সুন্দর ত্বকের জন্য ব্যায়াম

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
62

নিয়মিত ব্যায়াম আপনার শরীর, হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, রক্তনালিকে ভালো রাখে-একথা তো কম বেশি আমরা সবাই জানি। কিন্তু ত্বক ভালো ও সুন্দর রাখার বিষয়ে ব্যায়ামের কি কোনো ভুমিকা আছে? ব্যায়াম বলতে জোরে জোরে হাঁটা, জগিং, যোগাসন, জিমে গিয়ে ব্যায়াম, খালি হাতের ব্যায়াম ইত্যাদিকে বুঝায়। শারীরিক ব্যায়াম করলে ত্বকের নিচের রক্তনালিতে রক্ত চলাচল বাড়ে। এভাবে ত্বকে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান সরবরাহ নিশ্চিত হয়। একইভাবে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর উপাদান সরিয়ে নিতেও ব্যায়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমায়। স্ট্রেস কমলে ব্রণ, সোরিয়াসিস ইত্যাদিও উপসর্গ কমে। অনেকেই ভাবেন, অ্যালার্জি, একজিমা বা সোরিয়াসিসে আক্রান্ত লোকজন বাইরে হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করলে, তাঁদের রোগের উপসর্গ হয়তো বেড়ে যাবে। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এসব সমস্যায় ব্যায়াম করতে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে ত্বকের সমস্যায় ব্যায়াম করার সময় কিছু বিষয় লক্ষ রাখতে হবে। প্রখর রোদ ত্বকের ক্ষতি করে। তাই ব্যায়াম বা হাঁটার সময় ভোরবেলা অথবা সকাল বা বিকেলের মিষ্টি রোদ বেছে নিন। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে বাইরে ব্যায়াম না করাই ভালো। বাইরে সূর্যালোকে ব্যায়াম করার সময় ত্বকে ভালো মানের সানস্ক্রিন লাগিয়ে নেওয়া ভালো।
অনেকে এটা লাগাতে চান না, কেননা ঘাম বেশি হয়। তবে রোদের সময় ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি না করাই শ্রেয়। কিন্তু তেলবিহীন বা এইচ ব্যালান্সড সানস্ত্রিনে অত ঘাম হয় না। তবে বেশি ঘেমে গেলে সানস্ক্রিন সরে যায়, তাই রোদে বের হলে ফুলহাতা জামা-প্যান্ট পরাই ভালো। অনেকের বাইরে ব্যায়াম করার পর গায়ে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ ওঠে, কারও ত্বক জ্বালা করে। এদের জন্যও প্রখর রোদে বের না হওয়া ভালো। ঢিলোঢালা সুতির জামা পরে ব্যায়াম করবেন। মেকআপ নিয়ে ব্যায়াম করতে কখনোই বেরোবেন না। আগেই মুখের ত্বক পরিষ্কার করে ধুয়ে নিলে ব্রণ কম হবে। ফিরে এসে গোসল সেরে নিন এবং সারা গায়ে হালকা ময়েশ্চার লাগান। যাদের সময় আছে তাঁরা সপ্তাহে কয়েকদিন সাঁতার কাটতে পারেন। সাঁতার খুবই উপকারী একটি ব্যায়াম। সাঁতারের মতো ব্যায়াম করার পর অবশ্যই ভালো করে গোসল করে নিন এবং ত্বকে ময়েশ্চার লাগান। কেননা পুলের পানিতে ক্লোরিন থাকে, যা ত্বককে শুষ্ক করে দেয় এবং কখনো জ্বালাও করে।

x