স্লীপ প্যারালাইসিস

আকাশ ইকবাল

বুধবার , ৯ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ
125

আছর। মায়ের কাছে প্রথম নামটি শুনেছিলাম। আমিও বিশ্বাস করতাম আছর নামের কোন এক খারাপ শয়তান আছে। তার কাজ ঈমানদার মানুষকে ঘুমের মধ্যে ভয় দেখানো। আবার কোন কোন সময় হত্যাও করে। এরপর প্রায় পাঁচ বছর পরের একটি ঘটনা। আমি আর আমার এক ভাই একই বিছানায় শুয়েছিলাম। হঠাৎ শুনতে পেলাম ভাইয়ের মুখে কেমন শব্দ বের হচ্ছে। নড়াচড়া করতে পারছে না। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আরে ভাইকেও মনে হয় আছর নামক শয়তানটি আক্রমণ করেছে! অনেক জোরে নাড়া দিলাম। ভাই উঠে বসলো। বলল, স্লীপ প্যারালাইসিস। ভাই কি বলল সেটার প্রতি খেয়াল না করেই ভয়ে ভয়ে শুয়ে গেলাম। সাথে সাথে আবার উঠে বসলাম। ভাইকে জাগানোর চেষ্টা করলাম। ভাই উঠলো না। সাথে সাথে গুগলে স্লীপ প্যারালাইসিস সার্চ দিয়ে দেখলাম। এবার অলৌকিকতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমার সামনে আসতে শুরু করলো। ইউকিপিডিয়াতে এই বিষয়ে স্পষ্ট লেখা আছে। এছাড়া এই বিষয়ে বেশ কিছু বড় বড় চিকিৎসা বিজ্ঞানীর আর্টিকেল পড়েছি। তাতে আমার মনে পুরনো ভুল বিশ্বাস ভেঙে নতুন সঠিক বিশ্বাস জন্ম নিল।
স্লীপ প্যারালাইসিস কী? কেন হয় কিংবা সমাধান কি? তার আগে লক্ষণটি বলি। মধ্য রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। অনুভব করলেন আপনার বুকের উপর কোন এক ভারি বস্তু (শয়তান) দাঁড়িয়ে আছে। এতো ভারি যে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সব চেয়ে ভয়ংকর বিষয়টি যে, আপনার শরীরের কোনো অংশ নাড়াতে পারছেন না কিংবা মুখে অনেক জোরে জোরে ডাকছেন কাউকে কিন্তু কেউ শুনতে পারছে না আপনার ডাক। শুনতে পায় শুধু গোঙগানোর শব্দ। আর একে বলা হয় স্লীপ প্যারালাইসিস।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘বোবায় ধরা বা স্লীপ প্যারালাইসিস এক ধরণের ইন্দ্রিয় ঘটিত ব্যাপার। যখন আমাদের মস্তিষ্ক এক পর্যায় থেকে আরেক পর্যায় যায়, তখন এই ঘটনা ঘটে থাকে।’ বোবায় ধরলে একেক জনের অভিজ্ঞতা একেক রকম হয়। কেউ ঘরের ভেতরে অশরীরি কিছু টের পায়, কেউ কোনো দুর্গন্ধ পায় আবার কেউ কেউ বুকের ওপর ভীতিকর প্রাণী অনুভব করে। অর্থাৎ নানা ধরণের হ্যালুসিনেশন ( কাল্পনিক দৃশ্য সৃষ্টি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘এসময় মস্তিষ্ক জাগিয়ে তুললেও ইন্দ্রিয় তখনও ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে বলে সব কিছু অবাস্তব মনে হয়। অতএব এটা অলৌকিক কোন ব্যাপার নয়, শরীরবৃত্তিয় বিষয়।
কেন হয় স্লীপ প্যারালাইসিস? বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘স্লীপ প্যারালাইসিস ঘুম জনিত একটি রোগ। যাকে বলা হয় স্লীপ অব ডিস অর্ডার। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এটা তাদেরই হয়, যাদের ঘুম জনিত সমস্যা আছে। এটা হওয়ার আরও একটি বড় কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত মানসিক চাপ। বলা যায়, যথেষ্ট বিশ্রামের অভাব কিংবা অনিয়মিত ঘুমের জন্য ঘটে থাকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। ঘুমের বিশেষজ্ঞরা সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেন, ‘ঘুমের এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে উত্তরণের সময় শরীর সাবলীলভাবে নড়াচড়া করতে পারে না বলেই স্লীপ প্যারালাইসিস হয়।’ সাধারণত এটি সাময়িক সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘বার বার কিংবা ঘন ঘন ঘটতে থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।’
যারা স্লীপ প্যারালাইসিসকে অলৌকিক কিংবা শয়তানের কাজ বলে বসে আছেন তারা ভুল করছেন।

x