স্ত্রীর ওপর ক্ষোভ থেকে শ্যালিকার সন্তানদের অপহরণ

দুই শিশু এখন বাবা-মার কোলে

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ৬ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
255

স্ত্রীর ওপর ক্ষোভ থেকে শ্যালিকার দুই সন্তানকে অপহরণ করেন মাঈন উদ্দিন (৩০) নামে এক ব্যক্তি। পরে সাড়ে দশ কিলোমিটার দূরে ব্যস্ততম একটি এলাকায় নিয়ে তাদের ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ছয় ও সাত বছর বয়সী দুই ভাইবোন কোনো দুষ্টচক্রের খপ্পরে পড়তে পারত। প্রাণের শঙ্কাও ছিল। কিন্তু পুলিশের প্রচেষ্টায় শিশু দুটি উদ্ধার হয়। গ্রেপ্তার করা হয় অপহরণকারীকে। গত ২৭ অক্টোবর নগরীর হালিশহর থানাধীন রামপুরা পানির কল এলাকা থেকে আল আমিন (৭) ও ফাতেমা (৬) নামে দুই ভাইবোন নিখোঁজ হয়। তাদের মা আমেনা বেগম গার্মেন্টসকর্মী, বাবা মানিক মিয়া পেশায় রিকশাচালক।
হালিশহর থানার ওসি এস এম ওবায়দুল হক আজাদীকে বলেন, দুই শিশু অপহরণের পর তাদের উদ্ধারে শুরু থেকেই পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে অপহরণকারীকে শনাক্ত করা হয়। তাকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু দুটি বেসরকারি সংস্থা অপরাজেয় বাংলার হেফাজতে ছিল। ওখান থেকে এনে গত সোমবার বাবা-মার হাতে তুলে দেয়া হয়।
ওসি জানান, অপহরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট শফিউদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় আসামি মাঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, আসামি পেশায় রিকশাচালক ও বাচ্চা দুটির খালু। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়িও হয়। এজন্য ক্ষোভে স্ত্রীর ছোট বোনের সন্তান দুটিকে অপহরণ করে গুমের চেষ্টা চালিয়েছিল। অপহরণকারীকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে সে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রথমে বলে বাচ্চা দুটিকে বাকলিয়া এলাকার নতুন ব্রিজে নিয়ে গিয়ে গলা টিপে হত্যা করার পর নিচে ফেলে দেয়। এমন তথ্য পেয়ে পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে লাশের আলামত খুঁজতে থাকে। কিন্তু কোনো আলামত পাইনি। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে, ওইদিন অপহরণের পর রিকশাযোগে বাচ্চা দুটিকে নতুন ব্রিজে নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর সে রিকশাটি বিক্রি করে কুমিল্লায় পালিয়ে যায়।
ওসি জানান, আসামির কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পর আমরা বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করি। এর মধ্যে বাকলিয়া থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিছুদিন আগে তারা দুটি বাচ্চাকে তাদের হেফাজতে নিয়েছিল। পরে তাদের দেখাশোনার জন্য অপরাজেয় বাংলা নামে একটি সংস্থার হাতে তুলে দেয়া হয়।
অপহরণ হওয়া শিশু দুটির ছবির সাথে বাকলিয়া থানায় উদ্ধার হওয়া শিশুর ছবি মিলে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর ওই বেসকারি সংস্থার কাছ থেকে নিয়ে তাদের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন হারিয়ে যাওয়া শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

x