২০ বছর পর দেখা : বিদ্যালয় জুড়ে প্রাণের স্পন্দন

অপু ইব্রাহিম : সন্দ্বীপ

সোমবার , ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ at ৪:০০ পূর্বাহ্ণ
40

‘পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়। ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়…’। যতোই সময়ের চাকা দ্রুত ঘুরুক, স্মৃতিগুলো সব অবগুণ্ঠনে বুকের অতল গভীরে থেকে যায়, নাড়া দিলেই যেন ভোরের শিউলির মতো ঝরে পড়ে।
স্মৃতিগুলোকে গুণ্ঠনমুক্ত করতে, প্রাণবন্ত সেই সোনালি দিনগুলোকে ফিরে পাওয়া, ফিরে দেখার প্রত্যাশায় সন্দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৯ সালের ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ২০ বছর পূর্তি ও মিলনমেলার আয়োজন করে।
বুধবার (১৪ আগস্ট ) সেই পুরনো দিনেরই স্মৃতিচারণে মেতে উঠেন সবাই। সকাল ৮ টার আগেই প্রাক্তন এ শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে স্কুল প্রাঙ্গণ।
সকাল ৯ টায় সকলের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে এনাম নাহার মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। স্মৃতি হাতড়াতে তারা ছুটে এসেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। বিদেশ থেকেও ছুটে এসেছেন অনেকে। আর তাঁরাই যেন ফিরে যান সেই উচ্ছ্বল তারুণ্যভরা দিনগুলোতে। পুরনো সব বন্ধু আর সহপাঠীকে পরস্পর জড়িয়ে ধরে হয়েছেন আত্মহারা। হাতে হাত আর বুকে বুক মিলিয়ে করেছেন কুশল বিনিময়। অনেকে আবার প্রিয় সহপাঠীকে পেয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মোবাইল ক্যামেরায় নিজেদের বন্দি করেন নতুন করে। কেউ কেউ সহপাঠী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা পুরনো সেই সব স্মৃতিকথা ভিড় করে আড্ডা দেওয়ার সব স্মৃতি। প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুনমির্লনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে তাঁরা সবাই ছিলেন স্মৃতি জুড়ে প্রাণের স্পন্দনে উচ্ছ্বসিত।
বিকাল ৪ টার দিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার উপস্থিতিতে কেক কাটা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মিতা বলেন, পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয় একটি গৌরবের নাম। প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠে শিক্ষা গ্রহণ করে এ স্কুলের ছাত্ররা সফলতার সাথে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি সন্দ্বীপের ঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে যাবে বলে আমি আশা করি। জাঁকালো এ আয়োজনে উদ্বোধন করেন পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক বাবু মাখন লাল মজুমদার।
অনুষ্ঠান বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দীন মিশন, পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদের সভাপতি খায়রুল মোস্তফা।
অনুষ্ঠানে ১৯৯৯ ব্যাচের পক্ষ থেকে পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদায়ী শিক্ষক যথাক্রমে রনজিৎ শীল,যতীন্দ্র মোহন দাশ, আবুল কাশেম শিল্পী, আবদুল ওহাব, আবদুল হান্নান ও ফখরুল ইসলাম কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ১৯৯৯ ব্যাচের শাহাদাত হোসাইন মিস্টু সৌদি আরবে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করতে যাচ্ছে, তাই তাকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সালাউদ্দিন বাবু, শাকিল উদ্দিন খোকন, শ্যামল কান্তি রায়, জয়নাল আবেদীন, আবুল হাসনাত রাসেল, সাফায়েত হোসেন, সোহেল রানা, মেহেদী হাসান জিকু, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
৯৯ ব্যাচের ২০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের আহবায়ক শ্যামল কান্তি রায় বলেন, বন্ধুত্বের টানে শৈশবের মধুর স্মৃতিচারণায় ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন এক ব্যতিক্রমধর্মী মিলনমেলার আয়োজন করতে পেরেছি। এ অনুষ্ঠান সফল করার জন্য আমি আমার বন্ধুদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
স্মৃতিতে আপ্লুত হয়ে সালাউদ্দিন বাবু বলেন, এ আনন্দের নাম দিতে পারবো না। শুধু বলতে পারি জীবনের জন্য এমন মিলনমেলা খুবই প্রয়োজন। উদ্যোগ নিয়ে বন্ধুদের একত্রিত করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আমরা শৈশব-কৈশোরের খোঁজে এখানে ছুটে এসেছি, স্বপ্নের দরবারে, স্মৃতির আঙ্গিনায়।
শাকিল উদ্দিন খোকন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ২০বছর পর আমরা প্রাণের বিদ্যাপীঠে আসলাম। পুরোনো বন্ধু ও সহপাঠীদের সাথে দেখা হলো। আজকের এই অনুষ্ঠান আমাকে নতুন করে ফিরিয়ে নিয়ে গেল স্কুল জীবনে।
মেহেদী হাসান জিকু বলেন, বিদ্যালয়ে যখন ছিলাম তখন বুঝিনি আসলে এটি কত প্রিয় জায়গা। এখন প্রতিমুহূর্তে বিদ্যালয়ের স্মৃতিগুলো মিস করি। বন্ধুদের সান্নিধ্যও খুব মনে পড়ে। আজ ব্যাচের সবাই মিলিত হতে পেরে মনে হচ্ছে যেন শৈশবে ফিরে গেছি।
প্রাক্তনদের আবেগ যেন একটু বেশিই ছিল। খুনসুটিতেও কেউ কাউকে ছেড়ে দেননি। তাদের আবেগ-স্মৃতিচারণ-আড্ডা ছুঁয়ে যায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। আর গানের সেই কলি ‘প্রাণ জুড়াবে তাই’ এর মতোই দীর্ঘদিনের পুরনো বন্ধু, সতীর্থ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পেয়ে প্রাণ জুড়িয়েই শেষ হয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

x