সোহাগের ওয়াইড বল

সঞ্জয় সূত্রধর

বুধবার , ১৭ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
27

স্কুল থেকে এসে তাড়াতাড়ি ভাত খেয়ে নিল সোহাগ। আজ তার ক্রিকেট ম্যাচের ফাইনাল খেলা, খুব টেনশন। ভাত খাওয়ার সময় ছিল সে আর তার আপন বড় ভাই, নাম দিহান। তার ভাইয়ের ভাবটা দার্শনিক টাইপের। তবে সময়ের দিকে বেশ খেয়াল। অপ্রয়োজনে এক মিনিট সময়ও অপচয়ের পক্ষে না। সারাদিন লেখাপড়া, টিউশন আর বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে খুব ব্যস্ত। সোহাগের একমাত্র ভরসার জায়গা তার বড় ভাই। খাওয়ার পর দুই ভাই মিলে খেলা নিয়ে কথা বলতে লাগলো। দিহান সোহাগকে তার বোলিংয়ের বিষয়টার দিকে ভালো করে সতর্কতা অবলম্বনের কথা স্মরণ করিয়ে দিল। সে যখন ওয়াইড দেওয়া শুরু করে এক নাগাড়ে অনেক বল দিয়ে দেয়। তারা বিছানায় ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম নিল। ঠিক চারটায় বিশ্রাম শেষে মাঠের দিকে রওনা দিল। পথে দেখা হলো সোহাগের বন্ধু এ্যানির সাথে। সোহাগ হেসেই এ্যানিকে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেইক করে নিল। কথা বলতে বলতে মাঠে পৌঁছে গেল। ভাইয়া দর্শক হিসেবে গ্যালারিতে আছে। মন আজ বেশ ভালোই আছ্‌ে তার টিমের নাম সূর্যোদয় ক্লাব। অপর টিমের নাম একতা সংঘ। মাঠে গেল অ্যাম্পায়ার আর দু’দলের অধিনায়ক। টস করা হলো। টস জিতে গেল সোহাগের দল। নিলো ব্যাট। খেলা চলতে লাগলো টেপ টেনিস বল দিয়ে। সোহাগদের পাড়ায় ক্রিকেট আইডল পোপন দা। পোপন দার হাতেই ক্রিকেটের শুভ সূচনা তাদের পাড়ায়। বিশ ওভারের খেলা। তাদের খেলা বেশ ভালোই হলো। ব্যাটিং শেষে রান হলো বিশ ওভারে ২০০। সোহাগের টিমের সবার মন খুশি। বিশ বলে ২০০ রান করা বেশ কঠিন হবে। তার টিমে ভালো বোলার আছে। এখন তাদের বোলিং করার পালা। যথারীতি খেলা চলতে লাগলো। বিপক্ষ দলের রান গিয়ে দাঁড়ালো ১৯ ওভারে ১৮০ রান। উইকেট গেল ৮। শেষ ওভার। ক্যাপ্টেন ভেবে চিন্তে বল হাতে দিল সোহাগকে। বলল নাও। আজকে খেলায় তোমার ওভারগুলোতে রানও কম হয়েছে আবার উইকেট পেয়েছো বেশি। তাই আমি মনে করি তোমাকে দিয়েই জয়টা সম্ভব। সোহাগ কেন জানি টেনশনে পড়ল। পারবো তো আমি জয় এনে দিতে? এগিয়ে এলো তার বন্ধু এ্যানি। দোস্ত, কাপটা আমাদের হবে। যাও, সাহস করে বল করা শুরু করো। কোন টেনশন যেন তোমাকে কাবু করতে না পারে। যাও দোস্ত, যাও, অনেকটা টেনশন আর চাপ নিয়ে বল করা শুরু করল। শেষ ওভারের প্রথম বল ডট। উল্লসিত দর্শক। পরের বল, দৌড় শুরু করল, দেখা গেল এই বলে সরাসরি বোল্ড। সোহাগের টেনশন কিছুটা কমলো। সতীর্থদের উল্লাস দেখে। দরকার ৪ বলে ২০ রান। শেষ উইকেট। পরপর ২ বলে ২টা চার। দরকার ২ বলে ১২ রান। মন একেবারে খারাপ হয়ে গেল সোহাগের। নিজের বোলিং ছন্দটা হারালো। আবার বল, নো বল, আর ব্যাটিংয়ের প্রান্তে হাঁকালো ছক্কা। পরের বল, করল বল এবং ডট বল, কোন রান নিতে পারল না। এবার দরকার ১ বলে ছয় রান। শেষ বল করতে গেল সোহাগ। ব্যাটে রান নাই, হয়ে গেলো ওয়াইড। আবার পরের বল করতে দৌঁড় শুরু সোহাগের। একি করল সোহাগ! এবারও ওয়াইড বল। সোহাগ একেবারে ভেঙে পড়ল। দৌঁড়ে আসলো ক্যাপ্টেন আর তার বন্ধু। এখনো সুযোগ আছে আমাদের। সঠিকভাবে করতে পারলে জয় আমাদেরই হবে। এই বলে যে যার জায়গায় চলে গেল। দুই পক্ষের দর্শকদের চিৎকার জিতবে জিতবে। সোহাগ স্থির হলো এবার সাহস নিয়ে দৌঁড় শুরু করল। না এবারও পারলো না। একটা সঠিক বল করতে গিয়ে ওয়াইড বল দিতে দিতে নিজেই হেরে গেলো এবং দলকেও হারালো। হার সোহাগই মানতে পারলো না। কাঁদতে কাঁদতে মাঠে বসে গেল। ওয়াইড বলের স্মৃতি মন থেকে আজও মুছতে পারে নি সোহাগ।

x