হোটেলে কক্ষ না পেয়ে রাস্তায় রাতযাপন

টানা ৩ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

শুক্রবার , ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১১:১৮ অপরাহ্ণ
টানা ৩ দিনের সরকারি ছুটিতে দেশের প্রধান অবকাশ যাপন কেন্দ্র কক্সবাজারে এখন পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়।
গত দুইদিন ধরে হোটেল-মোটেলে ঠাঁই না পেয়ে হাজার হাজার পর্যটক রাত কাটাচ্ছেন রাস্তার ধারে খোলা আকাশে।
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ছুটিতে বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক ছুটে আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পাশাপাশি শহর ও শহরতলীতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামের কারণে অচলাবস্থা। তবে আগামীকাল শনিবার রাত থেকে পর্যটকদের এই চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাপ্তাহিক দুইদিন ছুটির সাথে এবার একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ছুটি যুক্ত হয়ে টানা ৩ দিন সরকারি ছুটিতে অবকাশ যাপনের জন্য বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজারে দৈনিক দেড় থেকে দুই লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন বলে ধারণা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার রাতে হোটেলে কক্ষ খালি না পেয়ে হাজার হাজার পর্যটক রাত যাপন করেছেন সমুদ্র সৈকতে কিংবা রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে। হোটেলে কক্ষ না পাওয়া কিছু পর্যটককে জেলা ছাত্রলীগ নেতারা রাত যাপনের ব্যবস্থা করে দিলেও হাজার হাজার পর্যটক খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান।
কক্সবাজারের ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন ট্যুর অপারেটর্স এসোসিয়েশন অভ কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া জানান, নির্বাচনের আগে-পরে মাসাধিকালের ‘খরা’র পর গত মাসের শেষদিক থেকে কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। এখানকার চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউসে সোয়া লাখ পর্যটকের রাত যাপনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে হোটেলে কোনো কক্ষ খালি না থাকায় আগাম বুকিং ছাড়া আসা হাজার হাজার পর্যটককে সমুদ্র সৈকতে চেয়ারে কিংবা রাস্তার ধারে বসে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে।
এ সময়ে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী ৫টি পর্যটকবাহী জাহাজও উপচেপড়া যাত্রী নিয়ে চলাচল করেছে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার শহরের মতোই অবস্থা টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনের হোটেলগুলোতেও।
রেস্তোরাঁ ও দোকানপাটেও এখন ক্রেতাদের তীব্র ভিড়। ফলে ক্রেতাদের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে অধিকাংশ দোকানপাটই গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে। আর সাগরপাড়ের দোকানগুলো খোলা থাকছে দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা।
শহরের কলাতলী সড়ক ও সমুদ্র সৈকতের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পর্যটকদের আনাগোনায় দিনরাত এখন একাকার।কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘লাখো পর্যটকের আনাগোনা থাকায় কক্সবাজার শহরের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট সমুদ্র সৈকতে চব্বিশ ঘন্টা পুলিশি নজরদারি রয়েছে। এছাড়া মেরিন ড্রাইভসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতেও পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্টির কারণেই কক্সবাজারে পর্যটকদের এমন ঢল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কক্সবাজার শহর ছাড়াও ইনানী, হিমছড়ি, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া ও ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এমনই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার থেকেই দীর্ঘ যানজটে শহর ও শহরতলীতে প্রায় অচলাবস্থা দেখা দেয়। মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। তবে আগামীকাল শনিবার রাত থেকে পর্যটকদের এই চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, সরকারি টানা ছুটির শেষদিন শনিবার। রবিবার সরকারি অফিস শুরু হবে। তাই অধিকাংশ পর্যটকই শনিবার রাতেই চলে যাবেন। ফলে রবিবার থেকে কক্সবাজারে এ ধরনের চাপ থাকবে না। হোটেলেও কক্ষ পেতে ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
x