১০ বছরে সিডিএকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছি : ছালাম

৩-৪ বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতামুক্ত হবে নগরী

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ২১ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
858

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সিডিএ, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনী এ চার সংস্থা কাজ করছে এ সমস্যার সমাধানে। সামনের বর্ষাও হয়ত জলাবদ্ধতা থেকে আমরা মুক্তি পাচ্ছি না পুরোপুরি। কিন্তু আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতা এ নগরের মানুষদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।” কথাগুলো বলেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। ১০ বছর সিডিএতে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় উপলক্ষে গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় নগরীর ওয়েল পার্ক হোটেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখিত কথাগুলো বলেন।
‘স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে চট্টগ্রাম’ শিরোনামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ১০ হাজার কোটি টাকার কাজের মধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকার কাজ করছে সিডিএ।
তিনি আরো বলেন, উল্লেখিত সংস্থাগুলোর তরফে ৪১টি স্লুইস গেইট করা হচ্ছে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য।
১০ বছরের দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করার আগ মুহুর্তে শুরু হওয়া টানেল ও বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলার ১০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করতে পেরেছি আমরা। সিডিএ’কে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রামবাসীর সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি বলেও উল্লেখ করেন বিদায়ী চেয়ারম্যান। শাহ আমানত সেতু থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। তিনি আরো জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস সেক্টর থমকে আছে। অথচ এ চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ২৫০ গার্মেন্টস মালিকের হাত ধরে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়।
চট্টগ্রামকে বাস্তবিক অর্থে বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি মাথায় রেখে দিল্লি পাবলিক স্কুলকে চট্টগ্রামে আনার ব্যবস্থা করেছি। স্বাস্থ্য সেবায় নতুন দিগন্ত উম্মোচনকে মাথায় রেখে পৃথিবী খ্যাত এ্যাপোলো হাসপাতালকে আমরা জায়গা দিয়েছি। হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে জোরেশোরে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম যদি উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে তার প্রভাব পড়বে পুরো দেশে। মানুষ যাতে বহুমুখী উন্নয়ন সুফল পায় তার জন্য পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে আমাদেরকে।
তিনি বলেন, ৫০ বছরের ইতিহাসে কোন রাজনীতিবিদ হিসেবে সিডিএতে প্রথম নিয়োগ পেয়েছিলাম আমি ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল। এ ১০ বছরের পথচলায় সংবাদকর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছি। এ কারণে আজকে কৃতজ্ঞস্বরুপ আপনাদের সামনে হাজির হওয়া।
তিনি আরো বলেন, আমি জানতাম না কোনদিন সিডিএ চেয়ারম্যান হবো। ধারণা ছিল রাজনীতির মানুষ হিসেবে এমপি হওয়ার। কিন্তু সিডিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে আমাদের যোগ্য মনে করলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এ ১০ বছর উন্নয়নে অগ্রগতিতে, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে রেকর্ডের পর রেকর্ড হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসীকে দিয়েছেন দুইহাতে।
তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সিডিএ’র চেয়ারম্যান হয়ে মানুষের আকাংখা বুঝার চেষ্টা করলাম। বুঝলাম জলাবদ্ধতা নিরসন চট্টগ্রামের মানুষের আকাংখা। স্লোগান দিয়ে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। বাণিজ্যিক রাজধানী করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিলাম।
প্রথম পর্যায়ে স্বল্প বাজেটের প্রকল্পগুলো মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেরিয়ে আসল। খাল খননের ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু সেই দায়িত্বও আমার ঘাঁড়ে এসে পড়ল।
বাণিজ্যিক রাজধানী হয়ে গেলে এখানে বিদেশীরা আসবেন বিনিয়োগ নিয়ে। তারা আসতে বাধ্য। তাদেরকে সুবিধা দিতে না পারলে এখানে আসবে না।
তিনি বলেন, বন্দরবিহীন চট্টগ্রাম মুল্যহীন। চট্টগ্রাম শহরে থাকা আদিকালের ফিডার রোডগুলোতে হাত দিলাম। রোডগুলো প্রশস্ত হল সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে।
নগরীর যানজট নিরসনে ৫টি নতুন রোড নেটওয়ার্কের উন্নয়নের মাধ্যমে ৪৫ কিলোমিটার রোড নেটওয়ার্কের সৃষ্টি করেছি আমরা।
তিনি গার্মেন্টস সেক্টরে পিছিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বলেন, কালুরঘাট এলাকায় দেশ গার্মেন্টস দিয়েই ৮০ সালে চট্টগ্রামে গার্মেন্টস সেক্টরের গোড়াপত্তন হয়।
এক সময়ে চট্টগ্রাম থেকে গার্মেন্টস রপ্তানি হতো ৪০ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ শতাংশে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, বোর্ড সদস্য কে বি এম শাহজাহান, এম আর আজিম, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন শাহ, স্থপতি আশিক ইমরান ও রুমানা নাসরীন প্রমুখ।
এ বিষয়ে সিডিএ’র বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি অবকাঠামো উন্নয়নে হাত দেই। এরপর ফ্লাইওভারসহ ভার্টিক্যাল উন্নয়নে যাই।
তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের উদাহারণ টেনে বলেন, যে কোন টার্গেট পুরণে সততা ও সুযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ দুইটির সমন্বয়ের মাধ্যমে দৃঢ়চিত্ত হয়ে কাজ করলে যে কোন অসাধ্য সাধন হয়। মালয়েশিয়ায় যেটা মাহাথির মোহাম্মদ করে দেখিয়েছে সেটা জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের বেলায় করে দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, অনেক প্রধানমন্ত্রী এসেছেন গেছেন। আবার অনেকে আসবেন যাবেনও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো চট্টগ্রাম দরদী প্রধানমন্ত্রী আর আসবে কিনা আমার জানা নেই। তিনি দুইহাতে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
১০ বছরে কোন ব্যর্থতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি অনুষ্ঠানে বলেন, নিজের ব্যর্থতা নিজে কখনো দেখে না। তবে ব্যর্থতা নামে কোন শব্দ আমার ডিকশনারিতে নেই। জনগণের আস্থা অর্জন করা গেলে কোন ব্যর্থতা থাকে না কাজ করার ক্ষেত্রে।
তিনি বলেন, যতদিন বেঁচে থাকবো কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকার স্বপ্ন নিযে বেঁচে থাকবো। তবে মানুষের ম্যান্ডেট ও সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন কিছু করা সম্ভব নয়।
আগামীতে মেয়র নির্বাচন করবেন কিনা এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, সামনে মেয়র নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব কি করব না তা নির্ধারণ করবেন নেত্রী। কারণ তিনিই আমাকে দিয়ে সিডিএ’র মাধ্যমে মানুষের উন্নয়ন অগ্রগতির সহযাত্রী হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।
নবনিযুক্ত সিডিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ একজন আগাগোড়া ভদ্র ও সৎ মানুষ। একইসাথে দক্ষ সংগঠকও। উনার ক্ষেত্রেও মিডিয়ার সহযোগিতা লাগবে। উনি আরো বেশি গতি নিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন এ বিশ্বাস আমার রয়েছে।
ভবন করার ক্ষেত্রে সিডিএ’র আইন মানার বিষয়ে মানুষের মাইন্ডসেট পাল্টাতে হবে। মাইন্ডসেট পরিবর্তন না হলে কোন কিছুই সম্ভব নয়।
তবে সিডিএ’তে জনবল অনেক কম। ভবন নির্মাণে তদারকি বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ২০০৮ সালে নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী একজন প্রকৌশলী ও আর্কিটেক্টকে দায়িত্ব দেয়া আছে সংশ্লিষ্ট ভবনের নির্মাণ শুরু থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত তদারকি করার।
এদিকে ১০ বছর দায়িত্ব পালনকালে জনগণের সুবিধা বিবেচনা করে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছি। উন্নয়ন কাজের জন্য মানুষ নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে সিডিএকে সহযোগিতা করেছে। এটি অনেক বড় পাওনা। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস জন্মেছে, সিডিএকে জায়গা দিলে প্রাপ্য টাকা মেলে। এটি পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্তদের ধরে রাখতে হবে বলেও মন্তব্য সিডিএ’র এ চেয়ারম্যানের।
তিনি বলেন, ১০ বছরে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরির পাশাপাশি ১০০ কিলোমিটার পুরনো রাস্তা সংস্কার করেছি। পাশাপাশি একাধিক ফ্লাইওভার তৈরি করা হয়েছে। যার সুফলে চট্টগ্রাম এখন যানজটমুক্ত। এখন নগর উন্নয়নের কথা বলছে এ ফ্লাইওভারগুলোও।
তিনি আরো বলেন, বায়েজিদ থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ শেষ হলে শহরে গাড়ির চাপ ৫০ শতাংশ কমে যাবে। উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের গাড়ি শহরে না ঢুকে ওই সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারবে। এছাড়া কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু ও পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত রিং রোডের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের চেহারা পাল্টে যাবে।
বিমান বন্দর থেকে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করতে সময় লাগার কথা ৩০ মিনিট। এখন লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পোশাক রপ্তানি খাতের এমন অবনতি।
তবে বিমান বন্দর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে সিডিএ। এটির কাজ শেষ হলে শহরে আর যানজটের চিহ্ন থাকবে না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি বাড়বে নিঃসন্দেহে।
মতবিনিময় সভার শেষ দিকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আবদুচ ছালাম। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জেনে না জেনে আপনাদের হয়ত অনেক কষ্ট দিয়েছি। হাতজোড় করে বলছি, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আপনারা আমার সব কর্মকাণ্ড ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।আজাদী প্রতিবেদন ম

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সিডিএ, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনী এ চার সংস্থা কাজ করছে এ সমস্যার সমাধানে। সামনের বর্ষাও হয়ত জলাবদ্ধতা থেকে আমরা মুক্তি পাচ্ছি না পুরোপুরি। কিন্তু আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতা এ নগরের মানুষদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।” কথাগুলো বলেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। ১০ বছর সিডিএতে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় উপলক্ষে গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় নগরীর ওয়েল পার্ক হোটেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখিত কথাগুলো বলেন।
‘স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে চট্টগ্রাম’ শিরোনামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ১০ হাজার কোটি টাকার কাজের মধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকার কাজ করছে সিডিএ।
তিনি আরো বলেন, উল্লেখিত সংস্থাগুলোর তরফে ৪১টি স্লুইস গেইট করা হচ্ছে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য।
১০ বছরের দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করার আগ মুহুর্তে শুরু হওয়া টানেল ও বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলার ১০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করতে পেরেছি আমরা। সিডিএ’কে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রামবাসীর সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি বলেও উল্লেখ করেন বিদায়ী চেয়ারম্যান। শাহ আমানত সেতু থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। তিনি আরো জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস সেক্টর থমকে আছে। অথচ এ চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ২৫০ গার্মেন্টস মালিকের হাত ধরে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়।
চট্টগ্রামকে বাস্তবিক অর্থে বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি মাথায় রেখে দিল্লি পাবলিক স্কুলকে চট্টগ্রামে আনার ব্যবস্থা করেছি। স্বাস্থ্য সেবায় নতুন দিগন্ত উম্মোচনকে মাথায় রেখে পৃথিবী খ্যাত এ্যাপোলো হাসপাতালকে আমরা জায়গা দিয়েছি। হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে জোরেশোরে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম যদি উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে তার প্রভাব পড়বে পুরো দেশে। মানুষ যাতে বহুমুখী উন্নয়ন সুফল পায় তার জন্য পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে আমাদেরকে।
তিনি বলেন, ৫০ বছরের ইতিহাসে কোন রাজনীতিবিদ হিসেবে সিডিএতে প্রথম নিয়োগ পেয়েছিলাম আমি ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল। এ ১০ বছরের পথচলায় সংবাদকর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছি। এ কারণে আজকে কৃতজ্ঞস্বরুপ আপনাদের সামনে হাজির হওয়া।
তিনি আরো বলেন, আমি জানতাম না কোনদিন সিডিএ চেয়ারম্যান হবো। ধারণা ছিল রাজনীতির মানুষ হিসেবে এমপি হওয়ার। কিন্তু সিডিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে আমাদের যোগ্য মনে করলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এ ১০ বছর উন্নয়নে অগ্রগতিতে, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে রেকর্ডের পর রেকর্ড হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসীকে দিয়েছেন দুইহাতে।
তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সিডিএ’র চেয়ারম্যান হয়ে মানুষের আকাংখা বুঝার চেষ্টা করলাম। বুঝলাম জলাবদ্ধতা নিরসন চট্টগ্রামের মানুষের আকাংখা। স্লোগান দিয়ে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। বাণিজ্যিক রাজধানী করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিলাম।
প্রথম পর্যায়ে স্বল্প বাজেটের প্রকল্পগুলো মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেরিয়ে আসল। খাল খননের ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু সেই দায়িত্বও আমার ঘাঁড়ে এসে পড়ল।
বাণিজ্যিক রাজধানী হয়ে গেলে এখানে বিদেশীরা আসবেন বিনিয়োগ নিয়ে। তারা আসতে বাধ্য। তাদেরকে সুবিধা দিতে না পারলে এখানে আসবে না।
তিনি বলেন, বন্দরবিহীন চট্টগ্রাম মুল্যহীন। চট্টগ্রাম শহরে থাকা আদিকালের ফিডার রোডগুলোতে হাত দিলাম। রোডগুলো প্রশস্ত হল সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে।
নগরীর যানজট নিরসনে ৫টি নতুন রোড নেটওয়ার্কের উন্নয়নের মাধ্যমে ৪৫ কিলোমিটার রোড নেটওয়ার্কের সৃষ্টি করেছি আমরা।
তিনি গার্মেন্টস সেক্টরে পিছিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বলেন, কালুরঘাট এলাকায় দেশ গার্মেন্টস দিয়েই ৮০ সালে চট্টগ্রামে গার্মেন্টস সেক্টরের গোড়াপত্তন হয়।
এক সময়ে চট্টগ্রাম থেকে গার্মেন্টস রপ্তানি হতো ৪০ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ শতাংশে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, বোর্ড সদস্য কে বি এম শাহজাহান, এম আর আজিম, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন শাহ, স্থপতি আশিক ইমরান ও রুমানা নাসরীন প্রমুখ।
এ বিষয়ে সিডিএ’র বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি অবকাঠামো উন্নয়নে হাত দেই। এরপর ফ্লাইওভারসহ ভার্টিক্যাল উন্নয়নে যাই।
তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের উদাহারণ টেনে বলেন, যে কোন টার্গেট পুরণে সততা ও সুযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ দুইটির সমন্বয়ের মাধ্যমে দৃঢ়চিত্ত হয়ে কাজ করলে যে কোন অসাধ্য সাধন হয়। মালয়েশিয়ায় যেটা মাহাথির মোহাম্মদ করে দেখিয়েছে সেটা জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের বেলায় করে দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, অনেক প্রধানমন্ত্রী এসেছেন গেছেন। আবার অনেকে আসবেন যাবেনও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো চট্টগ্রাম দরদী প্রধানমন্ত্রী আর আসবে কিনা আমার জানা নেই। তিনি দুইহাতে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
১০ বছরে কোন ব্যর্থতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি অনুষ্ঠানে বলেন, নিজের ব্যর্থতা নিজে কখনো দেখে না। তবে ব্যর্থতা নামে কোন শব্দ আমার ডিকশনারিতে নেই। জনগণের আস্থা অর্জন করা গেলে কোন ব্যর্থতা থাকে না কাজ করার ক্ষেত্রে।
তিনি বলেন, যতদিন বেঁচে থাকবো কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকার স্বপ্ন নিযে বেঁচে থাকবো। তবে মানুষের ম্যান্ডেট ও সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন কিছু করা সম্ভব নয়।
আগামীতে মেয়র নির্বাচন করবেন কিনা এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, সামনে মেয়র নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব কি করব না তা নির্ধারণ করবেন নেত্রী। কারণ তিনিই আমাকে দিয়ে সিডিএ’র মাধ্যমে মানুষের উন্নয়ন অগ্রগতির সহযাত্রী হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।
নবনিযুক্ত সিডিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ একজন আগাগোড়া ভদ্র ও সৎ মানুষ। একইসাথে দক্ষ সংগঠকও। উনার ক্ষেত্রেও মিডিয়ার সহযোগিতা লাগবে। উনি আরো বেশি গতি নিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন এ বিশ্বাস আমার রয়েছে।
ভবন করার ক্ষেত্রে সিডিএ’র আইন মানার বিষয়ে মানুষের মাইন্ডসেট পাল্টাতে হবে। মাইন্ডসেট পরিবর্তন না হলে কোন কিছুই সম্ভব নয়।
তবে সিডিএ’তে জনবল অনেক কম। ভবন নির্মাণে তদারকি বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ২০০৮ সালে নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী একজন প্রকৌশলী ও আর্কিটেক্টকে দায়িত্ব দেয়া আছে সংশ্লিষ্ট ভবনের নির্মাণ শুরু থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত তদারকি করার।
এদিকে ১০ বছর দায়িত্ব পালনকালে জনগণের সুবিধা বিবেচনা করে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছি। উন্নয়ন কাজের জন্য মানুষ নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে সিডিএকে সহযোগিতা করেছে। এটি অনেক বড় পাওনা। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস জন্মেছে, সিডিএকে জায়গা দিলে প্রাপ্য টাকা মেলে। এটি পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্তদের ধরে রাখতে হবে বলেও মন্তব্য সিডিএ’র এ চেয়ারম্যানের।
তিনি বলেন, ১০ বছরে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরির পাশাপাশি ১০০ কিলোমিটার পুরনো রাস্তা সংস্কার করেছি। পাশাপাশি একাধিক ফ্লাইওভার তৈরি করা হয়েছে। যার সুফলে চট্টগ্রাম এখন যানজটমুক্ত। এখন নগর উন্নয়নের কথা বলছে এ ফ্লাইওভারগুলোও।
তিনি আরো বলেন, বায়েজিদ থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ শেষ হলে শহরে গাড়ির চাপ ৫০ শতাংশ কমে যাবে। উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের গাড়ি শহরে না ঢুকে ওই সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারবে। এছাড়া কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু ও পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত রিং রোডের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের চেহারা পাল্টে যাবে।
বিমান বন্দর থেকে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করতে সময় লাগার কথা ৩০ মিনিট। এখন লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পোশাক রপ্তানি খাতের এমন অবনতি।
তবে বিমান বন্দর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে সিডিএ। এটির কাজ শেষ হলে শহরে আর যানজটের চিহ্ন থাকবে না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি বাড়বে নিঃসন্দেহে।
মতবিনিময় সভার শেষ দিকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আবদুচ ছালাম। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জেনে না জেনে আপনাদের হয়ত অনেক কষ্ট দিয়েছি। হাতজোড় করে বলছি, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আপনারা আমার সব কর্মকাণ্ড ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

x