স্বেচ্ছাচারিতা কী করে হলো, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

মঙ্গলবার , ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
1104

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশে গত দশ বছরে ‘কল্পনাতীত স্বেচ্ছাচারিতার’ যে অভিযোগ করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকালে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর বিকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দশ বছরে আমরা যে পরিবর্তনটা এনেছি, সেই পরিবর্তনটা অনেকের চোখে পড়ে না। যখন মানুষ ভালো থাকে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়, তখন তারা বলে এটা নাকি স্বেচ্ছাচারিতা। স্বেচ্ছাচারিতা কী করে হল- এটা আমার প্রশ্ন। কী দেখতে পেল তারা? বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা বলেন, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেখলাম, তারা ঘোষণা করেছে- স্বেচ্ছাচারিতাকে নাকি পরিবর্তন করবে। এ পরিবর্তন কী জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাই সৃষ্টি, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, আবার সন্ত্রাস, আবার ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার তালিকা, আবার নির্বাচনের নামে প্রহসন, দেশের সমস্ত উন্নয়ন ধ্বংস করে দিয়ে দেশকে সম্পূর্ণভাবে আবার অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া? এই পরিবর্তন তারা আনতে চান? ছিল তো ক্ষমতায়। ৪৭ বছর তো দেশ স্বাধীন হয়েছে। এই ৪৭ বছরের মধ্যে ৩৯ বছর তো এরা ক্ষমতায় ছিল। কী দিয়েছিল মানুষকে? কী পেয়েছে মানুষ? খবর বিডিনিউজের।
মানুষ কিছু না পেলেও বিএনপি-জামায়াত জোটের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের কথা শুনেছি, ভাঙা স্যুটকেস ছাড়া কিছুই নাই, তারা কত সম্পদের মালিক। সম্পদ শুধু দেশে নয়, দেশে আবার বিদেশে তাদের সম্পদের মালিকানার বিরাট হিসাব চলে আসছে। ঘুষ-দুর্নীতি করে তারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কী পরিবর্তন করে ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। ওনারা কী পরিবর্তন করে ফেলবে? আজকে যারা এক হয়েছে তারা কারা? একদিকে স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, সে যুদ্ধাপরাধীরা কীভাবে নমিনেশন পায়, যারা বাংলাদেশই চায়নি। নীতিভ্রষ্ট, আদর্শহীনরা কখনও মানুষকে কিছু দিতে পারে নাই এবং দিতেও পারবে না। আমি বলব এরা বাংলাদেশের আদর্শে বিশ্বাস করে না।
টানা দুই মেয়াদে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১০ বছর আগে আমরা দিনবদলের সনদ দিয়েছিলাম। আজকে মানুষের ঠিকই দিন বদলেছে। আজকে যারা একেবারেই হতদরিদ্র ছিল তারাও দুমুঠো খেতে পারছে। যারা গৃহহারা তাদের ঘর তৈরি করে দিচ্ছি। বিনা পয়সা ওষুধ, বই দিচ্ছি, বৃত্তি দিচ্ছি। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছি। এছাড়া প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের ভেতর পরিবর্তন নিয়ে এসেছি। আমরা ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এরফলে মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সুবর্ণজয়ন্তী যখন পালন করব তখন দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ গড়ে তুলব। সেজন্য আরও পাঁচটি বছর সরকারে থাকা একান্তভাবে প্রয়োজন। সেজন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাই। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে।

x