সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে

শনিবার , ২৬ অক্টোবর, ২০১৯ at ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ
29

সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটানা গাড়ি চালানোর সময় নির্ধারণসহ চালকদের খাওয়া ও বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। মালিকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ড্রাইভার কতক্ষণ গাড়ি চালাচ্ছে, ড্রাইভার খেল কিনা, ড্রাইভারের পর্যাপ্ত বিশ্রাম আছে কিনা, আমাদের যারা গাড়ির মালিক, যারা ড্রাইভারকে ব্যবহার করেন-এই বিষয়টা কখনো চিন্তা করেন কিনা আমার সন্দেহ আছে। তাদের বিশ্রামের দরকার আছে; খাবারেরও প্রয়োজন আছে। তার কিছু সময়েরও প্রয়োজন আছে। সড়ক-মহাসড়কে গাড়ি চালকদের ‘ওভারটেক’ করার প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণেও কিন্তু দুর্ঘটনা হয়।
আসলে নিরাপদ সড়কের জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। নিরাপদ সড়ক উপহার দেয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব। এ জন্য সারাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলে আসছে। সড়ক দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যুবরণ তা কখনো কাম্য নয়। প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও অদক্ষ চালক দ্বারা গাড়ি চালানোর কারণে সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আবার যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ও ফিটনেসবিহীন অসংখ্য লক্কর ঝক্কর গাড়িও সড়কে চলাচল করছে। এগুলোর জন্য শুধু গাড়ির চালক-হেলপার দায়ী নয়, যিনি গাড়ির মালিক তাকেও এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, গাড়ি নিয়মিত চেকআপ করতে হবে। মোটরযান আইন, ট্রাফিক সাইন ও ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে গাড়ি চালাতে হবে। মাদক সেবন বা চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। শুধু বড় গাড়ি নয়, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটোরিকশা, নছিমন, করিমন ও অন্যান্য গাড়ি চালকদেরকে নিয়োগ দেয়ার আগে তাদেরকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। সড়কে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে কার আগে কে যাবে এ ধরনের মনোভাব পরিহার করতে হবে। তাঁরা আরো বলেন, ছাত্র-ছাত্রী, রাস্তা ব্যবহারকারী, গাড়ি-চালক-হেলপারসহ সকলে সচেতন হলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসলে দুর্ঘটনা অনেকটা হ্রাস পাবে। যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই তাদেরকে প্রশিক্ষণ শেষে লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। রাস্তায় অবহেলায় দুর্ঘটনার জন্য যাতে কেউ মারা না যায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে সোচ্চার থাকতে হবে। নিজেরা সচেতন না হলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়।
এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা, এ দায়িত্বটা শুধু সরকারের না, গাড়ি চালকের না, পথচারী থেকে শুরু করে সকল জনগণের। দেশের সকল মানুষের। সকল নাগরিকের দায়িত্ব। সবাই যার যার দায়িত্ব হিসেবে পালন করবেন। আমি এটুকুই চাই, সকলে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। একটা মানুষের ক্ষতি হলে সে যে-ই হোক। সে তো কোনো না কোনো পরিবারের। কেউ যদি মারা যায় সে পরিবারের ভবিষ্যৎ কি হয় সেটাও তো চিন্তা করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু গাড়িচালককে দোষ দেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস, ফুটপাত করে দেবার পরও পথচারীরা নিয়ম মানেন না। একটা চলন্ত গাড়ি যখন আসে সেই গাড়ির সামনে দিয়ে শুধুমাত্র হাত দেখিয়ে দৌড় মারলে . . . সেটা তো একটা যন্ত্র। ব্রেক কষলেও তো কিছু সময় লাগে সেটা থামতে। পথচারীদের তো এই বোধটা, এই জ্ঞানটা থাকতে হবে।
এটা ঠিক যে, সব সড়ক দুর্ঘটনার দায় এককভাবে চালকের বা সহকারীদের নয়। আরও নানা কারণে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে রয়েছে, বেহাল সড়ক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানো, চালকের অসতর্কতা বা গাফিলতি, ফাঁকা সড়কগুলোতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, সাইড না পেয়েও ওভারটেক করার চেষ্টা, মদ্যপ অবস্থায় ও বিরতিহীনভাবে গাড়ি চালানো ইত্যাদি। গাড়ির অদক্ষ চালক নিয়ে এ পর্যন্ত বহু কথা হয়েছে। কিন্তু অদক্ষ গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে-এমনটা কখনো দেখা যায়নি। এ রকম চলতে থাকলে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়তে থাকবে-এটাই তো স্বাভাবিক! আমরা চাই, সরকার কঠোর আইন প্রণয়নে উদ্যোগী হবেন। আমরা চাই, প্রশিক্ষিত চালকেরা সত্যিকারের ফিটনেস সনদ পাওয়া যানবাহন চালাবেন। সড়কে হ্রাস পাবে দুর্ঘটনার মাত্রা।

x