সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব নয়, জনস্বার্থে সিটি নির্বাচন স্থগিত করা দরকার

শনিবার , ২১ মার্চ, ২০২০ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ
69

করোনায় আতঙ্কে সারা বিশ্ব। বাংলাদেশেও বেড়ে চলেছে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বৈশ্বিক অর্থনীতি আজ মারাত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতির চাকা চলছে নেতিবাচকভাবে। আগেই বন্ধ হয়ে গেছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কক্সবাজার পতেঙ্গাসহ সব পর্যটন এলাকাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ওপর বিধি নিষেধ আরোপিত হয়েছে। ক্লাব-কমিউনিটি সেন্টারে বিয়েসাদীর অনুষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধের আওতায় আনা হয়েছে কোনো কোনো হোটেল রেস্তোরাঁও। বিভিন্ন জেলায় গণপরিবহন পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে বাসায় অজু করে ও সুন্নত নামাজ পড়ে কেবল ফরজ নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যেতে মুসল্লিদের আহ্বান জানানো হয়েছে। নফল নামাজও ঘরে পড়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ জনসমাগম ঘটে এমন সব ধরনের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে। এটি বিশ্বের মানব জাতির জন্য বড় ধরনের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের দিন কাটছে এক অজানা শঙ্কায়। জনমনে তৈরি হয়েছে এক ভীতিকর পরিস্থিতি।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। সব জেনে শুনে বুঝে নির্বাচন কমিশন এখনো পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। মানুষের উদ্বেগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করে, তাঁদের মতামতের প্রতি তোয়াক্কা না করে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনড় থাকা এক ধরনের গোঁয়ার্তুমি বলে উল্লেখ করেছেন নগরবাসীর কেউ কেউ। গতকাল দৈনিক আজাদীতে ‘করোনা পরিস্থিতিতে ভোট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, এ ঝুঁকির দায় কে নেবে, প্রশ্ন নগরবাসীর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।এতে বলা হয়েছে, জনসাধারণকে রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে এত এত উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্বাচন কমিশনের একটি সিদ্ধান্তে যারপরনাই ক্ষুব্ধ চট্টগ্রামবাসী। … জনসমাগম এড়াতে সতর্কতা হিসেবে জনসাধারণকে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে। কিন্তু নির্বাচনী গণ-সংযোগের কারণে নেতা-কর্মীসহ প্রার্থী তো বটেই, করোনা ঝুঁকিতে জনসাধারণও। এ নিয়ে শুরু থেকেই সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বিও। তিনি বরাবরই বলে আসছেন- যেখানেই জনসমাগম, সেখানেই করোনার উচ্চ ঝুঁকি। এই ঝুঁকি এড়াতে দলবলসহ প্রচারণার পরিবর্তে প্রার্থীদের ডিজিটাল প্রচারণায় মনোযোগী হতে আহ্বান জানান। একই সাথে সভা-সমাবেশসহ যাবতীয় জনসমাগম থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।’
চারদিকে যখন ব্যাপক সমালোচনা হয়, তখন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও প্রচারণায় সভা-সমাবেশ না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দেশ দিলে কি হয়? নির্বাচন মানে তো ব্যাপক গণ-সংযোগ, মিছিল, সভা-সমাবেশ। মানুষের সঙ্গে প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থকদের করমর্দন- কোলাকুলি। এমন সংকটকালেও সংযোগ বৃদ্ধির তৎপরতা থেমে থাকে না। মানা করলে কি চলে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘একজন সংক্রমিত ব্যক্তি যদি প্রচারণার সময় অংশ নেয়, তবে সেটি বহুগুণ হারে ছড়িয়ে পড়বে। সেরকম হলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সহজেই অনুমেয়।’
চারদিকে নির্বাচন বন্ধের দাবি উঠলেও এতোদিন নির্বাচন কমিশনার নির্বিকার ছিলেন। এখন বলছেন, চসিক নির্বাচন নিয়ে ২১ মার্চ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সিদ্ধান্ত নিতে এতো গড়িমসি কেন? এতো বিলম্ব কেন আমাদের বোধগম্য নয়। আমাদের বুঝতে হবে যে নির্বাচন নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে এখন আর আগের মতো উচ্ছ্বাস ও আগ্রহ নেই। নির্বাচন কেন্দ্রে মানুষকে নিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। এমন ভীতিকর পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন যদি কারো কোনো কথা না শুনে নির্বাচন কার্যক্রম চালিয়ে যান, সেখানে দেখা যাবে ভোটার শূন্য নির্বাচন প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে সবাইকে। এমন নির্বাচন অনুষ্ঠান থেকে বিরত থেকে সব মহলের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা দরকার বলে আমরা মনে করি। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়াকিবহাল হলো সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্বাচনী সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধে কেন চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে না- তা বোধগম্য নয়। মোট কথা, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে নির্বাচন স্থগিত করা দরকার।