স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার খানহাট-ধোপাছড়ি-বান্দরবান

মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ

সোমবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
78

চন্দনাইশ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপথ ধোপাছড়ি ইউনিয়নের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের লক্ষ্যে ধোপাছড়িবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে চলাচল উপযোগী করে তুলছেন খানহাট-ধোপাছড়ি-বান্দরবান সড়ক। ধোপাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোরশেদুল আলম গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের নিয়ে পাহাড়ি অঞ্চল দিয়ে যাওয়া সড়কটি গাড়ি চলাচল উপযোগী করে তুলছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ধোপাছড়িবাসী পাহাড়ের মাটি কেটে ও জঙ্গল পরিস্কার করে এ সড়কটি সংস্কার কাজ শুরু করেছেন।
জানা যায়, প্রায় ২০ বছর পূর্বে গাছবাড়িয়া খানহাট থেকে ধোপাছড়ির সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের লক্ষ্যে পাহাড় কেটে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে খানহাট থেকে ধোপাছড়ি সীমান্তের বটতল পর্যন্ত সড়কে কার্পেটিং সিলকোট কাজ করা হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সড়কের বাকী কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে সড়কটি আস্তে আস্তে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এখন এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে এ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করেছেন।
এলাকার আবদুল মোনাফ, মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্যরা জানান, চন্দনাইশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার মধ্যে ধোপাছড়ি ইউনিয়নটি সবচেয়ে অবহেলিত। এ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ কৃষিপণ্য বহন, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে যাওয়া-আসার জন্য একমাত্র শঙ্খনদীর জলপথই ব্যবহার করে আসছেন। বর্ষা মৌসুমে এ নদীপথ দিয়ে চলাচল করতে সাধারণ মানুষকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। তাই ধোপাছড়ির সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সৃষ্টি করতেই এলাকার চেয়ারম্যানসহ শত শত লোকজন একজোট হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মুছে যাওয়া সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কেটে ও জঙ্গল পরিস্কার করে সড়কটি সংস্কার করছেন। তারা বলেন, সড়কটি সংস্কার শেষ হলে অল্পকিছুদিনের মধ্যেই তারা মোটর সাইকেল, জিপ, মাহিন্দ্র ও সিএনজি অটোরিকসাযোগে চন্দনাইশ উপজেলা সদরে আসতে পারবেন।
ধোপাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোরশেদুল আলম আজাদীকে বলেন, খানহাট-ধোপাছড়ি-বান্দরবান সড়কটি গাছবাড়িয়া খানহাট এলাকা থেকে শুরু করে ধোপাছড়ি বাজারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টি করলেও ধোপাছড়িবাসী সে সুবিধা ভোগ করতে পারছিলনা। দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন হলেও দীর্ঘ এ সময়ে সড়কটি পুরোপুরি নির্মাণ করা হয়নি। খানহাট থেকে ধোপাছড়ি ইউনিয়নের সীমান্ত বটতল এলাকা পর্যন্ত কার্পেটিং করা হয়। কিন্তু বটতলী থেকে ধোপাছড়ির চামাছড়ি মধুছড়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করা হয়নি। ফলে বর্ষার সময় পাহাড়ের মাটি পড়ে সড়কটি ভরাট হয়ে আস্তে আস্তে মুছে যেতে বসেছিল। এ অবস্থায় তিনি নিজ উদ্যোগে সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সহযোগিতায় এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে সড়কটি সংস্কার কাজ শুরু করেছেন। এলাকার শত শত সাধারণ মানুষ আন্তরিকভাবে স্বেচ্ছাশ্রমে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জঙ্গল পরিস্কার করে উঁচু-নিচু পাহাড় কেটে সড়কটি সমান করছেন। যতদিন সড়কের সংস্কার কাজ পরিপূর্ণভাবে শেষ হবেনা ততদিন কাজ চালিয়ে যাবেন। সড়কটি সংস্কার শেষ হলে মাত্র আধা ঘন্টার মধ্যেই ধোপাছড়িবাসী উপজেলা সদরে পৌছাতে পারবেন। অথচ শঙ্খনদী পার হয়ে সাতকানিয়ার শীলঘাটা থেকে বাজালিয়া কেরানীহাট হয়ে চন্দনাইশ উপজেলা সদরে পৌছাতে তাদের প্রায় ২ ঘন্টা সময় লাগে। তিনি বলেন, সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ হলেই ধোপাছড়িবাসী সড়ক পথেই তাদের নিত্য কাজ সমাপ্ত করতে পারবেন। এসময় একটি শঙ্কার কথাও জানালেন তিনি, এলাকার শত শত মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি সংস্কার করে এ শুকনো মৌসুমে মেঠোপথে গাড়ি চলাচল উপযোগি করলেও ব্রিক সলিন অথবা কার্পেটিং করা না হলে বর্ষা মৌসুমে পানি চলাচল শুরু হলে সড়কটি আবারও চলাচল অনুপযোগি হয়ে পড়বে। তাই তিনি তাদের সংস্কারকৃত সড়কটিতে আগামী বর্ষার আগেই অন্তত ব্রিক সলিন কাজ করতে চট্টগ্রাম- ১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ দোহাজারীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পুরোপুরিভাবে সড়কটি চালু হলে ধোপাছড়িতে উম্মোচিত হবে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার এবং উন্নতি হবে ব্যবসা-বাণিজ্যেরও।