হার না মানা এক মেয়ের আখ্যান

বুধবার , ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ

নাক নেই, কান নেইঝুমকা কী করে পরব?’ এই একটা সংলাপেই চোখ জল নেটিজেনদের। গতকাল মঙ্গলবার মুক্তি পেল ভারতের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ছপক’এর ট্রেলার। সেখানেই দীপিকারমুখে শোনা যাচ্ছে ওই সংলাপ। এসিড আক্রান্ত লক্ষ্মী আগরওয়ালের চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন। ছবিতে দীপিকার নাম মালতি। ছপকের গল্পটা মালতিকে জুড়েই। এসিড হামলার বিরুদ্ধে তার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই গোটা ট্রেলার জুড়ে।এসিড পোড়া মুখ দেখে রাস্তায় বাচ্চারা ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলেছে অথচ মালতি তার লড়াই থামাননি।

চলতি বছরের মার্চ মাসে দীপিকার ফার্স্ট লুক প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা ও প্রতীক্ষার প্রহর গোনা শুরু হয়। দীপিকার ফার্স্ট লুকে দেখা যায় তার কুঁচকে যাওয়া ত্বক, ভ্রূহীন চেহারা, মুখের সর্বস্ব পোড়া! দীপিকার এই এসিডদগ্ধ ছবিটি নেট দুনিয়ায় ঘুরপাক খেয়েছে বছর জুড়ে। এবার প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুক্তি পেল ‘ছপাক’ সিনেমার ট্রেলার।

নয়াদিল্লির এক মধ্যবিত্ত শহরে জন্ম নিয়েছিলেন লক্ষ্মী। কিন্তু ২০০৫এ আচমকাই তার জীবনে ঘটে যায় এক ভয়াবহ ঘটনা। লক্ষ্মীর বয়স তখন মাত্র ১৫। ৩২ বছরের এক ব্যক্তি তার সমস্ত শরীরে ছুড়ে দেয় এসিড। দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে প্রাণে বাঁচেন তিনি। কিন্তু আসল লড়াইটা শুরু হয় এরপর। তার এসিডে ঝলসে যাওয়া মুখ দেখে সমাজের টিটকিরি, হাজারও প্রশ্ন। কিন্তু তিনি তো হার মানার মেয়ে নন। শুরু হয় জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস। নতুন করে, নতুন ভাবে বাঁচার লড়াই। তারই মতো হাজারও এসিড আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি।

সেই লক্ষ্মীর জীবনই বড় পর্দায় আনছেন পরিচালক মেঘনা গুলজার। আর মাত্র এক মাসের অপেক্ষা। পরের বছর জানুয়ারির ১০ তারিখেই বড় পর্দায় আসবে ‘ছপক’। দর্শক দেখবেন এক হার না মানা মেয়ের আখ্যান। এই সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে দীপিকা বলেন, এর আগে পর্যন্ত আমি মনে করতাম, সঞ্জললীলা বানসালির সিনেমায় কাজ করা সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আমার জীবনে সবচেয়ে কঠিন কাজ এই সিনেমাতেই করেছি।

x