হালদা সেতুর দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই

শুক্রবার , ২৫ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ
46

হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী নাজিরহাট বাজারের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদীতে ১৯৩০ সালের ব্রিটিশ সরকার হালদা সেতু নির্মাণ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই সেতুটি ইতিহাসের সাক্ষী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম থেকে হাজার হাজার শরণার্থী ভারতে যাবার এটি ছিল একমাত্র সেতু। ঐ সময় মানুষ যাতে চলাচল করতে না পারে সেজন্য পাক হানাদার বাহিনী ডিনামাইট দিয়ে সেতুটির একাংশ ধ্বংস করে দেয়। যুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭২ সালে সেতুটি মেরামত করে পুনঃযোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করেন। ১৯৯৪ সালে সওজ কর্তৃপক্ষ ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে। যদিও জিপ টেম্পো সিএনজি চললেও ২০১৮ সাল থেকে তাও বন্ধ হয়ে যায়। এখন শুধু সেতুর উভয় পাড়ের মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচল। পার্বত্য খাগড়াছড়ি, বৃহত্তর ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও নাজিরহাটের লক্ষাধিক লোকের যোগাযোগের মাধ্যম এই সেতু। হালদা সেতুর উপর দিয়ে নাজিরহাট কলেজ, নাজিরহাট কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গার্লস স্কুল, নাজিরহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, আহমদিয়া মাদ্রাসা, বড় মাদ্রাসা, নাজিরহাট হাসপাতাল এবং নাজিরহাট বাজারে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও মানুষের নিত্যদিনের চলাচল। বর্ষার সময় পাহাড়ি বন্যার স্রোতে সেতুটি নড়বড়ে হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এক কিলোমিটার দূরে ১৯৮৯ সালে নতুন হালদা সেতু নির্মাণ করায় পুরাতন সেতুর দিকে কর্তৃপক্ষ নজর দিচ্ছে না। আরেকটি কারণ হচ্ছে, সেতুটি দুটি উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নয়। মানুষের যখন যৌবন থাকে তখন সবাই তার কদর করে আর বৃদ্ধ হলে তখন তাকে দেখার কেউ থাকে না। ঠিক সেরকম পুরাতন হালদা সেতুটিকে যৌবনে ব্যবহার করার পর আজ বৃদ্ধ ও ভগ্ন সময়ে দেখার কেউ নেই। তাই ঐতিহাসিক শতবর্ষী পুরাতন হালদা নদীতে নতুন সেতু নির্মাণ কল্পে লক্ষাধিক মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করি।
শ্রীধর দত্ত, মেলঘর, পটিয়া, চট্টগ্রাম।

x