হকারমুক্ত ফুটপাত গড়তে দরকার সঠিক পরিকল্পনা

বুধবার , ৩ জুলাই, ২০১৯ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
77

দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না চট্টগ্রাম মহানগরীর ফুটপাত। ফুটপাত জঞ্জালমুক্ত করার বিষয়ে বারবার কেবল ঘোষণা আর প্রতিশ্রুতি পেয়েছে নগরবাসী। কিন্তু সে ঘোষণা আর কার্যকর হয় না। এতে করে নগরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। হকারদের পসরা ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়ক দখল করে নিয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় রাস্তার ওপর চলছে বেচাকেনা। এতে করে নগরীর ব্যস্ততম মোড় ও পয়েন্টে তীব্র যানজট হচ্ছে। যানজটের সঙ্গে দখল- মানুষের দুর্ভোগকে বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় সময় ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কখনো বাস্তবায়ন করা যায় না।
গত ৩০ জুন দৈনিক আজাদীর প্রথম পাতায় ‘দখলমুক্ত হচ্ছে না ফুটপাত, শুধু প্রতিশ্রুতি, অগ্রগতি নেই’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হকারদের শৃঙ্খলায় আনার প্রতিশ্রুতি আছে নগর পিতার। আবার এ প্রতিশ্রুতি পূরণে বিভিন্ন সময়ে আছে নানা উদ্যোগ গ্রহণের দাবিও। মাঝেমধ্যে উচ্ছেদে সিটি কর্পোরেশনের ব্যানারে পরিচালিত হয়েছে অভিযান। আবার বাধার মুখেও পড়তে হয়েছে অভিযানিক দলকে। যারা বাধা দিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ খোদ মেয়রের অনুসারী হিসেবেও পরিচিত নগরবাসীর কাছে। গত তিনবছর ধরেই নগরীতে হকার এবং তাদের শৃঙ্খলায় আনার গল্প এমন বৃত্তেই ঘুরছে। অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি এবং উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে অগ্রগতি খুব একটা নেই। কোনও কোনও সময় সাফল্য এলেও তার স্থায়িত্ব ছিল সাময়িক। উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টা বা একদিন পরেই যত্রতত্র সড়ক-ফুটপাত অবৈধ দখলে নিয়েছে হকাররা। এমন পরিস্থিতিতে, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, বাধাহীন ফুটপাতে নিরাপদ পথ চলা কি স্বপ্নই থেকে যাবে? সড়ক ও ফুটপাত রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কোনো করণীয় নেই?
ফুটপাত! পায়ে চলার পথ। অথচ এই পথের অনেকটাই রয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের দখলে। এমনিতেই গাড়ির চাপ, তার ওপর ফুটপাত দখল। দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশনের অভিযানে কাজ হচ্ছে না। তাই ঝুঁকি নিয়েই রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে পথচারীদের। বলতে গেলে নগরীর অধিকাংশ ফুটপাতের বেহাল দশা। কোনো কোনো ফুটপাত তো একেবারেই চলার অযোগ্য। ফুটপাত ধরে চলতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। বেশির ভাগ সড়কের ফুটপাতজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে রিকশার গ্যারেজসহ শত শত দোকান। এলাকার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে চাঁদা তুলে রমরমা বাণিজ্য করছে একটি চাঁদাবাজ চক্র-এমন অভিযোগও রয়েছে। এ চক্রে রয়েছে রাজনৈতিক দলের পাতি নেতা, স্থানীয় মাস্তান ও কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সড়ক ও ফুটপাত হলো যান ও পথচারী চলাচলের জন্য। দোকান বসিয়ে, পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করার জন্য নয়। অথচ ফুটপাতের বড় অংশই থাকে অবৈধ দোকানপাটের দখলে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এ জন্য ফুটপাতগুলো হকারমুক্ত রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। ফুটপাতে দোকান না বসাতে আদালতেরও নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু নানা কারণেই নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। উচ্ছেদ অভিযান চললেও দিন কয়েকের মধ্যেই আবারো অবস্থা একই হয়ে যায়।
হকাররা ফুটপাত দখলের ফলে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। পথচারীদের ব্যবহারের জন্য ফুট ওভারব্রিজগুলো দখল করে রেখেছে আরেক দল হকার। এসব ফুটপাতের কারণে সেইসব এলাকার পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। ছোট ছোট দোকান, ব্যবসাসামগ্রী আর হকারদের ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিদিনই হয়রানি পোহাচ্ছেন পথচারীরা। ভোগান্তির এক পর্যায়ে তর্কও বেঁধে যায় হকারদের সাথে।
২০১৬ সালে হকারদের শৃঙ্খলায় আনার উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা ছিল সিটি মেয়রের। কিন্তু কোনো মতেই শৃঙ্খলা ফিরছে না। তাই হকারমুক্ত ফুটপাত গড়তে চাইলে দরকার সঠিক পরিকল্পনা। শুধু হকারদের উচ্ছেদ করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না, হকারদের নতুন মার্কেট করে দিতে হবে যাতে তারা স্বাভাবিক ভাবে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। হকারদের সমস্যার সমাধান না করে দখলমুক্ত ফুটপাত কখনও সম্ভব নয়। এদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এ সমস্যার সঠিক সমাধান খুঁজতে হবে।

x