সিনেমার মধ্যে একটি চিন্তা সবকিছুকে পরিবর্তন করবে জাফর পানাহি

ভাষান্তর: দেবাশীষ ধর

মঙ্গলবার , ৮ অক্টোবর, ২০১৯ at ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ
64

অফস্ক্রিন: মন্ট্রিলে প্রদর্শনীতে আপনার ‘দ্যা হোয়াইট বেলুন’ সিনেমাটি দেখেই আমার খুব ভালো লেগেছিলো। আপনি এই সিনেমার পরিচালনার আগে কিয়েরোস্তামির সাথে কাজ করেছিলেন, তিনি এটির স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন এবং আপনি পরিচালনা করলেন। সিনেমা দেখে আমার কাছে এটা মনে হয়েছে যে কিয়েরোস্তামির সাথে ভিন্নতার ব্যাপার হচ্ছে আপনি সিনেমায় একটা মেয়েকে মূল চরিত্রে রেখে পুরো গল্পটিকে তুলে ধরেছেন। আপনার বেশিরভাগ ছবিতে এরকমটা দেখা যায়, নারী বা মেয়ে চরিত্রকে প্রধান ভূমিকায় রেখে এগিয়েছে। আপনার এই বাস্তবতাকে ধারণ করার আঘাত চেতনাতে বেশ ভালোভাবেই নাড়া দিতে পারে। তাই কিয়েরোস্তামির সাথে আপনার কাজের কথা কিছু যদি শেয়ার করতেন?
পানাহি: ছাত্রাবস্থায় যখন সহকারী হয়ে কাজ করছিলাম কিছু শর্ট ফিল্মও বানালাম। পরবর্তীতে আমি পরিচালক আব্বাস কিয়েরোস্তামির সাথে ‘থ্রো দ্য অলিভ ট্রিস’ ছবিতে সহকারী হয়ে কাজ করলাম এবং এটির সাফল্যের পর আমার নিজের ছবিগুলো নিয়ে কাজ শুরু করলাম। কিয়েরোস্তামিকে বলেছিলাম ‘দ্যা হোয়াইট বেলুন’ গল্পটিকে আমার প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ হিসেবে বিবেচনায় নিতে। আমি এটাকে একটি শর্ট ফিল্ম বানাবো বলে ভেবে রেখেছিলাম কিন্তু তিনি আমাকে বললেন না এটা একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবির গল্প হতে পারে। যেকোন কাজ প্রথমে শুরু করতে গেলে বরাবরই সেটা বেশ কঠিন হয়। টেলিভিশনে কাজ করার সময় কিয়েরোস্তামির সাথে আমার কথা হয়েছিলো এবং পরে তখন তিনি প্রযোজকদের শিশু চরিত্রকে কেন্দ্রস্থল করে সিনেমা বানাতে বললেন যা আমার জন্য প্রধান ভরসার জায়গা হয় এবং তিনি নিজেও গল্পটির পুরো চিত্রনাট্য লিখতে রাজি হলেন যার ফলে আমি সিনেমাটি যথাযথভাবে শেষ করতে পেরেছি। আর এভাবে স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার প্লটটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় রূপ নিল।

অফস্ক্রিন: একটা মজার বিষয় এবং বিভেদ হচ্ছে যে কিয়েরোস্তামি যেখানে সবসময় তাঁর সিনেমাগুলোতে বালক এবং পুরুষদের নিয়ে কাজ করেছিলেন আর আপনি সেখানে আপনার সিনেমায় বেশিরভাগ মেয়ে, নারীদের নিয়ে কাজ করলেন। আপনার প্রথম সিনেমা দুটিতে একজন কিশোরীকে নিয়ে কাজ করেছিলেন সে ব্যাপারে যদি আপনি কিছু বলতেন, যার নাম আইদা মোহাম্মদ খানি, সেই কি আপনার ‘দ্য মিরর’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন?
পানাহি: আমি আমার চার বোন এবং দুই ভাই নিয়ে আমরা নিম্নশ্রেণির পরিবারে থাকতাম। আমি আসলে সত্যিই জানি না যে কোথা থেকে শুরু করবো তবে আমি যখন ‘দ্যা হোয়াইট বেলুন’ মুভির কাজ শুরু করলাম তখন আমি ভাবছিলাম একজন ছোট বালকের সম্ভাব্য দৃশ্যের চেয়ে মূল চরিত্রটি ঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলাই অনেক বেশি হয়তো সম্পর্কযুক্ত। আমার দ্বিতীয় ছবির চরিত্রটি আরো বেশি জটিল ছিলো এবং ওই চরিত্রে আসলে আইদার বোন মিনা অভিনয় করেছিলো।
অফস্ক্রিন: যাই হোক তাদের দুজনের বেশ চমৎকার অভিনয় দেখে আমি আশ্চর্য হলাম। তাঁরা কি এখনো অভিনয় করছেন?
পানাহি: দুর্ভাগ্যবশত করছে না। আমরা শিশু অভিনেতাদের সাথে একটু ভিন্নভাবে কাজ করি। তাঁদের অভিনয় সঠিকভাবে না হলে তবে তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত কাজটা বেরিয়ে আসবে না যা আমাকে সিনেমায় দেখাতে হবে এবং তাদেরকে একজন নির্দিষ্ট পরিচালকের সাথে কাজ করতে হয়। এরপর সে যদি আরেকজন নতুন পরিচালকের সাথে কাজ করে তখন পরিচালক তাঁর কাছ থেকে সিনেমার চরিত্রে যা প্রত্যক্ষ করছেন শিশুটির তা বুঝে উঠতে কষ্ট হয় বা হয়তো সেটা ধরতে পারে না সে ঠিকভাবে। ‘দ্যা হোয়াইট বেলুন’ মুভির পর আইদা যখন আরেক নির্মাতার সাথে সিনেমায় কাজ করছিল, অবশ্য তাকে আমি চিনতাম এবং তাঁর প্রথম শুটিং এর দিন পর তিনি আমার কাছে এসেছিলেন ও আইদাকে নিয়ে একটা সমস্যার কথা বললেন। আমার সিনেমার ক্ষেত্রে আমি শব্দ, কথোপকথন সরাসরি রেকর্ড করেছিলাম, কিন্তু এই সিনেমায় তাঁকে বলা হয়েছিলো পরে তাঁর শব্দ সংযুক্ত করে দেয়া হবে যেটা তার কাছে ভালো লাগেনি। সে বলেছিলো, ‘আমি যখন অভিনয় করবো, তখন আমার কণ্ঠ সরাসরি রেকর্ড হতে হবে । কিন্তু অবশ্য তাঁকে এটা বলা হয়েছিলো যে মি. পানাহির মতো আমরা সরাসরি না করে পরে কণ্ঠ সংযুক্ত করবো। সে মি. পানাহিকে নিয়ে তাদের আর কিছু না বললেও এটাই তাদের বুঝাতে চাচ্ছিল যে এবং তাঁর অনুভূতি এমন যে (যেটা তার একটি ইরানিয়ান ভঙ্গিমা), মি. ‘পানাহির মাথার একটি চুলের মূল্য আপনাদের সবার চেয়ে অনেক বেশি।’ স্পষ্টতই তার অভিনয় কখনো পেশাদারী নয় এবং তারা যেভাবে চেয়েছিলো সেরূপ সে ওরকম অতটা ভালো কাজ দিতে পারে নি। পরবর্তী সিনেমায় এরকম শিশু চরিত্রকে উপযোগী করে নেয়া অতটা সহজ হয় না তাদের ক্ষেত্রে।
অফস্ক্রিন: ‘দ্যা হোয়াইট বেলুন’ সিনেমায় আইদা’র চরিত্রটি অন্যান্য সিনেমাতে মেয়ে চরিত্রগুলোর মতোই খুব জোরালো ছিলো। এবং ‘দ্য মিরর’ এ তার বোনের চরিত্রটা ছিলো পুরোপুরি একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের, যা কিনা সে দুই চরিত্রে অভিনয় করলো, একটি সিনেমার কাহিনীর চরিত্রে এবং তারপর আচমকা আবার সিনেমাটি ‘ডকুমেন্টারি’ মুডে ঘুরে যায়, কারণ স্পষ্টভাবেই তখন তাঁর এই প্রকৃতি সে কোনভাবেই জানতো না। আপনি কি আপনার প্রথম দুই ছবিতে মেয়েদের কিংবা নারীর ভেতরের শক্তিমত্তাকে দেখাতে চেয়েছেন, যেটা তাদেরকে তাদের জীবনযাপনে নিজেদের সমস্যাগুলোকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে?
পানাহি: যেরকম চাই অভিনেতাদের অভিনয় সেইভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আমার কোন সংশয় ছিল না। এ ব্যাপারে আমি সুনিশ্চিত ছিলাম। তাই আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যে এমন একজনকে খুঁজে নেয়া যে এই অভিনয়ের জন্য উপযুক্ত। আমি তাঁর বোনকে নির্বাচন করলাম। কেন? আমি তার ভেতরে একটা শূন্যতার অনুভূতি খুঁজে পেলাম এবং তাঁকে সারা বিশ্বে উপযুক্তের প্রমাণ করানোটা আমার দৃঢ় সংকল্প ছিলো। আমি তার ব্যক্তিত্বে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে ইতিবাচকে পরিবর্তন করলাম। অভিনেতার শক্তিমত্তা এবং অক্ষমতাকে ভালোভাবে বুঝতে পারাই হচ্ছে একজন পরিচালকের সবচেয়ে গুরুত্বের বিষয় এবং এরপর চরিত্রের জন্য তাকে সেইভাবে উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই মুখ্য কাজ। শিশু চলচ্চিত্র নির্মিত শাখায় ( শিশু এবং তরুণ উন্নয়ন বুদ্ধিজীবী ইন্সটিটিউট,‘কানুন’ ) শিশু অভিনেতাদের সাথে তাদের অনেক রুটিন বেঁধে কাজ করিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আমি আলাদা ছিলাম। আমি শিশু চরিত্রের ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে আমার প্রতীক্ষিত যা ছিলো সেগুলোকে দেখিয়ে অভিনয়ের কাজটাকে এগোতে থাকি, যেহেতু সে আমাকে অনুকরণ করছিলো। সবসময় তাকে তার মতো করে ছাড় দিয়েছিলাম যাতে তার চরিত্রের জায়গাটি তার নিজের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। এইভাবে তার মধ্যে সিনেমার দৃষ্টিকোণ থেকে এবং অভিনয়ের জায়গা থেকে একটি সঠিক ভাবমূর্তি যথাযথভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো।
অফস্ক্রিন: এটা খুব সম্ভবত ভিট্টোরি ডি সিকা’র ‘বাইসাইকেল থিভস’ এর অল্পবয়স্ক ছেলেটির মতোই সূক্ষ্ম কাজ।
পানাহি: আসলে আমার তৃতীয় সিনেমা ‘দ্য সার্কেল’ একরকমভাবে ডি সিকা’র ‘বাইসাইকেল থিভস’ থেকে নেয়া হয়েছে। ওই সিনেমাটি আমি ১৫-১৬ বছর বয়সে থাকতে দেখেছিলাম। এর কিছু বিষয় আমাকে বেশ মুগ্ধ লেগেছিলো। বিশেষ করে অই ব্যাপারটি খুব ভালো লেগেছিলো যে লোকটির বাইসাইকেল চুরি হয়েছিলো, তার নিজের মনোভাব তাকে চুরির দিকে নিতে বাধ্য করছিলো।
অফস্ক্রীন: ব্যতিক্রমভাবে, এখানে ইটালিয়ান শব্দ ‘লাদ্রি’ একজন চোরকে বুঝালেও শিরোনাম ‘লাদ্রি দি বাইসাইক্লিট’কে তাই ইংরেজিতে অনুবাদ করে বহুবচনে আমার ‘বাইসাইকেল থিভস’ শিরোনাম জোর দিয়ে বলতে ভালো লাগে। আমি ‘মুভিং ক্যামেরা এস্টেটিক’ নামে একটি কোর্স শিখাই যাতে ফিল্মের ধরণ ,পূর্বের এবং এখনের ধরণ নিয়ে আমার প্রশ্ন করতে ভালো লাগে যা আপনাকে জানাতে চেয়েছিলাম। আমরা শেষবার ‘দ্য সার্কেল’ সিনেমাটি দেখিয়েছিলাম। যেটা আমরা পরিবেশক থেকে ভাড়া করলাম এটি, মুভিটি ৩৫ মিমি এর উপর এবং আমার কাছে মনে হয় সিনেমাটি অসামান্য। কারণ সিনেমার বিষয়বস্তু, ধরনের সাথে রাজনীতির পূর্ণাঙ্গ সংমিশ্রণ এবং অবাকময় কথা যে, ম্যাক্স অফুলস উদাহরণস্বরূপ ‘লা রোন্দি’ এবং দ্য আরনিং অব মাদামি দে … যেগুলোর শুরুটা ‘দ্য সার্কেল’ এর মতো হলেও এগুলোর বিষয়বস্তু পারস্পরিক সম্পর্কগুলো নিয়ে কিন্তু যদিও ওরকম রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট নয়।
পানাহি: না আমার তা মনে হয় না।
অফস্ক্রিন: তাই ‘দ্য সার্কেল’ সিনেমাটির শিরোনাম কতটা যে গুরুত্বপূর্ণ তা আমাকে অভিহত করে সেই সাথে এর গঠন শৈলী এমনভাবে এগোয় যে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা চরিত্রের অংশ ফুটে উঠে যেখানে একজন ব্যক্তির সাথে আরেকজন ব্যক্তির সংযোজন পাওয়া যায়। এখানে প্রত্যেক নারীরা ফাঁদে আটকিয়েছে যেটা একটা উজ্জল ধারণা। আমি আশ্চর্য যে আপনি ইরানে এরকম একটি সিনেমা তৈরি করলেন।
পানাহি: পূর্বেই ‘দ্য সার্কেল’ নিয়ে আমাদের হালকা কিছু কথা বলছিলাম যে দেখুন যেখান থেকে আলাপ হয়েছিলো ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’ সিনেমায় নিজেকে এটা প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম যে আমি বানাতে পারি তাই আমি সাফল্যের সাথে সিনেমার ফিচারটি ভালোভাবে শেষ করলাম এবং আমার অভিনেতারাও বেশ ভালো করলো। তবে ‘দ্য মিরর’ সিনেমায় আমার নিজেকে প্রতিপন্ন করার প্রতি এত দীর্ঘতম মনোনিবেশ ছিলো না, যেটা শুরুর দিকে ছিলো বরং এর গঠন শৈলীর দিকে মনোযোগ দিয়ে এগোচ্ছিলাম। তাই বলতে গেলে এটা আমার একরকম গতিবিধি এভাবে এগোনোর। সিনেমার মধ্যে একটি চিন্তা সবকিছুকে পরিবর্তন করবে। আবার মনোযোগ খুব বেশি কাজ করছিলো শিশুদের চলচ্চিত্র সজ্জা নিয়ে। শিশুর প্রতি কোমল অনুভূতি আমার ভাল লাগতো, কিন্তু আরো অনেক দূর যেতে চাইলাম। আমি আমার নিজের সেই যুবক বয়সে ফিরে গেলাম যখন খুব পছন্দ করতাম সেই ছোটগল্পগুলো, বিশেষ করে ওই প্রকার গল্পগুলো যেখান থেকে গল্পের শুরু হয় গল্পটা শেষ হয় একই জায়গায় গিয়ে। শুরুতে ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’ চলচ্চিত্রেও ‘বাস্তব সময়’ টাকে ‘চলচ্চিত্র সময়’-এ একইরূপে ধরার চেষ্টার প্রবণতা ছিলো যেখানে সিনেমার দৈর্ঘ্য প্রায়ই গল্পের দৈর্ঘ্যের সমান নেয়া হয়েছিলো। তবে ‘দ্য সার্কেল’-এ সেভাবে তা করা সম্ভব হয়নি যেটির উপাত্ত ছিলো চারজন ভিন্ন বয়সের নারীর গল্প। আসলে চারজন নারীর গল্প এখানে যে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে তার জীবনে একই এটাই পরোক্ষভাবে প্রকাশে চেষ্টা করলাম। গল্পের প্রথমে একজন নারী যে বিয়ে করতে চায়, দ্বিতীয় নারী যার বিয়ে হয়েছিলো সন্তান পেটে, তৃতীয় জন হচ্ছেন একজন বিবাহিত নারী, একজন মা যিনি এসব থেকে নিস্তার পেতে চায়, পথে পথে চলতে থাকে, চতুর্থজন একজন নারী যার ইতিমধ্যে পথে পথে বসবাস এবং যে হয়ে উঠে একজন পতিতা। এই গোটা আবদ্ধ সমাজে তাদের কোথাও পালানোর জায়গা নেই। তাই এই দীর্ঘ গল্পকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এক একজন নারীর কাহিনীকে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে তার তার জীবন পরিস্থিতিকে সিনেমায় দেখাতে চেয়েছিলাম। প্রথম তরুণীকে ক্যামেরায় বেশ ভাবপূর্ণভাবে ধরে রাখা হয়েছিলো, কিন্তু এর পরের জনের উপর ক্যামেরাকে উপরে রেখে ট্রলিতে অনুসরণ করে রাখা হয়েছিলো। এরপর পরের চরিত্রের ক্ষেত্রে আর দিন ছিলো না, তখন রাত। ক্যামেরা তখন স্থির, লেন্সের মনোযোগ একেবারে বিষয়টির উপর। শেষের দিকে ক্যামেরা কাহিনীর চরিত্রের উপর খুব ফোকাসে। সেখানে হালকা শব্দ। ফিল্মটি প্রায় নির্বাক। অল্প আলো এবং অধিক অন্ধকার। বিবাহকে এখানে কিছুটা অন্ত্যষ্টিক্রিয়ার মতো করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে…অনেক নির্মাতারা এগুলোকে একটি আলাদা ভঙ্গিমায় আটকে রাখে, আমি তা করি না। ‘দ্য সার্কেল’ সিনেমাটাকে তৈরি করা এবং এগোনোটা অনেক বেশি জটিল ছিলো। এটা শেষ করার পর আমার মনে হয়েছিলো যে এটা আমার শেষ ফিল্ম। কিন্তু পরে ‘অফসাইড’ সিনেমাটি বানানোর সুযোগ হয়েছিলো। এখানে ধরনটা খুব সরল, আমরা এটা ডকুমেন্টারি স্টাইলে শ্যুট করেছিলাম, ফিল্মের বেশ কিছু অংশ শ্যুট হয় যেখানে একটা ফুটবল খেলা হচ্ছিলো এরকম স্থানে।
অফস্ক্রিন: হা, আমার দেখা ফুটবলের উপর ‘অফসাইড’ অসাধারণ ফিল্ম। এটার কি বাস্তব সময়ে ছিলো?
পানাহি: হ্যাঁ শুরু থেকেই আমার সকল ছবিই ‘বাস্তব সময়ে’ ঠিক ছিলো। দুর্ভাগ্যবশত আমাকে এখন কাজ করার অনুমোদন দেয়া হয়নি। আমি আগেই উল্লেখ করেছিলাম যে আমার একটা দৃশ্যকল্প প্রস্তুত করা ছিলো, যেটা ছিলো পার্সিয়ান ছোট গল্পগুলোর একটা ফ্ল্যাশব্যাক। আমি সবসময় সেখানে ফিরে যাওয়ার স্বপ্নে থাকি এবং কিছু তৈরি করতে থাকি।
অফস্ক্রিন: তবে আপনার ‘পার্সিয়ান কার্পেট’ ছোট কাহিনীতে ‘আন্টায়িং দ্য নট’ হচ্ছে অন্যতম উদাহরণ, একটা আলাদা দীর্ঘ সময়কে একটি শটেই নেয়া হয়েছে। এটা প্রকৃত সময়ের উপযুক্ত উদাহরণ এবং এটা বেশ রাজনৈতিকও।
পানাহি: যখন তারা আমাকে ‘কার্পেট’ এর প্রস্তাব দিয়েছিলো প্রত্যাখ্যাত করেছিলাম। এই ধরনের জড়বাদী প্রয়াস আমার পছন্দ না। যদি আমি চাইতাম ‘কার্পেট’ নিয়ে একটা সুন্দর ছবি বানাতে পারতাম। কিন্তু মার্কেটিং প্রোডাক্টের এইরকম ধারণা আমার ভাল লাগে না। যখন তারা জোরাজুরি করলো আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়লো। আমাদের বাড়িতে একটা কার্পেট ছিলো, তখন বাবার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ, তাই তিনি কার্পেটটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। সবার কাছে আমরা তখন সাধারণের মতো। আর তাই তাদের ‘কার্পেট’ প্রজেক্টটি নিতে সম্মত হলাম এবং ভাবলাম আর কি করতে পারতাম? চিন্তা করলাম যে, একটি একক স্থানে একক সময়ের মধ্যে একটি একক চরিত্রকে নিয়ে এটি করতে হবে। এটা কেবল এক শর্টেই করতে হয়েছে ভালভাবে।
অফস্ক্রিন: বেশ চমৎকার লাগলো কথা বলে, অনেক কিছু শিখলাম এবং আপনি যখন বলছিলেন আমার আবার পরে ‘দ্য সার্কেল’ সিনেমাটি দেখার তাড়না আসে। সিনেমাটি আমার কাছে এখনো পর্যন্ত খুব গভীরতম এবং আপনি পরে সিনেমাটি নিয়ে যা বললেন ওইসব উপযোগ নিয়ে সিনেমাটিকে পড়ে নিব।
পানাহি: (হেসেহেসে) আমরা সব কিছু তো আপনাদের মতো গুরুর কাছ থেকেই শিখি।
অফস্ক্রিন: ধন্যবাদ আপনাকে অনেক এবং আশা রাখি আপনি শীঘ্রই আপনার পরবর্তী সিনেমার কাজে হাত দিবেন।

[** সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে অফস্ক্রীন ম্যাগাজিন ৩০ আগস্ট, মন্ট্রিলে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (দ্যস দু ফিল্ম ফেস্টিবেল) এর ৩৩তম উৎসবে । জাফর পানাহি একজন অসামান্য চলচ্চিত্র নির্মাতা, আমরা মনে করি তিনি একজন শক্তিশালী নির্মাতাও যিনি তার চলচ্চিত্রে প্রকাশ্যে নিগৃহীত নিপীড়িতদের স্থির অবস্থা তুলে ধরেছেন অনায়াসে। তিনি আসলে মন্ট্রিলে পৌঁছালেন ‘ডব্লিউএফএফ’ এর জুরির প্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে, যেহেতু এর পরমুহুর্তে ইরানিয়ান সরকার কর্তৃক তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো প্রেসিডেন্সি নির্বাচনে ‘সবুজ’ প্রদর্শনের বিরুদ্ধের অভিযোগের ভিত্তিতে। তাঁর বেশ কয়েকটা ফিল্মের গঠন অবয়ব প্রকাশ্যে দেখানো হয় এবং তাঁর নিজ দেশের বাইরেও এসব ছবি বেশ সমাদৃত হয়। আমরা পানাহির সাথে আলোচনা করলাম, তাঁর চারটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘দ্যা হোয়াইট বেলুন’, যেটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে ১৯৯৫ সালে ‘শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ছবি’ ক্যামেরা দ’ লাভ করেছিলো, ১৯৯৭ এ লোসারনোতে ‘দ্য মিরর’ মুভিটি দ্য গোল্ডেন লিওপারদ ‘শ্রেষ্ঠ ছবি হিসেবে জিতে নেয়; ২০০০ এ ‘দ্য সার্কেল’ ভেনিসে গোল্ডেন লিওন ‘শ্রেষ্ঠ ছবি হিসেবে জিতে; ২০০৬ সালে বার্লিনে অফসাইড মুভিটি সিলভার বিয়ার (জুরি গ্র্যান্ড পুরস্কার) জিতে নিয়েছিলো। কেবল তাঁর পরিচালিত ‘ক্রিমসন গোল্ড’ সিনেমাটি নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়নি যেটিতে ২০০৩ সালে কানে ‘ইউএন সারটেইন রিজারড বিভাগে’ পানাহিকে জুরি পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়া আমরা তাঁর শর্ট ফিল্ম ‘আন্টায়িং দ্য নট’ এবং ফিচার ‘পার্সিয়ান কার্পেট’ নিয়েও আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পিটার রিস্ট, তিনি কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্ট্রিলে ১৮৮৯ সাল হতে চলচ্চিত্র ইতিহাস এবং নন্দনতত্ত্বের বিষয়ে পড়ান এবং চলচ্চিত্রের উপর লেখালেখি করেন। ]

x