সেদিনের কথা ভাবলেই শিউরে উঠি

তাপস বড়ুয়া

মঙ্গলবার , ২১ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ

২৪ জানুয়ারির গণহত্যা। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন সীতাকুণ্ডের মহিউদ্দিন শামীম। আমি যখন ছবি তুলেছি, তখনো তিনি জীবিত। শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ছবির বাঁ পাশের যে মানুষটি তাকে বহন করছিলেন তার নাম ইব্রাহীম আলী জিল্লুর। তিনি তখন সিটি কলেজের জাতীয় ছাত্রলীগ কর্মী। সেদিন ফেইসবুকে জিল্লুরকে খুঁজে পেয়ে ফোন করেছিলাম। তিনি বললেন, তাপস ভাই, ২৪ জানুয়ারির সেই ছবিগুলোর জন্য আপনাকে কত খুঁজেছি! ওই ছবিগুলো এখন আমার জন্য দুর্লভ এক ইতিহাস।
মহিউদ্দিনের র মাথায় গুলি লেগেছে। ওই এলাকা যানবাহনশূন্য। কীভাবে নেওয়া যায় হাসপাতালে? আহাজারি চলছে। রক্তে ভিজে যাচ্ছে তাদের শরীর। আহত ব্যক্তিকে নিয়ে অলি-গলি দিয়ে দৌড়াচ্ছেন কয়েকজন। সে এক করুণ দৃশ্য। এর মাঝে পুলিশ আহত ও নিহতদের নিজেদের দখলে নিতে পাগলপ্রায়। জিল্লুররা সেদিন কীভাবে যে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন! সেই সময় স্বৈরাচারের ভয়ে ছবিগুলো পত্রিকার পাতায় প্রকাশ পায়নি। পরদিন ঢাকা থেকে এপির ফটোগ্রাফার পাভেল রহমান চট্টগ্রাম আসেন। আমার কাছ থেকে অনেকগুলো ছবি নিয়ে যান। পৃথিবীর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয় তা। ৩২ বছর অনেক সময়। দীর্ঘ সময় পর ভয়াবহ ঘটনায় জড়িতদের বিচার হলো। গণহত্যার বিভীষিকাময় সেই গণহত্যার সাক্ষী ছিলাম আমিও। ভাবতেই শিউরে উঠি।