‘হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় পক্ষে’ ব্যাপক সাড়া

তিন কোটি ছয় লাখ টাকা উসুল

মোরশেদ তালুকদার

সোমবার , ৬ মে, ২০১৯ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
78

প্রথমবার ‘হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় পক্ষ’ উদযাপন করে সাফল্য পেয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বিশেষ এ কর্মসূচিতে তিন কোটি ছয় লাখ ৩৭ হাজার ৫৮৪ টাকা পৌরকর আদায় হয়েছে সংস্থাটির। যা বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৪১ টাকা বেশি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত মাসের দ্বিতীয় পক্ষে চসিকের ৮টি রাজস্ব সার্কেলের আওতায় এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। অবশ্য একই সময়ে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনেও ‘হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় পক্ষ’ উদযাপিত হযেছে। এর আগে গত বছরের ২৪ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলনে’ ময়মনসিংহের তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক বছরের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় পক্ষে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় পক্ষ উদযাপনের প্রস্তাব করেন। এর প্রেক্ষিতেই সারাদেশে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এদিকে চসিকের রাজস্ব শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থ বছরে (২০১৮-২০১৯) সরকারি ও বেসরকারি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩৯টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ১৪২ কোটি ৩ লাখ ৮ হাজার ৫১২ টাকা পৌরকর ধার্য করা হয়েছে। এর সঙ্গে আছে পূর্বের অর্থ বছরগুলোর ১৯৪ কোটি ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৯৩৪ টাকা বকেয়া। সবমিলিয়ে ৩৩৬ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৪৪৬ টাকা পৌরকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি অর্থ বছরে। এর বিপরীতে গত ২ মে পর্যন্ত আদায় হয়েছে মাত্র ১০২ কোটি কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৭৬ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার ৩০ দশমিক ৪১ শতাংশ। এদিকে পৌরকর আদায় না হওয়ায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়ে বলে বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন চসিকের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, যেসব উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি সহায়তা পাওয়া যায় সেখানে ম্যাচিং ফান্ড হিসেবে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে অর্থের যোগান দিতে হয় চসিককে। রাজস্ব আদায় না হলে এ অর্থের যোগান দিতে হিমশিম খেতে হয়। এছাড়া কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতাও রাজস্ব আদায়ের উপর নির্ভর করে থাকে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে জাতীয় স্কেল অনুযায়ী সিটি করপোরেশনে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন ভাতা বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ২২০ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমাদের অর্গানোগ্রাম না থাকায় জনবল নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না এবং অস্থায়ীদের স্থায়ী করা যাচ্ছে না। রাজস্ব শাখায় যারা পৌরকর আদায় করেন তাদের বেশির ভাগই অস্থায়ী। ফলে তাদের মধ্যে একধরনের অনাগ্রহ থাকে কাজের প্রতি। এতে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা কম হচ্ছে। রাজস্ব বিভাগের শূন্যপদ পূরণ করতে পারলে এবং অস্থায়ীদের স্থায়ী করতে পারলে কাজের পরিধি বাড়বে। সরকারি হোল্ডিংগুলোর বিপরীতে রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় ইতোমধ্যে আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভা আহ্বানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা বদলি হয়ে এখানে আসেন তাদেরও দায়বদ্ধতা থাকতে হবে।
হোল্ডিং ট্যাঙ আদায় পক্ষ :
এদিকে চসিকের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল সকালে চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেঙ-এ নীচ তলায় নগরীতে ‘হোল্ডিং ট্যাঙ আদায় পক্ষ’ উদ্‌যাপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। গত ৩০ এপ্রিল এ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এ সময়ে সরকারি হোল্ডিংগুলোর বিপরীতে ৯ লাখ ২১ হাজার ৬৪৯ টাকা এবং বেসরকারি হোল্ডিংগুলোর বিপরীতে দুই কোটি ৯৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৩৫ টাকার পৌরকর আদায় হয়েছে। গত বছর একই সময়ে কোনো বিশেষ কর্মসূচি ছিল না। তবে ওই সময়ে এক কোটি ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪২ টাকা পৌরকর আদায় হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি খাতে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৯৪ টাকা এবং বেসরকারি খাতে এক কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ৯০২ টাকা আদায় হয়েছে।
‘হোল্ডিং ট্যাঙ আদায় পক্ষ’ এর আওতায় রাজস্ব সার্কেল-১ এর অধীনে সরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯ টাকা এবং বেসরকারি খাতে ৬৪ লাখ ৪০ হাজার ১৮৭ টাকা আদায় হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব সার্কেল-২ এর অধীনে বেসরকারি খাতে ৩৪ লাখ ৪১ হাজার ২৩৯ টাকা, রাজস্ব সার্কেল-৩ এর আওতায় বেসরকারি খাতে ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ১০৪ টাকা, রাজস্ব সার্কেল-৪ এর আওতায় বেসরকারি খাতে ২৪ লাখ ২২ হাজার ৫ টাকা, রাজস্ব সার্কেল-৫ এর আওতায় বেসরকারি খাতে ৫৩ লাখ ৩২ হাজার ৯০১ টাকা, রাজস্ব সার্কেল-৬ এর আওতায় সরকারি খাতে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ১৪৬ টাকা এবং বেসরকারি খাতে ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৬৭৭ টাকা, রাজস্ব সার্কেল-৭ এর আওতায় সরকারি খাতে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৪ টাকা এবং বেসরকারি খাতে ৪৮ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫৯ টাকা এবং রাজস্ব সার্কেল সার্কেল-৮ এর আওতায় বেসরকারি খাতে ২০ লাখ ৭৩ হাজার ১৬৩ টাকা আদায় হয়েছে।
এ বিষয়ে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘হোল্ডিং ট্যাঙ আদায় পক্ষ’ চলাকালে আমাদের পৌরকর আদায় ভালোই হয়েছে। আশা করছি আগামী জুন মাসের মধ্যে যে টার্গেট সেটা পূরণ করতে পারবো।
উল্লেখ্য, সিটি কর্পোরেশন অ্যাক্ট ২০০৯ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মোট ১৭ শতাংশ পৌরকর আদায় করে থাকে। তার মধ্যে ৭ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাঙ (গৃহকর), ৩ শতাংশ বিদ্যুতায়ন রেইট এবং ৭ শতাংশ আর্বজনা অপসারণ রেইট রয়েছে। অবশ্য ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি জারিকৃত সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৭ শতাংশ গৃহকরের পাশাপাশি ৭ শতাংশ আর্বজনা রেইট, ৫ শতাংশ বিদ্যুতায়ন বা সড়কবাতি রেইট এবং ৮ শতাংশ স্বাস্থ্য রেইট আদায়ের ক্ষমতা আছে প্রতিষ্ঠানটির।

x