সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

চুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

রাউজান প্রতিনিধি

রবিবার , ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে চুয়েট ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাত ১ টার পর চুয়েটের মূল ফটকের কাছে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ রাতে চলছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সুবর্ণজয়ন্তীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মঞ্চে চলছিল নগরবাউল জেমস এর গান। হঠাৎ করে চুয়েটের মূল ফটকে চিৎকার ও হৈ চৈ শুনে আতংকে প্যান্ডেলে থাকা অধিকাংশ শ্রোতা দিগবিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে।
ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ঠেকাতে এসময় পুলিশের এ্যাকশন শুরু হলে এক পুলিশের লাঠির আঘাতে এক চুয়েট ছাত্রের মাথা ফেটে যায়। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা লোহার রড, কাঠের বাটাম, ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশের উপর চড়াও হয়। এঘটনায় চুয়েট এলাকায় নিরাপত্তায় দায়িত্বপালনকারী কয়েকজন পুলিশ আহত হয়। চুয়েটের ইলেক্ট্রিক বিভাগের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওয়াসিফ রাশেদ অভিযোগ করে বলেন- আমাদের কিছু শিক্ষার্থী রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে খাবার খেতে বের হয়েছিল। ওই সময় গেইটের বাইরে বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠান দেখতে ভেতরে ঢুকতে জড়ো হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা খাবার খেয়ে ভেতরে পুন:প্রবেশ করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এসময় পুলিশ পরিচয়পত্র চাইলে কয়েকজনের শিক্ষার্থীর সাথে তখন পরিচয়পত্র ছিল না। পরিচয়পত্র থাকা শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র না থাকা চুয়েট শিক্ষার্থীদের সনাক্ত করে তাদের প্রবেশে বাধা না দেয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেন। এ অনুরোধ উপক্ষো করে পরিচয়পত্রবিহীন শিক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে না দেয়ার পক্ষে অটল থাকে পুলিশ। এতে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদি হয়ে উঠলে তর্কের মধ্যে এক ছাত্র এক পুলিশকে ধাক্কা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দায়িত্বে থাকা পুলিশদল জটলা সৃষ্টিকারীদের উপর এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- এ ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে আটক ও মারধর করে আহত করেছে পুলিশ। রাতে এখবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছে। তবে পুলিশ ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছে। ঘটনা সম্পর্কে জানতে রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ওই রাতে সেখানে দায়িত্বপালনকারী এসআই শেখ জাবেদ মিয়া দাবি করেছেন- চুয়েট প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে বহিরাগতদের ভেতরে প্রবেশে পুলিশ বাধা দিয়েছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী কয়েকজন বহিরাগতকে সাথে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে তারা পুলিশকে ধাক্কা দেয়। পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এঘটনায় কয়েকজন পুলিশ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এসময় অশোভন আচরণকারী একজনকে ধরে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি কোনো শিক্ষার্থী আহত হওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
এবিষয়ে চুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মসিউল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- এ ঘটনায় পুরোকৌশল বিভাগের এক ছাত্র আনাস মৃধাসহ দুই ছাত্র আহত হয়েছে বলে শুনেছি। তিনি জানান, এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে। জানা যায়, এখন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

x