২৩ শতাংশ আদালতে বিচারক নেই

আইনমন্ত্রীর শরণাপন্ন আইনজীবী সমিতি

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ২৮ মার্চ, ২০১৯ at ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
82

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় আদালত আছে ৯০টি। এরমধ্যে ২২ দশমিক ৯০ শতাংশ আদালতেই বিচারক নেই! বিচারকশূন্য আদালতগুলোর অন্যতম ‘দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুানাল’। মামলার দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির জন্যই এ ট্রাইব্যুানালের জন্ম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচারক না থাকায় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তিও এখন চরমে। সাথে বিচারিক কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে বাড়ছে মামলাজটও। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দিয়ে বিচারকহীনতার সমস্যা সমাধান করতে আইনজীবী সমিতি আইনমন্ত্রীর শরণাপন্ন হয়েছে। এ নিয়ে সমিতির পক্ষ থেকে ২০ আদালতে (২২ দশমিক ৯০ শতাংশ)। বিচারক না থাকার কথা উল্লেখ করে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান। এদিকে বিচারক শূণ্যতার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন-বিএইচআরএফ সংগঠনের পরিচালক (অর্গানাইজিং) এডভোকেট জিয়া হাবীব আহ্‌সান বলেন, ‘বিএইআরএফ, চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এডভোকেট এ.এইচ.এম জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি দল বিচারকহীন আদালতের তথ্য অনুসন্ধানে কাজ করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। এ প্রতিবেদনেও বিচারক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। বিচারক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছে মামলার বিপুল সংখ্যক বিচারপ্রার্থী। এতে দ্রুতবিচার নিস্পত্তির মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কাজ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
আইনজীবীরা বলছেন, দূর-দূরান্ত এবং দুর্গম এলাকা থেকে আগত বিচার প্রার্থী জনগোষ্ঠী বিচারক না থাকায় শুধুমাত্র হাজির হয়ে তারিখ পরিবর্তনে বিদায় নিতে হয়, যা খুবই দুঃখজনক। অপরদিকে আদালত-গুলোতে জটে আটকে পড়া মামলার সংখ্যাকে আনুপাতিক হারে হিসাব করলে দেখা যায়, সেখানে প্রয়োজন আরো নতুন আদালত ।
বিচারকহীন আদালতগুলো : তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্নীতি ও চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে আদালতটিতে বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ৭শ’র অধিক মামলা। তাছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা প্রায় আড়াইশ মামলার তদারকি করছে। বিশেষ এ আদালতে এখন চলছে বিচারক সংকট। এ আদালতের বিচারক গত ৭ জানুয়ারি অন্যত্র বদলী হয়ে যাওয়ার পর থেকে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল : অত্যন্ত গুরত্বপুর্ণ একটি আদালত বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্যান্য আদালত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মামলা দ্রুত নিস্পত্তির জন্য বদলী করা হয় । বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালে ও বিচারক শুন্য থাকায় আনুমানিক শতাধিকেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ চাঞ্চল্যকর মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীকে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে বদলি করার পর থেকে এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক সংকট শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিচারক শূন্য থাকার পর গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক হোসনে আরা বেগমকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। কিন্তু কাজে যোগ না দিয়ে তিনি অন্য জায়গায় বদলি হয়ে চলে যান। পরবর্তীতে আবার গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর নরসিংদীর বিচারক মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় । তিনি মাত্র দুই মাস কাজ করার পর গত বছরের নভেম্বরে বদলি হয়ে যান। বর্তমানে এ ট্রাইব্যুনাল রয়েছে বিচারক শূণ্য অবস্থায়।
অন্যান্য : বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুানাল ছাড়াও চট্টগ্রামের আরো ১৮ টি আদালতে রয়েছে বিচারক সংকট । তার মধ্যে জেলা জজশিপের অধীনে দেউলিয়া আদালত, ৩য়, ৪র্থ, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, সন্দ্বীপের সিনিয়র সহকারী জজ, পটিয়া চৌকির আওতাধীন চন্দনাইশ আদালতের সহকারি জজ, পটিয়া চৌকির অতিরিক্ত আদালতের সহকারি জজ, সাতকানিয়া চৌকির অতিরিক্ত আদালতের সহকারি জজ, সাতকানিয়া চৌকির লোহাগড়া আদালতের সহকারি জজ, বাঁশখালী চৌকির সহকারি জজ আদালতগুলোতে রয়েছে বিচারক সংকট।
তাছাড়াও ১ম, ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীনে ২য় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে বিচারক নেই। বিচারক সংকট আদালতগুলোতে প্রায় ২৯ হাজার মামলা আছে।
জানা গেছে, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাজিমউদ্দীন চৌধুরী গত বছর ২২ জুলাই জরুরি ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগ করে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতি, আইন মন্ত্রী, আইন সচিব, বাংলাদেশ বার কউন্সিল বরাবরে এক আবেদন জমা দেন। একই ধারাবাহিকতায় সমিতির বর্তমান সভাপতি এডভোকেট বদরুল আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আইয়ুব খানের নেতৃত্বে আইনজীবী সমিতির বর্তমান কমিটি আবারো জরুরী ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের আবেদন করেছেন আইনমন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে।

x