতীয় সুফি শিল্পী কবিতা শেঠ, তানুরা নৃত্য পরিবেশন করবেন মিশরের শিল্পী মোহাম্মদ গারেব, শিল্পী হাসান সিহাবী, ফারজানা করিম ও তার দল এবং দীপঙ্কর দে।
লিখিত বক্তব্যে সিটি মেয়র উৎসবের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, ‘গান ও সুরের মাধ্যমে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করা, যা মানুষের আত্মার অন্যতম খোরাক। উৎসব আয়োজনে যেটি অনুঘটক ও প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তা হল, আধ্যাত্মিক বাউল ও লোক গানের সুরের মাধ্যমে শান্তির বাণী প্রচার যা অনেক ক্ষেত্রে মুখের ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব-যেটি এ উৎসবের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যও বহন করে। মেয়র আরো বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার মূল আদর্শ এবং চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে সমুন্নত রাখা। সে একই আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে স্বাধীনতা অর্জনের এ মাসে উৎসবটি আয়োজিত হতে যাচ্ছে।’
মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রাম নগরীকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, মনোরম ও বসবাসযোগ্য উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সুকুমার বৃত্তি জাগ্রত করা গেলে এ নগরী একদিন জঙ্গিবাদ মুক্ত অন্যতম নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে।
আ.জ.ম নাছির উদ্দীন আরো বলেন, জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আছে বিধায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এবং রূপকল্প ২০৪১ যথাসময়ে বাস্তবায়ন অসম্ভবপর হবে না। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সাথে সাথে সংস্কৃতিমনা, অসাম্প্রদায়িক এবং মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণও জরুরি। দেশব্যাপী সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশের পাশাপাশি চট্টগ্রামেও সংস্কৃতি চর্চার একটি বাতাবরণ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ৩য় আন্তর্জাতিক সুফি উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ইউসুফ মোহম্মদ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, শিল্পী ইকবাল হায়দার, মো. জহিরুল আলম, দাউদ আবদুল্লাহ লিটন, মিডিয়া গ্রাফি’র প্রধান নির্বাহী মিল্টন দাশ বিজয় উপস্থিত ছিলেন।

x