স্বামীর কুলখানি শেষে ফেরার পথে মারা গেলেন স্ত্রীও

ট্রেন দুর্ঘটনা

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

বুধবার , ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ at ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
86

সীতাকুণ্ডে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে কর্মরত অবস্থায় নিহত স্বামীর কুলখানি শেষ করে চট্টগ্রাম ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন স্ত্রীও। ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত হয় তার তিন সন্তান ইমন (১৭), মেয়ে সুমী (১৯), মীম (৮) ও নিহত
জাহেদা বেগমের মা সুরাইয়া খাতুন। একই ট্রেনে ছিলেন নিহতের বড় ছেলে সুমন মিয়া। তিনি বলেন, আমি ছিলাম ট্রেনের ড বগিতে। আমার মা, ভাই-বোন ও নানি ছিল ঝ বগিতে। সোমবার গভীর রাতে ট্রেনটি বিকট শব্দে ঝাঁকি দিলে আমার ঘুম ভেঙে যায়। পরে আমার মায়ের ছিন্নভিন্ন লাশ শনাক্ত করে নানার বাড়িতে দাফন করি। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কদমরসুলে জাহাজে কাজ করার সময় আমার বাবা নিহত হন। উনার লাশ নিয়ে আমরা গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে যায়। এরপর কুলখানী শেষ করে আবার ট্রেনে করে চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার সময় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্য ১৫জনের সাথে আমার মাও মারা যায়। বাবা মারা যাওয়ার ৫ দিনের মাথায় মাকেও হারাতে হলো।
জাহিদা খাতুনের ননদ জ্যোৎস্না বেগম বলেন, কয়েক দিন আগে ভাইকে হারিয়েছি। পাঁচ দিনের মাথায় এখন ভাবিকেও হারালাম। আমার ভাইয়ের সন্তানগুলো এতিম হয়ে গেল। ৫দিনের মধ্যে পরিবারের দুজন সদস্যকে হারিয়ে সবাই শোকে বিহ্বল। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনি জানান, তাদের বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজেলার গাজীপুর এলাকার রামনগরে হলেও তারা অনেক বছর ধরে সীতাকুণ্ডের কদমরসুলে বসবাস করছেন। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার গাজীপুর এলাকার রামনগরের মুসলিম মিয়া পরিবার পরিজন নিয়ে কর্মসূত্রে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বসবাস করতেন। জাহাজকাটা শিল্পে কাজ করতেন তিনি। আহতরা ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতালে) ভর্তি আছে।
সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা আর সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এঙপ্রেসের সংঘর্ষে কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ১৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ছোট কুমিরা এলাকায় সাগর উপকূলে একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে মাথায় প্লেট পড়ে মুসলিম নিহত হন। ৫ দিনের মাথায় মুসলিমের লাশ দাফন শেষ করে চট্টগ্রামে ফেরার পথে স্ত্রী জাহেদা বেগমও মারা যান।

x