সেই ডোবায় ভাসছে মুমতাহিনার স্যান্ডেল

পটিয়া ট্রাজেডি

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ
123

নতুন পাকাবাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। বাড়ির ভিটা তৈরির জন্য মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছিল ডোবা। সেই ডোবাতেই প্রাণ গেল তিন মেয়ের। প্রাণ হারানো মুমতাহিনার স্যান্ডেলটি এখনো ডোবায় ভাসছে। এদিকে বড় মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে শোক ভুলতে চাইছেন কফিল-শামীমা দম্পত্তি। গতকাল মঙ্গলবার পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো সেই তিন বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখা মিলেছে এ চিত্র। এসময় পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড দফাদারের নতুন বাড়িতে ছিল জনতার ভিড়।
সন্তান হারানো কফিল উদ্দীন বন্দরে শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি বলেন, সোমবার বন্দরে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথেই শুনতে পান তার তিন মেয়ে নতুন বাড়ির ডোবায় পড়েছে। বাড়িতে এসেই দেখেন তিন মেয়ের নিথর দেহ। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে জ্ঞান হারান অনেকবার। রাতে স্বাভাবিক হয়ে উঠেন। তিন মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
কফিলের স্ত্রী শামীমা আকতার অনেকটা নির্বাক। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তার মেয়ে মুমতাহিনা ও সাদিয়া সোমবার দুপুরে স্কুল থেকে এসে খাওয়া শেষ করে ঘুমায়। প্রাইভেট টিচারের কাছে পড়তে যাওয়ার জন্য বিকাল ৩টায় ডেকে দেওয়া হয়। মুমতাহিনার দাঁতে ব্যথা অনুভব করায় ডোবা থেকে মুখ ধুয়ে আসতে বলেন। মুমতাহিনার সঙ্গে দুই মেয়ে সাদিয়া ও মাইশাও যায়। এক পর্যায়ে মুমতাহিনা ডোবায় পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে দুই মেয়ে পড়ে যায়। খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ পর ডোবায় গিয়ে প্রথমে মুমতাহিনা, পরে অন্যদের লাশ খুঁজে পান।
বড় মেয়ে সামিয়া আকতার চরকানাই বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। সেও স্কুল থেকে এসে তিন বোনের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে বলে, তিন বোনকে সবসময় দেখে রাখত সে। সোমবার সকালে সামিয়া, সাদিয়া ও মুমতাহিনা একসাথে স্কুলে যায়। সেটি ছিল তাদের শেষ দেখা। স্কুল থেকে বাড়ি এসে সাদিয়া, মুমতাহিনা ও মাইশার লাশ দেখে সে।

x