সিগন্যালের পাশে ঠিকাদারের বালির স্তুপের কারণে দুর্ঘটনা

জিজ্ঞাসাবাদে তূর্ণা নিশীথার চালক-সহকারী

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
387

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা মন্দবাগে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গুলো ঘটনার পরপরই তাদের তদন্ত কাজ শুরু করেছে। রেল ভবনের রেলওয়ের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি ও পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে গঠিত দুই কমিটির সদস্যরা গত দুইদিনে তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন ট্রেনের চালক-সহকারী চালক-গার্ডসহ ট্রেন দুটিতে দায়িত্বরত সব স্টাফদের সাক্ষাতকার (জিজ্ঞেসাবাদ) নিয়েছেন। এ ঘটনার বিষয়ে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই পূর্বাঞ্চলের সিআরবিতে প্রায় ৪০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আরো বেশজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তারা। এদিকে গতকাল বিকেলে তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের চালক (লোকোমাস্টার) তাহের উদ্দিন, সহকারী অপু দে ও গার্ড (পরিচালক) আব্দুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত কমিটি। গতকাল বুধবার বিকেলে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সদর দফতর সিআরবিতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নাজমুল ইসলাম বলেন, ওই তিনজনকে আজকে (গতকাল) ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। বিকেলে সিআরবিতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া দুই ট্রেনের সংশ্লিষ্টদেরও বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
তূর্ণা নিশীথার লোকোমাস্টার তাহের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু-দে ঘুমানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত কমিটির কাছে বলেছেন, কুমিল্লা ও আখাউড়া স্টেশনের মধ্যবর্তী আউটার বা প্রথম
সিগন্যালটি না দেখার কারণে তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এঙপ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রথম সিগন্যালের পাশে রেলওয়ের উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার বিশাল একটি বালির স্তুপ জড়ো করে রাখায় সিগন্যালটি তারা মিস করেন বলে দাবি করেছেন।
একটি স্টেশনে বা ক্রস লাইনে ঢোকার আগে আউটার ১ম সিগন্যাল, হোম, স্টাটারস ও ইমার্জিং সিগন্যাল নামের চারটি সিগন্যাল থাকে। কিন্তু সোমবার গভীর রাতে মন্দবাগ স্টেশনে ঢোকার আগে আউটার সিগন্যালটি মিস করেন চালক ও সহকারী। পরে হোম সিগন্যাল দেখে তারা সেটিকেই প্রথম সিগন্যাল বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেন।
ঘুমিয়ে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে তূর্ণা নিশীথার চালক ও সহকারী তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে বলেছেন, কন্ট্রোল থেকে উদয়নকে ক্রসিং দেয়ার কথা তাদের জানানো হয়নি। ঘন কুয়াশায় ফগ সিগন্যাল দিতে হয়। সেটিও ওই সময় দেয়া হয়নি। কন্ট্রোল থেকে কোনো ধরনের তথ্য তূর্ণাকে দেয়া হয়নি। এতে করে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও তারা দাবি করেন।
রেলওয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) মো. মিজানুর রহমান আজাদীকে জানান, আমাদের তদন্ত কমিটি ঘটনার পরপরই মঙ্গলবার রাতে কমলাপুর রেল স্টেশনে তূর্ণা নিশীথা এবং উদয়নের চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের কাছ থেকে আমরা পৃথকভাবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেয়েছি। ঘটনার পরপরই তূর্ণার চালক পালিয়ে গেলে তাকে পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ তিনি আমাদের কাছে এসেছেন জবাব দেয়ার জন্য। দুর্ঘটনার পর তিনি ঐ স্থান থেকে সরে গিয়ে ছিলেন। ঐখানে থাকলে তখন কি অবস্থা হতো তা আপনারা বুঝতে পারছেন তো! তখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন-তাই সরে গিয়েছিলেন। শীঘ্রই তদন্তের রিপোর্ট দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

x