সিদ্ধান্ত হয়, উচ্ছেদ হয় না

চমেক হাসপাতাল।।৮ একরেরও বেশি জমি বেহাত, একবছর পর ফের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আজ ।

রতন বড়ুয়া

সোমবার , ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মোট জমির পরিমাণ ৮০ দশমিক ৮৩৬ একর। এর মধ্যে ৭২ একর জমি হাসপাতালের দখলে থাকলেও আরো ৮ একরেরও বেশি (৮. ৮৩৬ একর) জমি বেহাত হয়ে গেছে। বিশেষ করে চট্টেশ্বরী রোডের পার্শ্ববর্তী গোঁয়াছি বাগান এলাকা ও এর আশপাশের জমিতেই গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ নানা স্থাপনা। কাঁচা, আধা-পাকা বাসা-বাড়ি ও দোকান-পাটের পাশাপাশি বহুতল ভবনও গড়ে তুলেছেন অবৈধ দখলদাররা। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকলেও দখলদারদের হাত থেকে এসব জমি উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি হাসপাতাল প্রশাসন। অবৈধ দখল থেকে এসব জমি উদ্ধারে বেশ কয়বছর ধরে দফায় দফায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায়ও বেহাত হওয়া এসব জমি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সাথে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ ওই সভা পরিচালনা করেন। বিএমএ নেতৃবৃন্দসহ সংশ্ল্লিষ্টরা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। তবে বার বার উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হলেও বেহাত হওয়া জমি অদ্যাবধি উদ্ধার করতে পারেনি হাসপাতাল প্রশাসন। এরইমাঝে এক বছরের মাথায় ফের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ (৯ ডিসেম্বর)। বেলা ১১টায় চমেক হাসপাতালের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সিদ্ধান্ত হলেও বেশ কিছু দুর্বলতার কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ। জানতে চাইলে গতকাল তিনি আজাদীকে বলেন, প্রভাবশালীরাই হাসপাতালের জমি অবৈধ দখল করে আছেন। তাই চাইলেই তাদের উচ্ছেদ করা সহজ নয়। এছাড়া মামলাজনিত কারণেও আমরা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাতে পারছি না। সবমিলিয়ে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংশ্ল্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নামে জমি অধিগ্রহণ করা হলেও এসব জমি এখনো মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নামে নাম জারি করা যায়নি। অদ্যাবধি জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের নামেই রয়েছে এসব জমি। যার কারণে ডকুমেন্টের দিক দিয়েও দুর্বল অবস্থানে হাসপাতাল প্রশাসন। এতে করে উচ্ছেদ কার্যক্রম ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ জায়গা-জমি সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম গতি পাচ্ছে না। জমি থাকলেও দলিল না থাকার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরও। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের যে কয়েকটি মেডিকেলের দলিল নেই তার একটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দলিল আছে জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের কাছে। এখনো চমেক হাসপাতালের নামে নামজারি হয়নি। দলিল না থাকায় অনেক পরিকল্পনা নিলেও বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এসময় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিজস্ব আইনজীবী না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে সিটি মেয়রের সহযোগিত চান তিনি।
প্রসঙ্গত, ব্যবস্থাপনা কমিটির ওই সভায় (৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত) বেহাত হওয়া ভূমি উদ্ধার প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনও। ওই সভায় মেয়র বলেছিলেন, বেদখল হওয়ার ফলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার পরিসর বৃদ্ধির পরিকল্পনা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যে কোনো মূল্যে এসব জায়গা উদ্ধার করে এতদঞ্চলের একমাত্র সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবার পরিধিকে বৃদ্ধি করা হবে। হাসপাতালের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি। হাসপাতালে দালাল প্রতিরোধের বিষয়েও গুরুত্ব দেন সিটি মেয়র।
উচ্ছেদ কার্যক্রম বা জায়গা-জমি সংক্রান্ত কাজে গতি আনতে হলে আগে জমির দলিলপত্র ঠিক করার বিকল্প নেই বলে মনে করেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদও। সোমবারের (আজ) সভায়ও এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানান হাসপাতাল পরিচালক।

x