২২ জানুয়ারি থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবিরাম ধর্মঘট

শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির মানববন্ধন

সোমবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
134

শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে এমপিওভুক্ত ৯ শিক্ষককর্মচারী সংগঠনের মোর্চা শিক্ষককর্মচারী সংগ্রাম কমিটি জেলা শাখার উদ্যোগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গতকাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের স্কুলকলেজের সহস্রাধিক শিক্ষককর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষককর্মচারীদের একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে শিক্ষক নেতারা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও আর্থিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককর্মচারীদের দাবি পূরণ ও বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে ২২ জানুয়ারি থেকে স্কুল ও কলেজে কর্মবিরতি পালন করার জন্য শিক্ষককর্মচারীদের প্রতি শিক্ষক নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানান।

এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষার ৯৮% দায়িত্ব বেসরকারি স্কুলকলেজ, কারিগরি ও মাদরাসার শিক্ষককর্মচারীগণ পালন করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে সরকারিদের সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষককর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈষম্যের হার প্রায় ৬০%। কিন্তু দু:খের বিষয় শিক্ষামন্ত্রী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের আন্দোলনে নামতে হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের সাথে বেসরকারি শিক্ষকদের অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট। অথচ পাঠদানের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষকরা অধিকাংশ দায়িত্ব পালন করলেও তারা বাড়ি ভাড়া ভাতা পান মাত্র ১ হাজার টাকা এবং উৎসব ভাতা পান ২৫%। একটা উন্নত জাতি গঠন করতে হলে দেশ জাতির স্বার্থেই শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা করতে হবে এবং সে কারণে বেসরকারি শিক্ষককর্মচারীদের ন্যায্য দাবি অবশ্যই পূরণ করতে হবে।

শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও বাশিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি সৈয়দ লকিতুল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিক্ষককর্মচারী সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও বাশিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপদেষ্টা সুনীল চক্রবর্ত্তী, বাকশিস চট্টগ্রাম জেলার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফাউজুল কবির, বাকবিশিস কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক কানাই লাল দাশ। বাশিস চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক অঞ্চল চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাশিস মহানগর সভাপতি নুরুল হক ছিদ্দিকী, উত্তর জেলার সভাপতি রণজিৎ নাথ, দক্ষিণ জেলার সভাপতি তাপস চক্রবর্ত্তী, বাকশিস চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ দবির উদ্দীন খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, বাকবিশিস বিভাগীয় সভাপতি অধ্য আবুল মনসুর মো. হাবিব, জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তড়িৎ কুমার ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (কামরুজ্জামান), চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (ফেডারেশন) এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম জেলার আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শাহ্‌ মো. জিয়াউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক সাহেদা বেগম, বাংলাদেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি নুরুল ইসলাম ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আক্কাস মিয়া প্রমুখ।

শিক্ষককর্মচারী পরিষদের ১১ দফা দাবিগুলো হলোশিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককর্মচারীদের ন্যায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককর্মচারীদের ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান, অনুপাত প্রথা বিলুপ্ত করে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের অনুরূপ প্রদান, শিক্ষককর্মচারীদের পূর্বের ন্যায় টাইম স্কেল প্রদান, বেসকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষককর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষককর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা প্রদানের পরিবর্তে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ পেনশন প্রথা চালু, নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অনার্স ও মাস্টার্স থেকে পাঠদানকারী শিক্ষকসহ বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককর্মচারীদের এমপিওভুক্তকরণ, ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাখাতে জিডিপি’র ৬% এবং জাতীয় বাজেটের ২০% বরাদ্দকরণ, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো যুগোপযোগীকরণ ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের চাকুরি বিধিমালা অবিলম্বে বাস্তবায়ন, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে বেসরকারি শিক্ষকদের ৩৫% প্রেষণে নিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি কারিগরি ও ভোকেশনাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়ন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x