স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সোমবার , ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ

এস এ গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে প্রথমবারের মত অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এশিয়ার নারী ক্রিকেটের দুই শক্তিশালী দল ভারত এবং পাকিস্তান না থাকায় বাংলাদেশের নারীদের সামনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী বলতে ছিল শ্রীলংকার মেয়েরা। আর সে শ্রীলংকাকে হারিয়ে এবারের এস এ গেমসে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আর ফাইনালেও সেই শ্রীলংকান মেয়েদের হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করল টাইগার নারী ক্রিকেট দল। ফাইনালে অবশ্য ঘাম ঝরাতে হয়েছে সালমা খাতুনদের। তবে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মত অংশ নিয়ে এস এ গেমসের সোনার পদক জিতেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এমনিতেই বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল বেশ দাপটের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। পুরুষরা এখনো এশিয়া কাপ জিততে না পারলেও নারীরা ঠিকই জিতে নিয়েছে। নারীরা নিশ্চিত করেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলাও। এবার নিজেদের সাফল্যে নতুন পালক যোগ করল সালমা খাতুনরা এস এ গেমসের ক্রিকেটে স্বর্ণ পদক জিতে। ফাইনালে প্রতিপক্ষ তুলনামূলক অনেক দুর্বল। সেই দলের কাছেও প্রায় হেরে বসেছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য শংকা দূর করে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে মেয়েরা। তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শেষ বলের ফয়সালায় জিতে সোনার পদক পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এসএ গেমসে মেয়েদের ক্রিকেটে শ্রীলংকাকে হারিয়ে সোনা জিতেছে বাংলাদেশ। পোখারায় গতকাল রোববার ফাইনালে বাংলাদেশ জিতেছে ২ রানে। সোনার লড়াইয়ে ব্যাটসম্যানদের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে বাংলাদেশ ২০ ওভারে করতে পেরেছিল কেবল ৯১ রান। তবে সে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লংকানরা আটকে যায় ৮৯ রানে। ফলে ২ রানের শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় নিয়ে সোনার পদকে নাম লেখায় নারী ক্রিকেট দল। ম্যাচের শেষ ওভারে জয়- পরাজয় যেন পেন্ডুলামের ঘোড়ার মত দুলছিল দু দিকেই। কারণ শেষ ওভারে লংকানদের প্রয়োজন ছিল ৭ রান। দেশসেরা পেসার জাহানারা আলমের করা ওভার থেকে এসেছে কেবল চারটি সিঙ্গেল। শেষ বলে শ্রীলংকার প্রয়োজন ছিল ৩ রান। জাহানারা দেননি কোনো রান। সে সাথে সেই শেষ বলে তুলে নিয়েছে একটি রান আউট। অবশ্য এই এস এ গেমসের নারীদের ক্রিকেটে বাংলাদেশের জাতীয় দল খেললেও শ্রীলংকার এটি অনূর্ধ্ব-২৩ দল। আনকোরা দলটিতে অধিনায়ক হার্শিথা মাদাভিই কেবল খানিকটা পরিচিত নাম। সেই দলের বিপক্ষেও ধুঁকতে হলো বাংলাদেশকে। তবু শেষ পর্যন্ত মিলেছে সোনার স্বস্তি। আর সেটাই ছিল বড় অর্জন। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিলনা। তারপরও ধীরে ধীরে নিজেদের ফিরে পেতে শুরু করেছিলেন পরের ব্যাটসম্যানরা। ওপেনার আয়েশা রহমান যদিও ফিরেছিলেন ২ রানে। তবে আরেক ওপেনার মুর্শিদা খাতুন ও তিনে নামা সানজিদা ইসলাম দলকে রেখেছিলেন পথে। ৬ ওভারে রান ছিল ৩৬। এরপরই এক ওভারের ঝড়ে এলোমেলো ইনিংস। উমেশা থিমাশিনির এক ওভারেই বিদায় নেন চার ব্যাটসম্যান। ১ উইকেটে ৩৬ থেকে দলের স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৩৬। অধিনায়ক সালমা খাতুনও পারেননি দলের ত্রাতা হতে। সপ্তম উইকেটে নিগার সুলতানা ও ফাহিমা খাতুন কিছুটা উদ্ধার করেন দলকে। ১৫ রান করে বিদায় নেন ফাহিমা। নিগার সুলতানার ৩৮ বলে অপরাজিত ২৯ রানের উপর ভর করে বাংলাদেশ দল শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারে ৯১ রান।
ছোট পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের শুরুটা ছিল দারুণ। জাহানারা, সালমারা শুরু থেকেই চেপে ধরেন লংকান ব্যাটসম্যানদের। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে তাদের রান ছিল ৩ উইকেটে ১৫। সেই ধাক্কা সামলে লংকানদের এগিয়ে নিচ্ছিলেন অধিনায়ক মাদাভি। ৩৩ বলে ৩২ রান করা ব্যাটাসম্যানকে থামান জাহানারা আলম। তার পরও হাল ছাড়েনি লংকান নারীরা। লিহিনি আপসারা, নিলাকশানা সান্দামানি চালিয়ে যান লড়াই। মনে হচ্ছিল এ দু’জন বাংলাদেশের মেয়েদের গতাশার আগুনে পোড়াবে। আর সেটা ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছিল যখন ম্যাচ ক্রমশ শেষের দিকে গড়াচ্ছিল। শেষ ২ ওভারে লংকানদের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। ১৯তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার একটি রানও দেননি। উইকেট নেন একটি। কিন্তু বাই থেকে তবু চার রান পেয়ে যায় লংকানরা। ফলে শেষ ওভারে ৭ রানের দরকার পড়ে লংকানদের। শেষ ওভারে দারুণ বোলিংয়ে পার্থক্য গড়ে দিলেন জাহানারা আলম। রান আউট হলেন মূল বাধা হয়ে থাকা লিহিনি। সোনার হাসিতে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলের পক্ষে ৯ রানে ২টি উইকেট নিয়েছেণ নাহিদা। এছাড়া একটি করে উইকেট নিয়েছেন জাহনারা, সালমা এবং খাদিজা। ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জিতেছেন নাহিদা আক্তার।

x