সুশিক্ষাই শক্তি, সুশিক্ষাই মুক্তি

আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্হা

সানজিদা সুলতানা, নাভিনা তাহরিন, ফাহমিদা কামাল

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:০১ পূর্বাহ্ণ
34

সুশিক্ষাই মুক্তি আবার কুশিক্ষাই অবনতি, কুশিক্ষাই ধ্বংস। শিক্ষা মানুষের পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্ব গঠন করে। মানুষের চেতনাগত, নৈতিক, মানবিক ও আধ্যত্মিক বিকাশ ঘটায়। যদি শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট মূল্যবোধ ও লক্ষ্য থাকে, কেবল তখনই শিক্ষা হয় জাতির মেরুদণ্ড। তাই শিক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার ও ভবিষ্যৎ সমাজ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এভাবে সুশিক্ষা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে কয়েকবার। তবে শিক্ষা কমিশন তৈরি করেও এর ফল ভালো হয়নি। বর্তমানে আমাদের সন্তানরা আদর্শ সোনার মানুষ হয়ে উঠার সুযোগ পাচ্ছে না। বরং ছাত্র-ছাত্রীরা নৈরাজ্যের মধ্যে তাদের সময় অতিবাহিত করছে, ফলে মানবতাবোধসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠছে না।

প্রথমত : আমাদের পাঠ্যবই সমাজতান্ত্রিক ধাপে পঠিত হওয়ায়, আদর্শিক ছাত্র ছাত্রীরা সুশিক্ষা লাভ করতে পারছে না।
দ্বিতীয়ত : নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে প্রচলিত শিক্ষার অভাব আরও প্রকট হচ্ছে।
তৃতীয়ত : পরমত অসহিষ্ণুতার ফলে ছাত্র ছাত্রী সবসময়ই চেষ্টা করে কিভাবে ভিন্ন মতাদর্শের লোকদের যেকোন প্রকারে ঠেকানো যায়।
চতুর্থত : শ্রদ্ধাবোধের অভাবে আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় শ্রদ্ধাবোধ জাগাবার কারিকুলাম নেই এবং এর পরিবেশও নেই।
পঞ্চমত : আদর্শিক শূণ্যতা শিক্ষা ক্ষেত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সকল অঙ্গনে আদর্শিক শূন্যতা বিরাজ করছে যা সকলের মন থেকে ক্রমধারায় দায়িত্বনুভূতি দূর করছে।
ষষ্ঠত : রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে বর্তমান শিক্ষার সকল পর্যায়ে রাজনীতি ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে শিক্ষকরা শিক্ষাদান আর ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা গ্রহণ থেকে সরে গিয়ে বিভিন্ন অপরাজনীতির সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে। এতে সন্ত্রাস ও মাস্তান তৈরি হচ্ছে।
আমাদের শিক্ষা সমস্যার প্রতিকার

১ম প্রতিকার : সর্বাগ্রে আদর্শভিত্তিক ভাল টেক্সবুকস সৃষ্টি করতে হবে, যার মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীরা সুশিক্ষার সুযোগ লাভ করবে।
২য় প্রতিকার : সুনাগরিক সৃষ্টি করতে হলে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের অভাব দূর করতে হবে।
৩য় প্রতিকার : বাংলা ভাষা শিক্ষা দেয়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদেরকে আরবী ও ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে তারা জ্ঞান বিজ্ঞানে পান্ডিত্য অর্জন করতে পারে। তাছাড়া দেশ বিদেশে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে যোগ্য হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
৪র্থ প্রতিকার : আদর্শভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আল্লাহ্‌ভীতি ও মানবতাবোধ জাগ্রত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্য মতাদর্শের লোকদের উপর অন্যায়ভাবে আঘাত হানার বিষয়ে বাধানিষেধ জোরদার করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধীরে ধীরে মানবিকতা জাগ্রত হবে।
৫ম প্রতিকার : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি শর্ত সাপেক্ষে করতে দেওয়া, কোন অবস্থাতেই সন্ত্রাস করতে না দেওয়া, প্রয়োজনে এক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে।
৬ষ্ঠ প্রতিকার : শিক্ষার ক্ষেত্রে নিম্নমানের নোট বুক প্রকাশে বিধি নিষেধ জোরদার করা। ছাত্র ছাত্রীদেরকে সহায়ক গ্রন্থের সাহায্যে নোট তৈরী করতে উৎসাহ দেয়া।

লেখকবৃন্দ : শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।

x