সাড়ে ৭ মাস পর ৫ জনকে কারাগারে প্রেরণ

ধর্ষণের পর নারীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনা

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ

ধর্ষণের পর এক নারীকে ফাঁসানো হল ইয়াবার মামলায়। তার কাছ থেকে দুই হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার দেখিয়ে সাজানো হল মিথ্যা মামলা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার প্রায় সাড়ে ৭ মাস পর ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক মঈন উদ্দীন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো পাঁচ আসামি হলেন সীতাকুণ্ডের কুমিরার আলী শাহ, তাঁর সহযোগী কামাল উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, ভুক্তভোগী নারীর আত্মীয় নাছির উদ্দিন ও মোহাম্মদ রাকিব।
আদালত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৯ আগস্ট নগরের হালিশহরে বাসায় ঢুকে এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাঁকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে নির্জন একটি স্থানে ফেলে রাখা হয়। সেখান থেকে পুলিশ ওই নারীকে দুই হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর পুলিশের করা উল্টো মাদক মামলায় কারাগারে যান তিনি। স্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে আদালতে মামলা করেন তার স্বামী। এরপর আদালতের আদেশে সম্পন্ন করা তদন্তে বেরিয়ে আসে ঘটনার আসল রহস্য।
তদন্ত সংস্থা ডিবির প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে দুই পুলিশ সদস্যসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে গত ২০ মার্চ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল উল্লেখিত আসামিরা আদালতে এসে জামিনের আবেদন জানান। আদালতের বিচারক এ আবেদন অগ্রাহ্য করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
আদালতের আদেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্তে সীতাকুণ্ড থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসানের নাম উঠে আসে। আদালত তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আমলে নেয়নি। একই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন আদালতের পরোয়ানা মাথায় নিয়ে।
এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ র সরকারি কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম সেন্টু জানান, তদন্তের ১২ আসামির মধ্যে সাতজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। এদিকে জামিনের শুনানি শেষে আদালত কোলে ছোট শিশু থাকায় রোকেয়া বেগম ও শামসুন নাহার নামে দুই নারীকে জামিন দিয়েছেন। অন্যদিকে আলী শাহসহ বাকি পাঁচজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

x