স্বপ্ন দেখার অধিকার

মাহিরা আনাদিল (৩১৯৪০)

বুধবার , ৬ নভেম্বর, ২০১৯ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
6

সেদিন টিভিতে দেখলাম এক রোহিঙ্গা পরিবারের ছবি। অন্য সব রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর মতই সেই পরিবারটির সদস্যদের চেহারায় ছিলো দুঃখ, হতাশা ও যন্ত্রণাক্লিষ্ট অতীত ও বর্তমানের ছাপ। তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মতই অনিশ্চিত তাদের চাহনি।
সেই রোহিঙ্গা পরিবারটিতে ঠিক আমারই বয়সী একজনকে দেখাচ্ছিল। মেয়েটি কাঁদছিল। আমার নিজের বয়স ১৪ বছর। ১৪ বছর বয়সী একজনের যদি স্বপ্ন দেখারই অধিকার না থাকে, তবে তার কাছে জগতের মূল্য কতটুকু? আমি আমার বান্ধবীদের বাসায় যাই, তাদের সাথে ঘোরাঘুরি করি, মজা করি, দুষ্টুমি করি। কিন্তু কী আশ্চর্য! আমারই বয়সী আরেকটি মেয়ে আমার চেয়ে শত মাইল দূরের একটা জায়গায় মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছে যেখানে কিনা তার স্বপ্ন দেখার অধিকার পর্যন্ত নেই। এই বয়সে যখন তার জীবনের রঙে রঙিন হওয়ার কথা, মাঠে প্রজাপতির পেছনে ছুটতে থাকার কথা, ঘাসবনে শুয়ে এই আকাশ-বাতাস-পৃথিবীকে অনুভব করার কথা, তখন সে আছে শরণার্থী শিবিরে। বেঁচে থাকা তার কাছে-শুধুমাত্র বেঁচে থাকা।
একটা জীবন মানেই অনেক কিছু। একটা জীবন মানে অনেকগুলো সম্ভাবনা। একটা জীবন মানে অনেক আশা। একটা জীবন শুধুই একটা জীবন না। একটা জীবন আসলে অনেক বড় একটা ব্যাপার। আর এটা তো একটা দুটা জীবন নয়, লক্ষ লক্ষ জীবনের ব্যাপার। এই লক্ষ জীবন অর্থাৎ লক্ষ স্বপ্ন আর লক্ষ মেধাকে কাজে লাগিয়ে চাইলেই পুরো পৃথিবী পাল্টে দেওয়া যায়।
এই জীবনের লক্ষ বা তারও বেশি স্বপ্নকে গলা টিপে মেরে ফেলার চাইতে বড় অবিচার আর কোনো কিছু হতে পারে না। আমার বয়সী কত শিশুদের স্বপ্ন হত্যা করা হয়েছে। তাদের অতীত ভয়ংকর, বর্তমান দুর্বিষহ এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাদের স্বপ্ন দেখার অধিকার নেই, আশা করার অধিকার নেই এবং সবচেয়ে বড় কথা, তাদের স্বপ্ন ধ্বংস করার জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে না।
আগামীতে একটা সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ (যা যে কোনো মানুষেরই অধিকার) পাবার নিশ্চয়তাটুকুও তাদের নেই। এইসব শিশুদের মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে ছিল ভবিষ্যৎ আইনস্টাইন, নেলসন ম্যান্ডেলা কিংবা জে.কে. রাওলিং। আমরা তাদেরকে নিজেকে যাচাই করার সুযোগ দিতে পারিনি। এই শিশুগুলোকে সেই সুযোগটুকু না দিতে পারার কারণে পুরো বিশ্ব এই শিশুগুলোর কাছে অপরাধী হয়ে থাকবে।

x