সীতাকুণ্ডে শেষ মুহূর্তে সরব নৌকা ধানের শীষের নীরব প্রচারণা

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

শুক্রবার , ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ
34

সীতাকুণ্ডে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সরব থাকতে দেখা গেছে নৌকা সমর্থকদের। গতকাল বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা মুখর ছিল ‘দিদার ভাইয়ের সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন, ৩০ তারিখ সারাদিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন’ শ্লোগানে। তবে ধানের শীষের প্রচারণা তেমন সরবে না চললেও বিভিন্ন এলাকায় নীরবে চালিয়েছেন সমর্থকরা। তারা প্রতিপক্ষের হামলা ও পুলিশের আটক আতংকে প্রকাশ্যে মাঠে নামতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন দিদারুল আলম। গণসংযোগকালে তিনি বলেন, ‘নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। মানুষের ভালোবাসায় নৌকার জয় হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। যার উদাহরণ সীতাকুণ্ডের প্রতিটি অঞ্চলে দৃশ্যমান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাঁচশ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে সীতাকুণ্ডের চিত্র পাল্টে গেছে। এ উন্নয়ন আগামীতেও হবে।’
এদিকে প্রচারণার শেষ সময়ে বারৈয়াঢালা ইউপি চেয়ারম্যান রেহানউদ্দিন রেহানের নেতৃত্বে বিকালে বড় দারোগারহাট বাজারে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া যুবলীগ নেতা সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সারাদিন বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে গণসংযোগ করেন। অন্যদিকে সৈয়দপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামীর নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করেন এবং বিকালে সৈয়দপুরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া সীতাকুণ্ড পৌরসভায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গণসংযোগ করেন। বিকালে মেয়র বদিউল আলমের নেতৃত্বে পৌরবাজারে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সারাদিন নৌকার প্রচারণা চালান। এসময় প্রচারণায় অংশ নেন বাড়বকুণ্ড চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লা মিয়াজী, মুরাদপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদ হোসেন নিজামী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মহসীন জাহাঙ্গীর, আওরঙ্গজেব সাবু, জয়নাল আবেদিন সুজা প্রমুখ।
বাঁশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে খণ্ড খণ্ড মিছিল করেন। কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে বিকালে কুমিরা বাজারে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে উঠান বৈঠকসহ গণসংযোগ করেন। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য আ.ম.ম দিলশাদ এবং আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইদ্রিসের নেতৃত্বে সোনাইছড়ি ইউনিয়নে সারাদিন গণসংযোগ করেন। বিকালে প্রায় ৫শ কর্মী সমর্থক নিয়ে বিশাল মিছিল সোনাইছড়ি বাজারে অনুষ্ঠিত হয়। ভাটিয়ারি ইউপি চেয়ারম্যান নাজীম উদ্দিনের নেতৃত্বে ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে গণসংযোগ চালানো হয়। এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিদারের সহধর্মিণী ইসমত আরা স্থানীয় মহিলা নেত্রীদের সাথে নিয়ে উপজেলার বিভিন্নস্থানে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন।
অপরদিকে হামলা, মামলা ও পুলিশ আতংকে ধানের শীষের সমর্থকরা অনেকটা নীরবে গণসংযোগ করেছেন বলে দাবি করেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তফাজ্জল হোসেন বলেন, পুলিশের ধরপাকড়ের ভয়ে প্রচারণা চালাতে পারছি না। নৌকার কার্যালয়ে নিজেরাই অগ্নিসংযোগ করে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকেসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের আসামি করেছে। তাদের উদ্দেশ্য বিএনপিকে এলাকা ছাড়া করা। কিন্তু বিএনপির দুর্গ ভাঙা সহজ হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের জয় হবে বলেও দাবি করেন তিনি। ধানের শীষের প্রার্থী ইসহাক কাদের জানান, এলাকায় ধানের শীষের পোস্টার নেই, প্রচারণা নেই। তারপরও নীরবে ধানের শীষের জোয়ার দেখে আওয়ামী লীগের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এখন তিনি যেকোনো উপায়ে জয় লাভের স্বপ্ন দেখছেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাকে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রচারণায় হামলা চালানো হচ্ছে। আমার বাসার সামনে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা অবস্থান নিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। তাই আমি ঘরে বসে প্রচারণার শেষদিনে আমার দলের লোকজন এবং স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলেছি। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে নীরব প্রতিবাদ জানাবে। এজন্য সবাইকে দলবেঁধে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান ইসহাক।

x