সুফিয়ানে ভরসা বিএনপির

চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচন

মোরশেদ তালুকদার

বুধবার , ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ানের ওপর ভরসা রাখল বিএনপি। চট্টগ্রাম(চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে। গতকাল সন্ধ্যায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর হাতে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন ফরম তুলে দেন। যদিও প্রার্থী হতে দলটির পার্লামেন্টারি বোর্ডের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান এবং নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ এল্লাহও। বিএনপির একটি অংশ আবু সুফিয়ানকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছিলেন। এমনকি তাঁকে ঠেকাতে ‘স্থানীয়’ ব্যক্তিকে দলীয় প্রার্থী করারও দাবি করেছিলেন এরশাদ উল্লার অনুসারি হিসেবে পরিচিত দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে আবু সুফিয়ান দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘দল আমার উপর আস্থা রেখেছে। এজন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এখন জনগণের কাছে যাব। আমার বিশ্বাস, সুষ্ঠু ভোট হলে জনগণ বিএনপি’কে গ্রহণ করবে।’

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে দলের প্রার্থী হয়েছিলেন আবু সুফিয়ান। সেবার তিনি ৫৯ হাজার ১৩৫ ভোট পেলেও পরাজিত হন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদলের কাছে। এর আগে ২০০৮ সালে বিএনপি’র প্রার্থী ছিলেন এরশাদ উল্লাহ। সেবার তিনি ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৪৬৬ ভোট পেলেও পরাজিত হয়েছিলেন মইন উদ্দীন খান বাদলের কাছে। আসনটিতে সর্বশেষ বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম সংসদ নির্বাচনে মোরশেদ খান বিজয়ী হয়েছিলেন। গত ৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের মাধ্যমে কারাবন্দি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন এম মোরশেদ খান। যদিও একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তিনি।

এদিকে আবু সুফিয়ানের অনুসারিরা দৈনিক আজাদীকে বলেছেন, চট্টগ্রামের বিএনপির রাজনীতিতে ত্যাগী নেতা ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি আছে আবু সুফিয়ানের। দলের জন্য গত ৩২ বছর ধরে তিনি নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দু:সময়ে দলের হাল ধরেছেন বার বার। গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন অনেকবার। বিএনপির রাজনীতিতে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তাও আছে বলে দাবি করেছেন নগর বিএনপি’র সহদপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের মাধ্যমে শুরু আবু সুফিয়ানের রাজনৈতিক জীবন। তিনি ১৯৮৪ সালে তিনি নগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সম্মেলনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও নগর ছাত্রদলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে মুসলিম হলে নগর ছাত্রদলের সম্মেলনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ কমিটির মেয়াদ শেষে আবারো আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও আলহাজ্ব দস্তগীর চৌধুরীর নগর বিএনপির কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই কমিটির মেয়াদ শেষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নগর বিএনপির আহবায়ক নির্বাচিত হলে এ কমিটিতে আবু সুফিয়ান যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন। পরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ডাক্তার শাহাদাত হোসেনের কমিটির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে ঘোষিত ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাসেম বক্করের বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়া ২ অক্টোবর দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক করা হয়। তিনি ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্স সম্পন্ন করেন।

প্রসঙ্গত, মইন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে শূণ্য হয় চট্টগ্রাম৮ আসনটি। এতে আগামী ১৩ জানুয়ারি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১ ডিসেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৫ ডিসেম্বর এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ ডিসেম্বর। নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)

x