সুস্থ থাকুন রমজানে

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ১১ মে, ২০১৯ at ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
105

রোজা একটি ফারসি শব্দ। সোজা কথায় সারাদিন কিছু না খেয়ে উপোষ থাকাকে রোজা বুঝায়। রমজান হলো এমন একটি মাস যা অনন্যা মাসের চেয়ে অনেক উত্তম, মহিমান্থিত এবং রহমতের অন্যবদ্য একটি মাস। রহমত, মাগফেরাত, নাযাত এই তিন ভাগে রমজানের মাসকে ভাগ করেছেন। প্রথম ১০ দিন রহমত, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফেরাত, শেষের ১০ দিন নাজাত। তাই রমজানে সারাদিন কিছু না খেয়ে থাকার পর ইফতারির পরে আমরা সামনে যা পাই তাই খেয়ে থাকি। এটি ছাড়াও আমরা সবাই মনে করি সারাদিন কিছু খাচ্ছি না শরীরের ওজন কমে যাচ্ছে। অনেকে সারা বছর শারীরিক ফিট থাকার চেষ্টা করেন, ব্যায়াম করেন, এমাসে রমজানের ইস্যু নিয়ে শরীরের প্রতি কেয়ার নিতে আলসেমি করেন, এটি একেবারে ভুল ধারণা। এ সময় সাধারণত তেলের ভাজা-পোড়া খাবার আমরা একটু বেশি খেয়ে থাকি। আপনি হিসাব করে দেখুন অন্যান্য মাসের চেয়েও এমাসে আপনি খাবার কিন্তু বেশি খাচ্ছেন। এছাড়া আমরা বাঙালিরা অতি ভোজন রসিক। আমরা রমজানের নির্দিষ্ট সিয়াম সাধনা থেকে দূরে থাকতে আকর্ষিত। রমজানে আমাদের যে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত তা তো করিও না বরং করি তার উল্টো। রমজানে বেশি বেশি তেল জাতীয় খাদ্য খাবার কারণে এসময় আমাদের শরীরের দিকে একটু বেশি করে খেয়াল রাখা দরকার। বিশেষকরে ডায়াবেটিস, বাত-ব্যথা জাতীয় রোগী, হার্টের অসুস্থদের এসময় বেশি বেশি নিয়ম-কানুন মেনে চলা উচিত। এছাড়া রমজানে রাতের বেলায় জিম সেন্টার গুলোতে যুবকরা হুমরি খেয়ে পড়ে সামনে ঈদের কারণে। তাই ধর্মীয় অনুসাশনের মধ্যে থেকেও আমাদের স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখতে হবে সব নিয়ম-কানুন মেনে।
সুস্থ থাকতে পরামর্শ

দিনের বেলা রোজা রাখা অবস্থায় কোনো মতেই ব্যায়াম করতে যাবেন না। কিন্তু আপনি যদি কোন ডায়াবেটিস, হার্ট বা অন্যান্য ব্যথাজনিত রোগে ভুগে থাকেন বা স্থুলকায় হন তবে, নামাজ পড়ে বা নামাজের পূর্বে সময় করে করতে পারেন। আপনার হাঁটাহাঁটি, জগিং, সাইকেল ও খালি হাতের ব্যায়াম করতে পারেন। এছাড়া আমাদের দেশের মানুষেরা একটি ভুল ধারণা নিয়ে আছেন, সেটি হলো বয়স একটু বেড়ে গেলে আমি বুঁড়ো হয়ে বা মুটিয়ে গেছি নানা চিন্তা করি আমার আবার ব্যায়াম কি জন্য? কিন্তু অবশ্যই মনে রাখতে হবে আপনার বয়স যত বাড়ছে তত আপনার শরীরের জন্য ব্যায়াম খুব দরকার। তাই সময় পেলে লেগে পডুন ব্যায়ামে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে রোজার দিনে একটু ব্যস্ত থাকতে হয় কারন ঘরের কাজের জন্য। তারপরও সময় নিয়ে ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাই যারা ব্যায়ামবিদ বা ব্যায়াম করতে আগ্রহী তারা ইফতারি করার কমপক্ষে ১ ঘন্টা বা তার থেকে বেশি সময় পর ব্যায়াম করুন। যারা জিমে গিয়ে করতে চান না তারা হাঁটতে পারেন ২০-৩০ মিনিট, স্থির সাইকেল চালাতে বা ক্রস ট্রেইনিও করতে পারেন। আমার মতে আপনাকে অবশ্যই ইফতারির কিছু সময় রেস্ট নিয়ে ব্যায়াম করা বেশি ভালো কারন সারাদিন রোজা রাখার পর আপনার শরীর ক্লান্ত, এছাড়া আপনি ইফতার করার পর পর কখনও জিমে এসে ব্যায়াম করতে মনে চাইবে না। তবে আপনার যদি আত্নবিশ্বাস থাকে তবে করতে যাবেন। যারা জিমে ব্যায়াম করবেন তাদের জন্য এধরনের নিয়ম। এখন ব্যায়ামের আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনতে পাওয়া যায় বাজারে। তবে জিমে এসে ব্যায়াম করা গেলে সবচেয়ে ভালো।
রমজান মাসে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব

রমজান মাসে অন্যন্যা মাসের চেয়ে ধর্মপ্রাণরা নামাজ-কালাম বেশি পালন করে থাকেন, এসময় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে হয় বেশি তাই বেশিরভাগ মানুষের হাঁটু ব্যথাজনিত প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। তাই ব্যথা শুরু করার সাথে সাথে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা ফিজিওথেরাপিষ্টের পরামর্শ নিতে পারেন। রোয়া অবস্থায় আপনি চাইলে যেকোনো ধরনের ফিজিওথেরাপি নিতে পারেন, এতে রোযার কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। ইলেট্রো-থেরাপি বা এঙারসাইজ থেরাপিও নিতে পারেন। যেকোনো থেরাপি নিতে চাইলে আপনি ক্লান্তি অনুভব করবেন না। এখন রোদের তাপমাত্রা বা গরম বেশি হওয়াতে পানির চাহিদা শরীরে বেশি। এজন্য ইফতারে ও তারপর প্রচুর পরিমানে পানি বা সরবত পান করুন। ব্যায়ামের পর খনিজ উপাদান ও লবণসমৃদ্ধ পানীয় পান করতে পারেন। হৃদরোগী ও ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপে রোগীরা এ সময় চিকিৎকের পরামর্শ নিন।

x