২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মার্কিন ত্রাণ ভেনেজুয়েলায় ঢুকবে : গুইদো

মাদুরো সরকারকে হুঁশিয়ারি।। মধ্যস্ততায় আগ্রহী জাতিসংঘ মহাসচিব

বৃহস্পতিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ
70

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরোধিতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক ত্রাণ সহায়তা ভেনেজুয়েলায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিরোধী নেতা হুয়ান গুইদো। হাজার হাজার সমর্থকের সামনে গুইদো বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা আসবে। এছাড়া কারাকাসের সমাবেশে মাদুরো বিরোধী নেতা বলেন, দেশ থেকে দখলদার (মাদুরো) চলে যেতে হবে। রাজধানীর সমর্থকদের গুইদো এও বলেন, ভেনেজুয়েলায় ২৩ ফেব্রুয়ারি মানবিক ত্রাণ ঢুকবে। তা না হলে আমাদের তিন লাখ নাগরিক রয়েছেন, যারা না খেয়ে মারা যাবেন। সেইসঙ্গে প্রায় দুই মিলিয়ন লোক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বেন। খবর বিডি/বাংলা/ বাসসের।
এর আগে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পাঠানো হস্তক্ষেপের একটি উপায়। এই ত্রাণ আমরা সমর্থন করবো না। মাদুরোকে উৎখাত করার জন্য গত মাসে গুইদো আন্দোলনের ডাক দেন। সেসময় তিনি নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণাও দিয়ে বসেন। এটাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় ৫০টি দেশ স্বীকৃতিও দিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে ২০টি দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের।
মাদুরো সরকারবিরোধী উত্তাল পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় ত্রাণ পাঠানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে ত্রাণবাহী যান পৌঁছেছে কলম্বিয়া- ভেনেজুয়েলা সীমান্তে। কিন্তু ভেনেজুয়েলায় প্রবেশমুখী তিয়েনদিতাস সেতু কার্গো দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাণ মাদুরো প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে সেনাবাহিনী এ যান ভেনেজুয়েলায় ঢুকতে দিচ্ছে না। এদিকে, রাশিয়া এবং চীন সমর্থিত মাদুরোকে দ্রুত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এ জন্য আল্টিমেটামও দিয়েছিল। দেশটিতে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে হাজার হাজার মানুষ।
মাদুরোর নেতৃত্বাধীন সময়ে তেল সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি হ্রাস পেয়েছে। যার ফলে হাইপারইনফ্ল্যাশন, মন্দা এবং খাদ্য ও ওষুধের মতো মৌলিক দ্রব্যেরও অভাব দেখা দেয় দেশটিতে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ওপেকের সাহায্য চান মাদুরো: এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তার দেশের তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিশ্বের তেল রপ্তানীকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। তেলের দাম এবং ওপেকভুক্ত দেশগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কুপ্রভাব এবং ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে একটি চিঠিতে মাদুরো এর বিরুদ্ধে নিন্দায় সোচ্চার হওয়ার জন্য ওপেককে অনুরোধ জানান।
কিন্তু ‘অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ’ (ওপেক) তার এ অনুরোধে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা রাজনীতি নয় বরং তেল নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ওপেকের মহাসচিব মোহাম্মদ বারকিন্দোর কাছে মাদুরো চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন ২৯ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরদিনই। চিঠিটি হাতে পেয়েছে রয়টার্স।
চিঠিতে মাদুরো লেখেন, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ এবং ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা বর্তমানে যে লড়াই করছি তাতে আমাদের দেশ ওপেক দেশগুলো এবং এর মন্ত্রীদের সম্মেলনের পূর্ণ সংহতি এবং সমর্থন চায়।
ওপেকের একটি সদস্যদেশ হিসাবে ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ তেল সম্পদের ওপর এ ন্যক্কারজনক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সংগঠনের দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে নিন্দা জানানো এবং ভেনেজুয়েলাকে দৃঢ় সমর্থন দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয় চিঠিতে।
সংকট সমাধানে মধ্যস্থতায় আগ্রহী জাতিসংঘ মহাসচিব: জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস সোমবার ভেনিজুয়েলার সংকট নিরসনে আবারো মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠককালে তিনি এ প্রস্তাব দেন। কারাকাসের অনুরোধে নিউইয়র্কে গুতেরেস ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ আরেয়াজার সাথে বৈঠকে বসেন। এদিকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুয়াইদোর মধ্যকার বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটেছে।
জাতিসংঘ দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত দেশটিতে আরো রক্তপাত ও সহিংসতা এড়াতে সমঝোতার ব্যাপারে আন্তরিক হতে উভয়পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজ্যারিক বলেন, ভেনিজুয়েলার জনগণের মঙ্গলের জন্য চলমান বিরোধ মিমাংসার ক্ষেত্রে একটি সমঝোতায় আসতে মহাসচিব উভয়পক্ষের কাছেই তার প্রস্তাব রেখেছেন।

x