‘১৬ ডিসেম্বর রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হবে’

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
0

আসছে ১৬ ডিসেম্বর রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গতকাল শুক্রবার সকালে গাজীপুর শহরের বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘এ বছর ১৬ ডিসেম্বর রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর আগামী জানুয়ারিতেই মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। পরিচয়পত্রের পেছনে তারা কী কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা লেখা থাকবে। তাছাড়া জানুয়ারিতেই মুক্তিযোদ্ধাদের সব কবর একই নকশায় বাঁধাই করার প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বিসিএস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের ভূমিকা নিয়ে লেখা সংযুক্ত করা হবে’।
এ সময় গাজীপুর সিটির মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান উপস্থিত ছিলেন। মেয়র জাহাঙ্গীর মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাঙ মওকুফ, তাদের নামে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ ও তাদের সন্তানদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা দেন। খবর বিডিনিউজের।
একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কয়েকটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামী। তখন যুদ্ধরত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করতে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল। আনসার বাহিনীকে এই বাহিনীতে একীভূত করা হয়েছিল। প্রথমে এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠিত শান্তি কমিটির অধীনে থাকলেও পরে একে আধা সামরিক বাহিনীর স্বীকৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার।
একই রকম আধা সামরিক বাহিনী ছিল আল বদর বাহিনী ও আল শামস বাহিনী। তবে স্বাধীনতাবিরোধী এই বাহিনীগুলো বাংলাদেশে রাজাকার বাহিনী হিসেবেই পরিচিত। প্রায় এক দশক আগে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর রাজাকারের তালিকা তৈরির দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিলেন, রাজাকারের কোনো তালিকা সরকারের কাছে নেই। তবে ১৯৭১ সালে খুলনায় আনসার হেড কোয়ার্টার্সে পাওয়া তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি রাজাকারের তথ্য মিলেছিল। ওই তালিকাটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রয়েছে।

x