স্বপ্ন বড়, প্রত্যাশাও অনেক

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ১২ ঘন্টার সম্প্রচার আজ উদ্বোধন

ঋত্বিক নয়ন

রবিবার , ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ at ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্র আজ থেকে অফিসিয়ালি ১২ ঘণ্টার সমপ্রচারে যাচ্ছে। আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সমপ্রচার উদ্বোধন করবেন। তবে গত বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ১২ ঘণ্টার সম্প্রচার চলছে।
বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নিতাই কুমার ভট্টাচার্য আজাদীকে জানান, সরকারি দ্বিতীয় টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ ঘণ্টার সমপ্রচারে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কেন্দ্র। এ কেন্দ্রের অনুষ্ঠান দর্শক জনপ্রিয় করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১২ ঘণ্টার সম্প্রচারের অংশ হিসেবে নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে নাটকসহ নানা অনুষ্ঠান। অচিরেই চট্টগ্রামের শিল্পীদের বাছাই করতে অডিশনের ব্যবস্থা করা হবে।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় যাত্রা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের। শুরুতে ১ ঘণ্টা, পরে দেড় ঘন্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার হতো। ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্র চার ঘণ্টার পরীক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করে। একই বছর ৩১ ডিসেম্বর তা ৬ ঘণ্টায় উন্নীত হয়। পাশাপাশি ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ক্যাবল টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করে।
এখন সারা দেশে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান দেখা যায়। প্রথম থেকে এ কেন্দ্রের লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কঙবাজার, বৃহত্তর কুমিল্লা, বৃহত্তর নোয়াখালী ও সিলেট বিভাগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি তুলে ধরা। এখনো সমস্যা থেকে মুক্ত হয়নি কেন্দ্রটি। আছে অতৃপ্তি, অনেক সীমাবদ্ধতা। ব্যবস্থাপনায়ও নানা ত্রুটি আছে। তবু এ কথা অনস্বীকার্য, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র চট্টগ্রামের মানুষের জন্য বড় প্রাপ্তি।
বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের মতে, এ কেন্দ্রের একটা দুর্ভাগ্য হলো, শুরু থেকেই এটি অনাদরে বেড়ে উঠেছে। কোনো ভালো কাজে প্রশংসা জোটেনি। বরং নিন্দা করে এর কণ্ঠ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। আবার এটাও ঠিক, কেন্দ্রটি কিছুদিন ভালো চলে। আবার ফিরে যায় পুরনো দায়সারা মনোভাবে। তবে অস্বীকার করা যাবে না, এখান থেকে অনেক মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান প্রচার হয়, যা বিভিন্ন চ্যানেলের অনুষ্ঠানকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিদিন নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যের চিত্র প্রত্যক্ষ করি। এসব অঙ্গনের প্রিয় মুখগুলোকে দেখে প্রাণিত হই। চট্টগ্রামের এমন কোনো বিশিষ্টজন নেই, যাকে এই কেন্দ্রের কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে পাওয়া যায় না। এই কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমাদের নজর এড়ায়নি। নতুন নতুন প্রযোজক এসেছেন, নতুন ক্যামেরা এসেছে, এসেছেন ক্যামেরাম্যান। এডিটিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দুটো স্টুডিও আছে। ভিআইপি কক্ষ করা হয়েছে, যেখানে অপেক্ষা করতে পারেন আগত বিশিষ্টজনরা। বহির্দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে কাজে আসে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন জায়গাটি। মোট কথা, দিন দিন পোক্ত হচ্ছে, সমৃদ্ধ হচ্ছে অভিজ্ঞতায়। আমরা আশা করছি, আগামীতে হবে অনুষ্ঠানের আরো মানোন্নয়ন। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ১২ ঘণ্টা সমপ্রচার চলমান থাকলে ধীরে ধীরে এটি পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন চ্যানেলে রূপ লাভ করবে।
বিষয়টি স্বীকার করে নিলেন বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের মান নিয়ে আমরা যথেষ্ট আশাবাদী। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ভিন্নতা আনা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে। যেমন আগে বিতর্ক প্রতিযোগিতা হতো না, এখন হচ্ছে। আগে মঞ্চ নাটক, সাপ্তাহিক কিংবা ধারাবাহিক নাটক হতো না, এখন হচ্ছে। জারি, সারি ভাটিয়ালী গানের অনুষ্ঠান হচ্ছে, যা দেশবাসী দেখছে।
কিছু শিল্পী, কলাকুশলীর অভিযোগ কিসের? জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ কারা করছেন দেখতে হবে। আগে যারা অবৈধ সুবিধা পেত, তারা না পাওয়ায় অভিযোগ করতেই পারেন। বর্তমানে কাউকে বেশি সুযোগ, কাউকে কম সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। মানের দিকে খেয়াল তো রাখতেই হবে। মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান না হলে আপনি কেন দেখবেন?
তিনি আরো বলেন, বিশ বছর ধরে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে শিল্পীদের কোনো অডিশন হয় না। আমার ইচ্ছে আছে, যত শীঘ্র সম্ভব অডিশন নিয়ে শিল্পী তালিকাভুক্ত করা হবে। তখন আর কেউ অভিযোগ করতে পারবে না। সমস্যাও কেটে যাবে।